সাজেকে পার্বত্য ভিক্ষু সংঘের ত্রাণ বিতরণ; সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা

রাঙ্গামাটির সাজেক, বঙ্গলতলি, মারিশ্যা, বাঘাইছড়ি ও সারোয়াতলি এই পাঁচ ইউনিয়নের দুর্গম গ্রামগুলোতে খাদ্যসংকট চলছে। এই খাদ্যসংকটে উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের দুর্গম তিন গ্রামের ৫২টি পরিবারের মাঝে গত ৭ মে, রোববার ত্রাণ সহায়তা দেয় পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ। তিন গ্রাম হলো শিজক ছড়া পাড়া, ৮ নম্বর পাড়া ও কেজিং পাড়া।

পার্বত্য ভিক্ষু সংঘের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুগত লংকার স্থবির, পার্বত্য ভিক্ষু সংঘের দীঘিনালা উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক লোক মিত্র ভিক্ষু, বাঘাইছড়ির শিজক কলেজের প্রভাষক শীল ভদ্র থের, সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য দেব জ্যোতি চাকমা প্রমুখ উপস্থিত থেকে এই ত্রাণ সহায়তা বিতরণের সময় পরিচালনা করে।

পার্বত্য ভিক্ষু সংঘের মানব সেবার এই কর্মসূচী সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পর থেকে ব্যাপক প্রশংসা জানিয়ে মন্তব্য করছে সাধারণ সামাজিক মাধ্যম ব্যাবহারকীসহ সকল স্থরের মানুষ।

ফেইসবুক ব্যবহারকারী Pallab Rangei মন্তব্য করেছেন, দিন দুয়েক আগে facebook এ সাজেকের ত্রাণ তৎপরতায় বৌদ্ধ ভিক্ষুদের ছবি দেখে প্রথমে বিশ্বাস হয়নি। ভেবেছি হয়তো থাইল্যান্ড বা বার্মার কোন ছবি এখানে ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু না! পার্বত্য ভিক্ষু সঙ্ঘের পূজনীয় ভান্তেরা সত্যি সত্যি ত্রাণ সামগ্রীর বহর নিয়ে হাজির হয়েছিলেন সাজেকে। নিজেরাই ত্রাণ সামগ্রীর বস্তা গাড়িতে তুলেছেন, নামিয়েছেন এবং নিজ হাতে বিতরণ করেছেন অভাবী মানুষদের মাঝে। বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রামের অনেক নেতিবাচক খবরের ভিড়ে মনে হয়েছে এগুলো অনেক ইতিবাচক ছবি। দায়ক-দায়িকা বা গৃহীদের এই দূর্দিনে কেবল মাত্র ধর্মীয় মন্ত্র না জপে, শীল পালনের উপদেশ না দিয়ে শ্রদ্ধেয় ভিক্ষু সংঘ মানবতার যে জয়গান গেয়েছেন তাতে অন্য সকলের ‘সম্যক দৃষ্টি’ উৎপন্ন হবে বলে আমার বিশ্বাস।

Tapas Chakma একজন মন্তব্য করেছেন, জয় হোক মানবতা, আমাদের পা্র্বত্য ভিক্ষুরা কতো না সংগ্রাম করে, দেখুন। গর্ব করি পা্র্বত্যা ভিক্ষুদের নিয়ে।

Jummo Chakma Poran Eyan, akkan mohot uddok,parbatto vikko songore শ্রদ্দা ও ধন্যবাদ জানাচ্চি। পার্বত্য চট্টগ্রামে পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ বসে খাওয়ার ভিক্ষু-সংঘ নয়। পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল সমস্যাতে অগ্রনীভুমিকা রেখেছেন। সাজেকে দুর্ভিক্ষ কবলিত এলাকায় তারাও মাঠে নেমেছেন।

সেইজন্যে বলবো, পার্বত্য চট্টগ্রামে পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ এক ঐতিহাসিক নাম; পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ এক ত্যাগের নাম; পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ এক মানবসেবার নাম; পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ শিক্ষা দানের নাম; পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ আলোর প্রতীক; পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ এক সংগ্রামের প্রতীক এবং পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ জুম্মদের দুর্দিনের বন্ধু।

Gimit Chakma, মানুষ মানুষের জন্য, সেখানে দায়ক অথবা ভিক্ষুর কোন প্রশ্নই উঠেনা, মানবতার সাহায্যের যে উদ্যেগ গ্রহন করেছে তাই পার্বত্য ভিক্ষু সংঘের প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা।

Malabika Sheela, পার্বত্য ভিক্ষু সংঘের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা আর শুভকামনা।

Arijeet Chakma,  মানব কল্যাণে পার্বত্য ভিক্ষু সংঘের যে অবদান সত্যি প্রসংশনীয়।

Sunayon Dewan, দায়ক দায়িকাদের যেমনি ভিক্ষু সংঘের প্রতি দায়বদ্ধ ঠিক তদ্রুপ সংঘেরও দায়ক দায়িকাদের প্রতি সমান ভাবে দায়বদ্ধতা আছে। পাবর্ত্য ভিক্ষু সংঘের তা উপলদ্ধি হওয়ায় সাধুবাদ জানাই।

Alomoy Tanchangya, বন্দনা ভান্তে, পার্বত্য অঞ্চলে বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহন ও প্রচারে সবচেয়ে বেশি অগ্রণী ভুমিকা রেখেছিল পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ। আর আমরাই(জুম্মরা) হলাম বেঈমান জাতি তা স্বীকার করি না।বরং তারাতারি নির্বান যাবার জন্য ধর্মকে ভাগ করলাম, অথচ বুদ্ধ দেশিত ও বারণ করেছিলেন বৌদ্ধ ধর্মে ৫ টি লঘু পাপের মধে সংঘ ভেদ অন্যতম।

Rupen Chakma Chakma, পার্বত্য বৌদ্ধ ভিক্ষুসংঘের এই মানবতার ধর্ম দেখে বুঝা যায় যে তারা নিজের অবহেলিত জুম্ম পাহাড়িদের জন্য অনেক কিছু ভাবেন এবং কাজ করেই যাচ্চে শুধু আজ নয় অতীতেও করে আচ্ছেন বর্তমানেও করে যাচ্চে ভবিষ্যতেও করে যাবে এই আমার ধারনা।।। জয় হোক মানবতার ধর্ম।।জয় হোক পার্বত্য বৌদ্ধ ভিক্ষুসংঘের।।।

চিত্তো থেঙা পার্বত্য ভিক্ষু সংঘের জয় হোক। মানবতাই ধর্ম। শুধু ধ্যানী/ জ্ঞানী সেজে মানুষের চরম বিপদের মূহুর্তে এগিয়ে না আসলে বুদ্ধের মানবতাবাদী ধর্মকে দূরে ঠেলে দেওয়ার মত দেখায়। মানুষ বেঁচে না থাকলে ধর্ম ও থাকবেনা। তাই আপনাদের কে মৈত্রীপূর্ণ কৃতজ্ঞতাবশে আবদ্ধ করার অার্জি জানাচ্ছি।

Ven Jyotisar Bhikkhu, আত্ম মানবতা সেবা করায় গুনত্তম পার্বত্য ভিক্ষু সংঘের কাজ। জয় হোক পার্বত্য ভিক্ষু সংঘের

Armin Siddiky Sarker,  ভান্তে দের কে আমার সম্মানি সেলুট. আমাদের বাঙ্গালিদের একটা বদ অভ্যাস সেটা হচ্ছে পরশ্রিকাতরতা অর্থাত অন্যেরটা দেখে নিজেরা কেদে মরা.

আমি আমার নিজের দেশের সকল ধর্ম বর্নের মানুষকে সম্মান করি ও ভালোবাসি ও তাদের সাথে নিজেকে মিলিয়ে নিতে চষ্টা করি.

মানুষকে আপন করতে হয় প্রেম ভালোবাসা দিয়ে হিংসা বিদ্বষ দিয়ে নয়. গৌতম বুদ্ধের শিক্ষা অহিঃসা পরম ধর্ম যা অনুসরন করলে ইহজগৎ ও পরজগৎ এ নির্বান লাভ হয়, আমার ধর্ম সহ সকল ধর্মই একই কথা বলে.

কিছু অযাচিত মুর্খ লোকের কথায় কান দিবেন না, তাতে দেশের ও দশের কিছু আসে যায় না.

Manab Jyoti,  ঠিক একই ভাবে আগামী দিনেও যে কোন জায়গায়,যে কোন দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায়,গরীব মনুষের পাশে পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ থাকবেন আশা করছি।জয় হউক মানবতার।সাধু সাধু সাধু।

Arijeet Chakma, ভান্তে আপনাদের উদ্যোগকে শ্রদ্ধাভরে সাধুবাদ জানাই। মানব কল্যাণে বৌদ্ধধর্ম। আপনারা আত্ম হিত ও পরহিতের জন্য যে কাজ করে যাচ্ছেন তা সত্যি প্রসংশনীয়।

Sunentu Chakma Chege, এটাই বৌদ্ধ ধর্মের নীতি!!! কুটিরে সাধু সেজে বিলাসী জীবন ধারণ করে উপদেশ দেয়ার চেয়ে এটাই উত্তম। খুব ভাললাগতেছে দেখে। সকল বৌদ্ধ ভিক্ষুদের শ্রম এবং চেষ্টা যদি মানবতার কাজে লাগানো যেতো তাহলে আরও ধর্মের প্রসার হতো।

এছাড়াও হাজার হাজার মন্তব্য বৌদ্ধ রীতি ‘সাধু, সাধু, সাধু” তে সীমাবদ্ধ থাকলেও কেহ কেহ পার্বত্য ভিক্ষু সংঘের এই উদ্যোগের প্রশংসা জানিয়ে দীর্ঘ স্ট্যাটাসও প্রকাশ করেছে। তার মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র Prakat Karbari (Prakat Chakma)’র স্ট্যাটাসটি পড়ুন এখানে:  https://web.facebook.com/prakat.chakma/posts/1507519125939239

সামাজিক মাধ্যম ফেইসবুকে থেকে এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...

Ads

Recommended For You

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!