রাণী য়েন য়েন এর প্রেমে পড়ে গেছি

আমাদের রাজা দেবাশীষ রায় য়েন য়েন নামক রমণীকে বিয়ে করেছেন খবরটা যেদিন শুনেছিলাম সেদিন অতি আগ্রহে ইন্টারনেট ঘেটে রাণীর ছবি খুঁজে বের করেছিলাম। ভেবেছিলাম অপরূপ সুন্দরী এক রমণীর ছবি দেখবো। রাজার বধুঁ রাণী হবেন সেটা কি আর চারটে খানি কথা। সুন্দরী না ছাই প্রথম দেখায় হতাশ হয়েছিলাম। ভেবেছিলাম আমাদের রাজাকে এই মেয়ে মনে হয় তাবিজ করে মোহিত করেছে। নতুবা এমন সুন্দর সুঠাম দেহের রাজা এই মেয়েকে বিয়ে করতে যাবে কেনো?

রাজার উপর রাগ আর রাণীর উপর বিরক্তি নিয়েই দিন কাটাচ্ছিলাম। আমার এই ভাবনায় হঠাৎ কিছুটা ধাক্কা খাই লংগদুর ঘটনায় যখন শুনলাম মানববন্ধনের ডাক দিয়েছেন রাণী। বলা যায় দারুণ এক জনমত সৃষ্টি করতে সমর্থ হলেন তিনি। এমন চারিত্রিক দৃঢ়তা আগে কখনো দেখিনি কোন আদিবাসী রমণীর কাছে। সেই থেকে রাণীর বিভিন্ন লেখা অনুসরণ করতে থাকি। তাঁর দুর্দান্ত সাহসীকতায় ভরপুর পোস্ট দেখতে থাকি একে একে। এমনকি মানববন্ধন থেকে সরে এসে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করার মত বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর তুলে ধরা যুক্তিগুলোও আমাকে মোহিত করতে থাকে।

এখানে বলতে দ্বিধা নেই, রাজা নামক শব্দটার সাথে আমার পরিচয় ইতিহাস বইয়ের মাধ্যমে। বর্তমানে রাজা শব্দটি শুনলেও সেই রাজার কোন কার্যকলাপের সাথে আমার তেমন পরিচিত নেই বললেই চলে তদুপরি রাজার কাছ থেকেও এমন দৃঢ়তা দেখার সুযোগ আমার হয়নি। মূলত রাণীর কার্যক্রমের কারণেই রাজার বিভিন্ন লেখা কিংবা পোস্টের দিকেও আস্তে আস্তে মনোযোগ দিতে থাকি। আর সেদিন বিলাইছড়ির ঘটনায় রাজার যে পোস্ট দেখলাম তাতে মনে হলো রাণীর সেই সাহসীকতা সেই দৃঢ়তা যেন রাজার মধ্যেও সংক্রমিত হয়েছে। এই না হলে রাজা যে কি না নিজ জনগোষ্ঠীর দুঃখ সুখের কথা অকপটে তুলে ধরবে, তাদের জন্য প্রয়োজনে লড়াইয়ে নামবে। রাজা সরাসরি যেভাবে সত্য ঘটনার ক্লু জানিয়ে দিলেন সবাইকে তাতে রাজাকে স্যালুট না জানিয়ে উপায় কি। তবে তাঁর আগে স্যালুট দিতে চাই অন্যজনকে যার প্রেমে পড়ে গেছি আমি। হ্যাঁ, রাণী য়েন য়েন এর কথা বলছি। তিনি তো ভয়ার্ত নির্যাতিত দুই রমণীর কথা এমনভাবে তুলে ধরেছেন তাতে মনে হচ্ছে পুরো দৃশ্যপট যেন নিজ চোখেই দেখতে পাচ্ছি। সাথে ভাড়া করা সংবাদ সম্মেলনকারীর বিরুদ্ধে স্পষ্ট বলতেও বিন্দুমাত্র দ্বিধাবোধ করেনি রাণী। বিলাইছড়ি ঘটনাটি আড়াল করতে যেভাবে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচার করা হচ্ছিল সেখানে রাণী এত চমৎকারভাবে বিস্তারিত তুলে ধরলেন যে, পুরো বিষয়টি সম্পর্কে জানতে কাউকে আর গবেষণা করতে হবে না।

প্রিয় রাণী, আমি আপনার প্রেমে পড়ে গেছি। তবে এই প্রেম সেই প্রেম নয়, আমি আপনার বীরত্বের প্রেমে পড়েছি। আপনার অধিকার আদায়ে সোচ্চার হওয়ার দৃঢ়তার প্রেমে পড়েছি। আপনার মতো রাণী থাকলে রাজারা প্রকৃত রাজার ভুমিকায় অবতীর্ণ হবেন তাতে সন্দেহের অবকাশ নাই। আপনি আমাদের রাজার যোগ্য সহধর্মিণী। আমি জানি, আপনার আন্দোলনের সরাসরি ফলাফল হয়তো এই মুহুর্তে আসবে না। তবে আপনার এই আন্দোলন চলতে থাকলে পুরো জাতি আপনার নেতৃত্বে একত্রিত হবে। প্রতিবাদ মুখর হবে প্রতিটি মানুষ। একদিন না একদিন সুফল আসবে তা নিশ্চিত করেই বলা যায়।

আমার এক প্রিয় ভান্তে নাম তার ধর্মবিরীয়; তিনি লিখেছেন- আপনার মতো রাণী যদি তাঁর বাবা মারা যাওয়ার সময় থাকতো তবে তিনি সেদিন তার পিতাকে হারানোর বিচার না পেলেও প্রতিবাদ করার সাহস পেতেন আপনার মাধ্যমে। কারণ পিতাকে তার চোখের সামনেই গুলি করে হত্যা করে সেনাবাহিনী, মাকে করে নির্যাতন। আজ এতদিন ধরে নিরবে দুঃখ সহ্য করে আসা সেই বোবা মানুষটিও কিন্তু আপনার বদৌলতে বলতে শিখেছে, লিখতে শিখেছে, প্রতিবাদ করতে শিখেছে। আপনার মতো রমণীর প্রতিটি ঘরে ঘরে জন্ম হোক এই কামনা করে আপনার দীর্ঘায়ু প্রার্থনা করছি।

লেখক : সরকারী কর্মকর্তা, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট, হাইকোর্ট বিভাগ, ঢাকা।

সামাজিক মাধ্যম ফেইসবুকে থেকে এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...

Ads

Recommended For You

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!