রাজধানীতে ফানুস ওড়ানো নিষেধাজ্ঞা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

শনিবার (৬ জানুয়ারি) ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়ার সই করা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে রাজধানী ঢাকায় ফানুস ওড়ানোয় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ফানুসে থাকা কেরোসিন বাতি না নিভেই মহানগরীর বিভিন্ন জায়গায় পড়ছে। এতে আগুন লাগাসহ বিভিন্ন ধরনের নিরাপত্তাজনিত হুমকি তৈরি হচ্ছে। ফানুস ওড়ানো অব্যাহত রাখলে যেকোনও সময় বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে। সে কারণে ফানুস ওড়ানো থেকে সবাইকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছে ডিএমপি। এই নিষেধাজ্ঞা না মানলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে ডিএমপি।

এদিকে ফানুস ওড়ানোর সঙ্গে বৌদ্ধ ধর্মের আচার সম্পৃক্ত বলে এই নিষেধাজ্ঞা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, বৌদ্ধদের ধর্মীয় এই আচারের বিরুদ্ধে এমন নিষেধাজ্ঞা দেওয়া ঠিক হয়নি। যদিও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা ধারণা করছেন,বৌদ্ধদের ধর্মীয় আচার প্রবারণায় ফানুস উড়ানো  এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বেন না।

রাজধানীতে ফানুষ ওড়ানো নিষেধাজ্ঞা নিয়ে দি বুড্ডিস্ট টাইমস এ প্রকাশিত সংবাদে জনি বড়ুয়া শ্রাবণ নামের একজন পাঠক মন্তব্য করেছেন, ‘এটা সঠিক পদক্ষেপ নিয়েছে ডিএমপি,,,বাজারে যে ফানুসগুলো পাওয়া যাচ্ছে সেগুলো দ্বারা যেকোন জায়গায় অগ্নিপাত হওয়ার সম্ভাবনা আছে।।সাধারনত প্রবারণাতে বাজার থেকে ক্রয় করা ফানুসসুমুহের ৭০ ভাগই একটু উপরে উঠে পড়ে যায়।।আমাদের প্রবারণাতে আমরা অনুমতি নিয়ে উড়াব এবং আমাদের ফানুসগুলোর উন্নত কোয়ালিটির কথা ডিএমপি অবহিত করবো।।তাহলে ডিএমপি অনুমতি দিবে।।তাছাড়া ধর্মীয় অনুষ্ঠানে উড়াতে তো নিষেদ নেই।।শুধু ফর্মালি অনুমতি নিব।।

নির্বাণ টিভিতে প্রকাশিত সংবাদে দিলীপ কুমার বড়ুয়া নামের একজন মন্তব্যে বলেন, ‘এটা কি প্রবারণা পূর্ণিমায় ফানুষ উড়ানো নিসিদ্ধ করার পূর্ব পরিকল্পনা কিনা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন আছে বৈকি|’

বিবর্তন অনলাইনে প্রকাশিত সংবাদে লোকানন্দ ভিক্ষু মন্তব্যে বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে সরকারী এ নিষেধাজ্ঞাটা যথাযত বলে মনে করি (এটা আমার নিজের অভিমত)। ঐতিহাসিকভাবে ফাঁনুস ওড়ানোটা একটা বৌদ্ধধর্মীয় উৎসব রূপে উদ্যাপিত হয়ে আসছিল। ইদানিং দেখতে পাচ্ছি অবৌদ্ধরাও কোন একটা কিছুতে ফাঁনুস ওড়াচ্ছে। এতে আমার মনে হয় বৌদ্ধ ধর্মীয় অবেগটা ক্ষীন হয়ে যাচ্ছে। এখন বৌদ্ধরা যদি অনুমতি নিয়ে ফাঁনুস ওড়ায়, সরকারের বাঁধা দেওয়ার কোন কারণ দেখি না কারণ সরকারও জানে এটা একটা ধর্মীয় ব্যাপার। অনুমতি না দিলে সংবিধান বিরোধী হবে। অন্যহাতে আমাদের ধর্মীয় আবেগটাও সংরক্ষিত হবে। সুতরাং ভয় কিসের !’

এছাড়া বাংলা ট্রিবিউনের এক প্রতিবেদন সূত্রে এ বিষয়ে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাসগুপ্তের বক্তব্য জানা যায়,‘আকাশে ফানুস ওড়ানো বৌদ্ধদের ধর্মীয় একটি রীতি। আমাদের সংবিধানে সব ধর্মকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমরা জুজুর ভয়ে যদি ফানুস ওড়ানোসহ সব ধরনের অসাম্প্রদায়িক অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেই, তাহলে সাম্প্রদায়িক শক্তি আরও সুযোগ পাবে।’ ফানুসে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া ঠিক হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ট্রিবিউনের সেই প্রতিবেদনে বাংলাদেশ বুদ্ধিস্ট ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ভিক্ষু সুনান্দ প্রিয় বলেছেন, ‘বৌদ্ধ ধর্মের প্রবর্তক গৌতম বুদ্ধ গৃহত্যাগের সময় তার নিজের সুন্দর চুল কেটে আকাশে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। আমরা মনে করি, তার চুল স্বর্গে রয়েছে। এজন্য প্রবারণা পূর্ণিমা বা আশ্বিনী পূর্ণিমার দিন ফানুস ওড়ানো হয়। তবে অনেক বিধি-বিধান মেনে ফানুস ওড়াতে হয়, এটা যখন-তখন মনের আনন্দে ওড়ানোর বিষয় নয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা একটি নির্দিষ্ট সময় ফানুস উড়িয়ে থাকি। সে সময় পুলিশের কাছ থেকে অনুমতিও নেওয়া হয়। আজকের নিষেধাজ্ঞা আমাদের জন্য নয়। এটা যাদের নিষেধ করেছে তাদের বিষয়। আমরা এ বিষয়ে কোনও কথা বলবো না।’

সামাজিক মাধ্যম ফেইসবুকে থেকে এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...

Ads

Recommended For You

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!