রাঙামাটিতে পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত ৪০৫টি পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ

সুপ্রিয় চাকমা শুভ, রাঙামাটি থেকে
 
রাঙামাটিতে পাহাড় ধসে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ও সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত পরিাবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। ৫ সেপ্তেম্বর (মঙ্গলবার) সকালে রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের আয়োজনে নিজ প্রাঙ্গন মাঠে মোট ৪০৫টি পরিবারকে নগদ টাকা ও ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়। আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ২৬৫ জন প্রতি পরিবারে নগদ ১ হাজার টাকা, ৩০ কেজি চাউল এবং ৬ নং ওয়ার্ডে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত ১৪০ প্রতি পরিবারকে নগদ ৬ হাজার টাকা, ২ বান ঢেউটিন,৩০ কেজি চাউল, ১ প্যাকেট গুড়া দুধ বিতরণ করা হয়।
 
ত্রাণ বিতরণের সময়ে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মো: মানজারুল মান্নানের সভাপতিত্ত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য,রাঙামাটি আওয়ামী লীগের সভাপতি দীপংকর তালুকদার, বিশেষ অতিথি হিসেবে রাঙামাটি জেলা পুলিশ সুপার সাঈদ তারিকুল হাসান, ত্রাণ কর্মকর্তা বিশ্বনাথ মজুমদার সহ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারে সদস্য বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ত্রাণ বিতরণের সময়ে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মো: মানজারুল মান্নানের বলেন,গত ১৩ই জুন রাঙামাটিতে পাহাড় ধসে যে মর্মান্তিক ভয়াবহ দুর্ঘটনা সংঘঠিত হয়েছে সত্য অত্যান্ত দুঃখ জনক। তবে রাঙামাটিতে সকল প্রকার দুর্ঘটনা এড়াতে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন সর্বদা সহযোগিতা প্রদান করতে সক্ষম হয়েছে। রাঙামাটিতে পাহাড় ধসের পরে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে নিরাপত্তার জন্য বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। তবে বর্তমানে আশ্রয়কেন্দ্রে প্রতিদিন কম পক্ষে ৭৭ হাজার টাকা ব্যায় হয়। গত ৪ সেপ্তেম্বর সমস্ত আশ্রয় কেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মানবিক দৃষ্টিতে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন আবারো ৭ সেপ্তেম্বর পর্যন্ত আশ্রয় কেন্দ্র গুলো পর্যন্ত চালু রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। এছাড়া ৭ সেপ্তেম্বরের মধ্যে আশ্রয়কেন্দ্র থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের নিজের সুবিধানুযায়ী স্থানে চলে যাওয়া এবং আশ্রয় কেন্দ্র থেকে চলে যাওয়ার পর নিরাপদ স্থানে বসতবাড়ি নির্মাণ করার জন্য তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের উদ্দেশ্য অনুরোধ জানান।
উল্লেখ্য যে, গত ১৩ ই জুন রাঙামাটিতে ভয়াবহ পাহাড় ধসে রাঙামাটিতে ১২০ জন নিহত এবং ১৮,৮৫৮টি পরিবার ব্যপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভয়াবহ পাহাড় ধসে রাঙামাটিতে নেমে আসে জনগণের মাঝে বিরাট আতঙ্ক। স্বজন হারা, বাড়ি হারা মানুষের আহাজারি ইতিহাস হয়ে থাকবে আজীবন। এদিক-ওদিক ছুটে চলছে একটুকু আশ্রয়ের জন্য। শিশু কাঁদছে মায়ের জন্য, সন্তান অপক্ষোয় রয়েছে বাবা-মার জন্য।এ যেন এক করুণ ইতিহাসের স্বাক্ষী।
সামাজিক মাধ্যম ফেইসবুকে থেকে এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...

Ads

Recommended For You

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!