লংগদু বিপর্যয় ত্রাণ সহায়তা সমন্বয় কমিটি’র উদ্যোগে ২২৪ টি পরিবারে ত্রাণ বিতরণ

সুপ্রিয় চাকমা শুভ, রাঙামাটি প্রতিনিধি:  রাঙামাটি জেলাধীন লংগদুতে ২ জুন সেটেলার বাঙালী কর্তৃক অগ্নিসংযোগে পাহাড়ি আদিবাসী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারে ‘লংগদু বিপর্যয় ত্রাণ সহায়তা সমন্বয় কমিটির উদ্যোগে ২২৪ টি পরিবারে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। ১৪ ই জুন (বুধবার) সকাল ১১ ঘটিকা সময়ে মানিক জোড় ছড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হয়।
 
ত্রাণ বিতরণী অনুষ্ঠানটি পরিচালনা ক্ষেত্রে ভোলেন্টারী হিসেবে হিলর ভালেদী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের একদল টিম সর্বাত্বক সহযোগিতা করে। ২২৪ টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে তিনটিলায় ৮৪টি, মানিক জোড় ছড়ায় ৮৮ টি এবং বাট্ট্যা পাড়ায় ৪২টি পরিবারে ত্রাণ বিতরণ করা হয়। ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে নগদ ৬ হাজার টাকা, একটি করে লুঙ্গি, পিনোন, গামছা, পাটি, ছাতা ও মশারী সহ উত্তোলিত প্রয়োজনী ত্রাণ সামগ্রী প্রদান করা হয়। এছাড়া ‘লংগদু বিপর্যয় ত্রাণ সহায়তা সমন্বয় কমিটি’র মাধ্যমে ডাক্তার উদয় শংকর দেওয়ানের নেতৃত্বে ২৩৬ জন অসুস্থ রোগীকে বিনা মূল্য চিকিৎসা প্রদান করা হয়।
 
ত্রাণ বিতরণী অনুষ্ঠানে ২৯৯ নং সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার এমপি, লংগদু বিপর্যয় ত্রাণ সহায়তা সমন্বয় কমিটি’র আহ্বায়ক গৌতম দেওয়ান,লংগদু বিপর্যয় ত্রাণ সহায়তা সমন্বয় কমিটির যুগ্ন আহ্বায়কের মধ্যে প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা, নিরুপা দেওয়ান, টুকু তালুকার, কমিটির সদস্য সচিব অম্লান চাকমা, সদস্য সুপ্রিয় চাকমা শুভ, সদস্য দিপেন চাকমা সহ সর্বস্তরের ক্ষতিগ্রন্ত পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
 
প্রধান অতিথি ঊষাতন তালুকদার এমপি বলেন, তিনটি গ্রামে সেটেলার বাঙ্গালী কর্তৃক যে অগ্নিকান্ড সংঘঠিত হয়েছে সেটি পরিকল্পিত ছিল। কেননা পরিকল্পিত যদি না হতো তাহলে তেল, পেট্রোল দিয়ে বাড়িতে অাগুন দেওয়া হত না। মোটরসাইকেল চালক নুরুল ইসলাম নয়নকে খাগড়াছড়িতে হত্যা করা হয়। কিন্তু লংগদুতে পাহাড়িদের বাড়িতে অগ্নি সংযোগ দেওয়া মানবাধিকার লঙ্গিত হয়েছে। এছাড়া তিনি নয়ন হত্যাকারীদের সুষ্ঠ তদন্ত করে ও লংগদুতে অগ্নি সংযোগ ঘটনাটি সরকারের কাছে তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের শাস্তি দাবী জানান।
গৌতম দেওয়ান বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে সংখ্যালঘুরা সর্বদাই নির্যাতিত। উপজেলা সদরের ঘরবাড়ি, দোকান পাট আগুনের লেলিহান শিখায় পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। নিরীহ আদিবাসীদের উপর এই নিষ্ঠুর, অমানবিক এবং পাশবিক আক্রমণের নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদের জানা নেই। আমাদের বিশ্বাস করতে কষ্ট হয় যে, প্রশাসনের নাকের ডগায় সব শ্রেণীর আইন শৃংখলা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতিতে উপজেলা সদরে এ ধরনের একটি ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটতে পারে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী চেষ্টা করলে পাহাড়িদের জানমাল রক্ষা করতে পারত। ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের জন্য এগিয়ে আসা প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব। অসহায় লংগদু বাসীদের অসহায় পাশে দাঁড়াতে সুশীল সমাজ, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হিলর ভালেদী, উন্মেষ,স্পার্ক, রিশো কোশেই-কাই বাংলাদেশ, আইবিসি, বিভিন্ন এনজিও সংস্থা ও সর্বস্থরের জনগন সহযোগিতায় এগিয়ে এসেছে।
 
উল্লেখ্য যে,গত ২ জুন লংগদু তিনটিলার মোটর সাইকেল চালক নয়নের হত্যাকে কেন্দ্র করে ২২৪ টি পাহাড়ি আদিবাসী বসতবাড়িতে অগ্নি সংযোগের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক হামলা সৃষ্টি করে সেলটেলার বাঙালীরা। ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে রাঙামাটিতে রাজনৈনিক সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, ছাত্র সংগঠন, সামাজিক সংগঠন ও সুশীল সমাজ মিলে ‘লংগদু বিপর্যয় ত্রাণ সহায়তা সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়। যার ইংরেজী নাম Longudu Crisis Assistance Coordination Committee’’
সামাজিক মাধ্যম ফেইসবুকে থেকে এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...

Ads

Recommended For You

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!