আগামীকাল পবিত্র শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা: সকল সত্তা সুখী হোক

আগামীকাল বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রধানতম ধর্মীয় অনুষ্ঠান শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা। ত্রিস্মৃতি বিজড়িত এই পুণ্যতিথিতে গৌতম বুদ্ধের জন্ম, বুদ্ধত্ব লাভ ও মহাপরিনির্বাণ ঘটেছিল। এখন থেকে আড়াই হাজারেরও বেশি বছর আগে বর্তমান নেপালের অন্তর্গত কপিলবাস্তু রাজ্যের শাক্যবংশীয় রাজা শুদ্বোধনের ঔরসে রানী মায়াদেবীর গর্ভে লুম্বিনী কাননে সিদ্ধার্থ গৌতমের জন্ম হয়। রাজপুত্র সিদ্ধার্থ মানুষের দুঃখে বেদনার্ত হয়ে মুক্তির উপায় খুঁজতে রাজপ্রাসাদ ছেড়ে বেরিয়ে পড়েছিলেন সত্যের সন্ধানে। বিভিন্ন স্থানে পরিভ্রমনের পর অবশেষে ভারতের বিহার রাজ্যের গয়ার ফল্গু নদীর তীরে অশ্বত্থ গাছের নিচে বজ্রাসনে  বসে কঠোর সাধনায় বসে হন বুদ্ধত্ব। বুদ্ধত্ব পরবর্তী দীর্ঘ ৪৫ বছর ধর্ম প্রচার করে কুশিনারা মল্লদের শালবনে পরিনির্বাপিত হন। বুদ্ধের বাণী ও শিক্ষা স্বর্গের আকর্ষণ ও নরকের ভীতি প্রদর্শন ছাড়াই মানব জাতিকে মৈত্রী, কল্যাণ ও মুক্তির দিশা দেখিয়ে আসছে।

বুদ্ধের দর্শন যে হিংসাবিক্ষুব্ধ বিশ্বে শান্তির বারিসিঞ্চন করতে পারে—এ সত্য আজ মেনে নিয়েছেন অনেকেই। এরই আলোকে জাতিসংঘ বুদ্ধ পূর্ণিমাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বেশখ ডে’ (বৈশাখ দিবস) ঘোষণা করে। এ বছরে বেশখ ডে’ উদ্‌যাপন হবে বৌদ্ধ প্রতিরুপ দেশ শ্রীলংকায় অনুষ্ঠিত হবে।

বৌদ্ধ ধর্ম কর্মবাদী ধর্ম। প্রত্যেক মানুষ তার কাজ অনুসারে ফল পাবে। কর্মসাধনার মধ্য দিয়ে প্রত্যেক মানুষের পক্ষে বুদ্ধত্ব অর্জন ও নির্বাণ লাভ সম্ভব। তথাগত বুদ্ধ মানুষকে মৈত্রী ভাবনায় ভাবিত হতে বলেছেন; পরের দুঃখে দুঃখী হয়ে, অপরের সুখে সুখী হয়ে উপেক্ষার মনোভাব নিয়ে জীবনযাপনের উপদেশ দিয়েছেন। বিশ্বচরাচরে সকল সত্তা যেন সুখী হয়, এটাই ছিল বুদ্ধের ঐকান্তিক কামনা। বুদ্ধ তার শিক্ষা ও আদর্শ বিস্তারের জন্য গড়ে তুলেছিলেন ভিক্ষু সংঘ। প্রজ্ঞা, ন্যায় ও সংঘশক্তির প্রতি শর্তহীন আনুগত্যের মধ্য দিয়ে বুদ্ধের শিক্ষা আজও বিশ্বের দেশে দেশে সক্রিয় ও প্রাসঙ্গিক। ভারতে বৌদ্ধ ধর্মের সূচনা ও বিকাশ ঘটলেও নানান ঐতিহাসিক ঘাত-প্রতিঘাতে এই মহাদেশ থেকে বৌদ্ধ ধর্ম প্রায় বিলীন হয়ে গেছে।

তবুও আমাদের স্বীকার করতে হবে, বৌদ্ধধর্মের প্রতি আজও চিন্তাশীল বস্তবাদী পন্ডিত- মনীষিদের আকর্ষন এখনো এতটুকু কমেনি। তা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই বিশ্বব্যাপি বুদ্ধচর্চার বিরাম নেই।

বাংলাদেশের বৌদ্ধরা আগামীকাল যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদায় শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা উদযাপন করবে; বুদ্ধের প্রীতিময় আদর্শে নিজেদের সিক্ত করবে। তাদের এ আনন্দে শামিল হবেন দেশের অন্য সম্প্রদায়ের মানুষও।

আগামীকাল সরকারি ছুটির দিন। দেশের প্রতিটি বৌদ্ধ বিহারে বু্দ্ধ পূর্ণিমার বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালার মধ্য দিয়ে পালিত হবে।

সামাজিক মাধ্যম ফেইসবুকে থেকে এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...

Ads

Recommended For You

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!