রাঙামাটিতে মহান বিজয় ও হানাদার মুক্ত দিবস পালিত

সুপ্রিয় চাকমা শুভ, রাঙামাটি
রাঙামাটি জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের আয়োজনে রাঙামাটিতে পালিত হয়েছে মহান বিজয় ও হানাদার মুক্ত দিবস। রোববার বিকেলে জেলা শহরের জানালিস্ট এসোসিয়েশন কার্যালয়ে দিবসটি উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি বিজয় ধরের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন দৈনিক গিরিদর্পন সম্পাদক একে এম মকছুদ আহমেদ। অন্যান্যের মধ্যে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি প্রেস ক্লাব সভাপতি সাখাওয়াৎ হোসেন রুবেল, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার আল হক, রাঙামাটি সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. সোলায়মান, জার্নালিস্ট নেটওয়ার্ক এর সাধারণ সম্পাদক ফাতেমা জান্নাত মুমু। সভা সঞ্চালনা করেন জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. হান্নান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে দৈনিক গিরিদর্পন সম্পাদক একে এম মকছুদ আহমেদ ৭১ এর যুদ্ধকালীন সময়ের ঘটনা স্মৃতিচারণ করে বলেন, স্বাধীনতার ৪৫ বছর পরও যুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জাতির কাছে তুলে ধরা হচ্ছে না। একেক সময়ে এক এক মহল যুদ্ধের ইতিহাসকে কলঙ্খিত, বিকৃত করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। পাল্লা ভারি হচ্ছে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের। অতল সাগরে তলিয়ে যাচ্ছে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা। আমি নিজে স্বাক্ষী, কারা যুদ্ধ করেছে, কারা করেনি। যুদ্ধকালীন সময়ে যাদের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ ছিল, তারাই এখন রাঙামাটি শহরে স্বাধীনতা পক্ষের সংগঠক হিসেবে ঢোল পিটাচ্ছে, মুক্তিযুদ্ধের ধারক-বাহক হিসেবে পরিচয় দিচ্ছে। তিনি রাঙামাটি জেলা হানাদারমুক্ত দিবসটি নিয়ে সন্দিহান পোষন করে বলেন, কেউ বলে ১৬ তারিখ, কেউ বলে ১৭ আর কেউ বা ১৮ ডিসেম্বর। ইতিহাস বিকৃতিকারীরই হানাদারমুক্ত দিবস নিয়েও খেলছে, নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারের জন্য। তিনি বলেন, সময় এসেছে যুদ্ধের সঠিক তথ্য সকলের কাছে তুলে ধরার জন্য।
রাঙামাটি প্রেস ক্লাব সভাপতি সাখাওয়াৎ হোসেন রুবেল বলেন, যুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে যারা টালবাহানা, বিকৃতি করছে তাদের মধ্যে দেশপ্রেমের অভাব আছে। তারা নিজেদের অস্তিত্ব ঠিকিয়ে রাখতে ভাওতাবাজির আশ্রয় নিয়েছে। যারা যুদ্ধকালীন সময়ে দেশ থেকে পালিয়ে গেছেন, লুকিয়ে ছিলেন তারাই এখন প্রকৃত দেশপ্রেমিক হিসেবে নিজেদের জাহির করছেন। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক ও জাতির জন্য লজ্জাকরও বটে। এদের কারণেই প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা আজ অবহেলিত। তিনি পার্বত্য রাঙামাটির মুক্তিযদ্ধের ইতিহাস সঠিকভাবে তুলে ধরতে তরুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের আরো অগ্রণী ভূমিকার রাখার অনুরোধ জানান।
রাঙামাটি প্রেস ক্লাব সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার আল হক বলেন, যুদ্ধের ইতিহাসের সাথে সাংবাদিকতা ওতোপ্রোতভাবে জড়িত। সঠিক লেখনির মাধ্যমে যুদ্ধের ইতিহাস ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে। তিনি সাংবাদিক সংগঠনের এরকম আলোচনা সভার গুরুত্বারোপ করে বলেন, জাতীয় সব বিষয়ে সাংবাদিকদের ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। তিনি এরকম একটি আয়োজনের জন্য রাঙামাটি জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনকে ধন্যবাদ জানান।

সামাজিক মাধ্যম ফেইসবুকে থেকে এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...

Ads

Recommended For You

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!