হোটেল-মোটেল পাহাড় কাটা ভূমি দখল ইট ভাটার কারনে পাহাড়ে ভূমি ধস- সমাজতান্ত্রিক দলের মানববন্ধন ও স্মারকলিপি পেশ

সুপ্রিয় চাকমা শুভ, রাঙামাটি প্রতিনিধি :
 
পাহাড় কাটা, ভূমি দখল, ইট ভাটার কারনে পাহাড়ে ভূমি ধস হচ্ছে। ২২ শে জুন সকাল ১১ ঘটিকার সময়ে রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সামনে রাঙামাটি জেলা শাখার বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) মানব বন্ধন, সমাবেশ ও জেলা প্রশাসক বরাবরে স্মারকলিপি পেশ কর্মসূচিতে বক্তারা এ কথা বলেন।
রাঙামাটিতে ১৩ই জুন ভূমি ধসে ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবার গুলোকে ক্ষতি পূরণ, সরকারি উদ্যোগে দ্রুত নিরাপদ স্থানে পুর্নবাসন সহ ক্ষতি পূরণে তিন দফা দাবিতে মানববন্ধন ও জেলা প্রশাসক বরাবরে স্মারকলিপি পেশ করেছে রাঙামাটি জেলা শাখার বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী)।
বাসদ (র্মাকসবাদী) রাঙ্গামাটি জেলা শাখার নেতা কমরেড কলিন চাকমার সভাপতিত্বে ও মধুলাল চাকমার পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক মুক্তা ভট্টাচার্য, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট চট্টগ্রাম জেলার আহবায়ক ফজলে রাব্বী ও রাঙ্গামাটি জেলার সদস্য সুনীল কান্তি চাকমা।
মানববন্ধনে নেতৃবৃন্দ বক্তারা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে পাহাড় ধসে এ অঞ্চলের সর্বস্তরের মানুষ ভয়াবহ পরিস্থিতি ধৈর্য্যের সাথে মোকাবেলা করছে। পাহাড় ধসে মারা গেছে শতাধিক, এখনো উদ্ধার করা যায়নি অনেক লাশ। শত শত মানুষ আজ গৃহহীন অবস্থায় অমানবিক জীবনযাপন করছে। ফসল, ফলের বাগান ধ্বংসের সাথে সাথে শত শত মানুষের স্বপ্নের মৃত্যু হয়েছে। পাহাড় ধসের এ ভয়াবহ ঘটনাকে নিছক প্রাকৃতিক বিপর্যয় নয়। বিষয়টির সাথে রাষ্ট্রীয় নীতি ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি গভীরভাবে যুক্ত। ‘কেন বিপর্যয়’ ঘটলো তার কার্যকারণ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে যে দীর্ঘ সময় ধরে পাহাড় ব্যবস্থাপনা নিয়ে চলেছে অনিয়ম। পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠী জল বিদ্যুতের জন্য পাহাড়ি জনগোষ্ঠীকে উদ্বাস্তু করেছিল। সেসময় উপত্যকার মানুষ বাধ্য হয়ে উঠে এসেছে পাহাড়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পাহাড়ের উন্নয়ন পরিকল্পনা কার্যক্রমে ভূ-তাত্ত্বিক ও প্ররিবেশগত বিষয়গুলো উপেক্ষা করা হয়েছে বারবার। ফলে বনভূমি ও পানির উৎসগুলো ধ্বংস হয়েছে। রাষ্ট্রীয় অবহেলা এবং প্রশাসনিক দূর্বলতার সুযোগে এক শ্রেণির প্রভাবশালী মানুষ এ পাহাড়কে নির্বিচারে ব্যবহার করেছে। পাহাড় কাটা , ভূমি দখল, মাটি বিক্রি, ইট ভাটা, বসতিসহ, হোটেল মোটেল ইত্যাদি স্থাপনা করেছে ব্যবসায়িক স্বার্থে। প্রাকৃতিক বন ধ্বংস করে বাণিজ্যিক বনায়ণ করা হয়েছে। ফলে এ সমস্ত কারণে পাহাড়ের সামগ্রীক ভারসাম্য হুমকিরমুখে পতিত হয়েছে।
বক্তরা আরও বলেন, বিশেষজ্ঞদের মতে, পাহাড়ে প্রাকৃতিক বন সংরক্ষণ সহ পাহাড়ের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে কোন ইট ভাটার অনুমোধন না দেওয়া ও ৫ কিলোমিটারের মধ্যে আবাসন প্রকল্পের অনুমোদন নিষিদ্ধ করা হয়। কিন্ত সব ধরনের আইন অমান্য করে প্রশাসনের ছত্রছায়ায় চলছে ক্রমাগত পাহাড় ও পরিবেশ ধ্বংসের আয়োজন। তাছাড়া এই ঘটনা একাধারে মানবিক, প্রাকৃতিক ও রাজনৈতিক বিপর্যয়। ফলশ্রুতিতে আমরা আজকে এতোবড় মানবিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছি। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবার গুলোকে ক্ষতি পূরণসহ সরকারি উদ্যোগে দ্রুত নিরাপদ স্থানে পুর্নবাসন করার দাবি জানান।
সামাজিক মাধ্যম ফেইসবুকে থেকে এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...

Ads

Recommended For You

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!