সীতাকুণ্ডে অজ্ঞাত রোগে ৯ শিশুর মৃত্যু

নির্দেশ বড়ুয়া, সীতাকুন্ড : 

সীতাকুন্ড উপজেলার দুর্গম মধ্যম সোনাইছড়ি ত্রিপুরা পাড়ায় অজ্ঞাত রোগে ৯ শিশু মারা গেছে। এরমধ্যে বুধবার ৫ জন এবং আগের তিনদিনে ৪ জন মারা যায়। বুধবার জেলা সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে একদল চিকিৎসক সেখানে গিয়ে চিকিৎসা দেন।
নিহতদের নাম হৃদয় ত্রিপুরা (৮), কানাই ত্রিপুরা (৫), জানাইয়া ত্রিপুরা (৭), পক্ষি ত্রিপুরা (৫), রমাবতী ত্রিপুরা (৮), তকি ত্রিপুরা (১২), কসমরায় ত্রিপুরা (৩), রূপালী ত্রিপুরা (৩) ও কৃষান ত্রিপুরা (২)। এরমধ্যে কানাই ও জানাইয়া সহোদর।
 
অসুস্থদের চট্টগ্রাম মেডিক্যাল (চমেক) হাসপাতাল ও চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী আমাদের সময়কে বলেন, গত চারদিনে মিলে মোট ৯ জন রোগী মারা গেছেন। আরও ৪৩ জন অসুস্থ হয়েছেন। এরমধ্যে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ১২ জন এবং অন্যদের জেনারেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এরমধ্যে চমেক হাসপাতালের একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
এটি কী রোগ জানতে চাইলে তিনি বলেন, জ্বর হয়, গায়ে র‌্যাশ ওঠে, বমি হয়। এরপর মারা যায়। তাৎক্ষনিকভাবে কী রোগ তা বলা যাচ্ছে না। আমরা নমুনা সংগ্রহ করেছি। পাশাপাশি ঢাকা থেকেও একটি দল আসছে। পরীক্ষা নীরিক্ষা করে বিষয়টি জানা যাবে। আমরা আপাতত অজ্ঞাত রোগ হিসেবে চিকিৎসা দিচ্ছি। তিনি বলেন, এই রোগের বিস্তার রোধে আপাতত শিশুদের কয়েকদিন স্কুলে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। আর যাদেরই জ্বর দেখা দেবে, তাদের সঙ্গে সঙ্গে ফৌজদারহাট হাসপাতালে পাঠাতে বলা হয়েছে।
এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ১ জুলাই শনিবার রাতে স্থানীয় কয়েকজন ত্রিপুরা যুবক পাশের পাহাড়ে জাল দিয়ে ফাঁদ পাতে। রাতে সেখানে একটি বন্য ছাগল আটকে মারা যায়। পরদিন ওই মরা ছাগলটি এনে তারা মাংস ভাগ করে ঘরে নিয়ে খায়। মূলত যেসব পরিবারের সদস্যরা ওই ছাগলের মাংস খেয়েছে, তারাই এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে। এরমধ্যে বয়স্করা বেঁচে গেলেও শিশুরা মারা যায়। তবে মৃত্যুর সংখ্যা ঠিক কতো তা ওই গ্রামের লোকজন ঠিকমতো বলতে পারেনি। রোগের প্রাদুর্ভাব দেখার পর থেকে তারা এটি গোপন করে। কেউ মারা গেলে গোপনে তাকে মাটিচাপা দেয়।
দক্ষিণ সোনাইছড়ির ত্রিপুরা পাহাড়টি অপেক্ষাকৃত দুর্গম। সেখানে ৩০টি পরিবার বসবাস করে। তাদের সবারই পেশা কৃষিকাজ। তারা হিন্দু ধর্মাবলম্বী।
আক্রান্ত একাধিক পরিবারের সদস্যের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২ জুলাই মাংস খেলেও মূলত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয় ৫ জুলাই থেকে। শরীরে প্রথমে র‌্যাশ দেখা দেয়। এরপর জ্বর হয়। পরে বমি হতে থাকে। রোগটি দেখার পর স্থানীয় পল্লী চিকিৎসকদের কাছ থেকে চিকিৎসা নেয় তারা। কিন্তু তাতে রোগ সারেনি। একে একে শিশুরা মারা যেতে থাকে। বিষয়টি তারা গোপন রাখে। তবে গত দুইদিন ধরে রাত হলেই ত্রিপুরা পাড়ার বাসিন্দারা আগুন নিয়ে গ্রামের চারপাশে দৌঁড়াদৌড়ি করলে তা কিছু বাঙালির চোখে পড়ে। তখন বিষয়টি নিয়ে আলাপ হয়। একপর্যায়ে সেখানে লোক পাঠালে মৃত্যুর খবরটি ছড়িয়ে পড়ে।
ত্রিপুরা গ্রামের মানুষের বিশ্বাস, বন থেকে ছাগল মেরে খাওয়ায় দেবতা ক্ষুব্ধ হয়ে অভিশাপ দিয়েছেন। তাই লোক মারা যাচ্ছে। এজন্য আগুন দিয়ে গ্রামটি পবিত্র করার চেষ্টা করছিল তারা।
তবে সিভিল সার্জন বলেছেন, ছাগলের মাংস খেয়েছে বলেই রোগটি হয়েছে, এমনটি বলা যাবে না। পরীক্ষা নীরিক্ষার পর বিস্তারিত জানা যাবে।
সামাজিক মাধ্যম ফেইসবুকে থেকে এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...

Ads

Recommended For You

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!