শুটিংয়ে স্বর্ণ জয়ী রাঙ্গামাটির কন্যা তুরিন দেওয়ান

রাঙ্গামাটি জেলা শহরের মেয়ে তুরিন দেওয়ান।এবারের জাতীয় শুটিংয়ে জয়ী রাঙ্গামাটির এর কন্যা গড়েছেন নতুন রেকর্ড। স্বপ্ন দেখেন এশিয়ান গেমস ও অলিম্পিকে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করার। আত্মবিশ্বাসী তুরিন দেওয়ান মনে করেন, একটু সহযোগিতা পেলে তিনি নিজের লক্ষ্য পূরণ করতে পারবেন।

২০১৩ সালে বিকেএসপিতে ভর্তি হতে এখন শুটিংই তাঁর ধ্যানজ্ঞান। বুলেট-বন্দুক তাঁর ভালোবাসা।

শুটিংয়ে আসার ছয় বছরের মাথাতেই তুরিনের সাফল্য চোখে পড়ার মতো। জাতীয় শুটিংয়ে জুনিয়র বিভাগে ২৫ মিটার পিস্তলে দুই বছরের মধ্যে দুবার রেকর্ড গড়েছেন। গত আসরের ৫১৯ স্কোর করে রেকর্ড গড়েছিলেন; সেই রেকর্ডই এবার ভেঙেছেন ৫৩৪ স্কোর করে। এখনো জুনিয়র বিভাগে খেললেও জায়গা করে নিয়েছেন জাতীয় দলে। ভারতের গুয়াহাটি-শিলংয়ে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ এসএ গেমসে ১০ মিটার পিস্তলে বাংলাদেশের দলগত রুপাজয়ী দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি।

তুরিন
শুটিংয়ে স্বর্ণ জয়ী রাঙ্গামাটির কন্যা তুরিন দেওয়ান

দুই বোনের মধ্যে তুরিনই বড়। বাবা কুশপল দেওয়ান জাতিসংঘে চাকরি করেন। মা তুলি চাকমা গৃহিণী। বাবার ইচ্ছে ছিল বড় মেয়েটি পড়াশোনা করে বিরাট কিছু হোক—সেটি ডাক্তারও হতে পারে কিংবা ইঞ্জিনিয়ার। এর বাইরে বড় কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে দারুণ চাকরি পাক—সে ইচ্ছাটাও বাবা ধারণ করতেন। তবে এখন শুটিংয়ে মেয়ের সাফল্য তাঁর চোখ খুলে দিয়েছে। ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার তো সবাই হতে পারে। একটা বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে চাকরিও যে-কেউই পেতে পারে। কিন্তু দেশকে প্রতিনিধিত্ব করার সৌভাগ্য কয়জনের হয়। মেয়ে যখন শুটিংটাকে গুরুত্বের সঙ্গেই নিয়েছে, তখন এখানেই সে সর্বোচ্চ পর্যায়ে যাওয়ার চেষ্টা করুক। তুরিনের এশিয়ান গেমস ও অলিম্পিক স্বপ্নকে উসকে দিয়েছেন বাবা কুশপলই। ২০২০ সালে টোকিও অলিম্পিকের জন্য বাংলাদেশ শুটিং ফেডারেশন যে দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছে, সেই দলে অন্যদের মধ্যে আছেন তুরিনও।

তুরিনের কাছে পুরো ব্যাপারটিই অবিশ্বাস্য। তাঁর বাবা-মা যে খেলাধুলায় তাঁকে সহায়তা করবেন, সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবেন, এটা আগে কখনোই ভাবেননি। বাবা-মায়ের ‘আদুরে মেয়ে’ যাকে বলে, তুরিন তা-ই। চাচা সেনাবাহিনীর একজন কর্মকর্তা। তিনিই বিকেএসপিতে ভর্তি হতে তুরিনের বাবা-মাকে রাজি করিয়েছেন। পড়াশোনাটাও খুব ভালোমতোই চলছে সঙ্গে সঙ্গে। এএসসিতে খুব ভালো ফল হয়েছে। এ নিয়ে সবাই খুশি, তৃপ্ত। কাঁচা বয়সে যে অঙ্কটা তুরিন করেছিলেন, সেটি খুব ভালোমতোই মিলে গেছে।

আরও একটি অঙ্ক মেলাতে চান তুরিন। সেটি হচ্ছে দেশকে সাফল্য দেওয়ার। আপাতত লক্ষ্য এসএস গেমস। সেই সমীকরণ তিনি মিলিয়ে চলেছেন। পরের ধাপটা বড্ড কঠিন। এশিয়ান গেমস, কমনওয়েলথ গেমস ও অলিম্পিক। তুরিন সেই হিসাবটাও করে রেখেছেন।

সামাজিক মাধ্যম ফেইসবুকে থেকে এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...

Ads

Recommended For You

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!