রাঙামাটিতে আবারও পাহাড় ধ্বস, ২ মাস পরেও পুনর্বাসন হয়নি ক্ষতিগ্রস্তদের

সুপ্রিয় চাকমা শুভ, রাঙামাটি প্রতিনিধি ঃ-

২ মাস পরেও পুনর্বাসন হয়নি ক্ষতিগ্রস্তদেরঃ রাঙামাটিতে বৃষ্টি পড়লেই মানুষের মাঝে দেখা দেয় এক ধরনের আতঙ্ক। এদিক-ওদিক ছুটে করছে অনেকেই। হচ্ছে না কোন প্রকার পুর্নবাসন ব্যবস্থা। রাঙামাটিতে ১৩ই জুন ক্ষতিগস্ত পরিবারে ২ মাস পরেও কোন প্রকার পুর্নবাসন না হওয়াতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এক ধরণের অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছে। পাহাড় ধ্বসের ঘটনার পর রাঙামাটি জেলা প্রশাসন বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রকাশ করেছিল। সেই তালিকা অনুযায়ী রাঙামাটির ১০টি উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা হচ্ছে ১২হাজার ৫৫৮টি। এর মধ্যে সম্পূন্ন বিধ্বস্ত ঘর-বাড়ির হচ্ছে ১ হাজার ২৩১টি। আর আংশিক বিধ্বস্ত হয়েছে ৯ হাজার ৫৩৭টি। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে-বন, বিদ্যুৎ, শিল্প কারখানা, মৎস্য খামার, গবাদি পশু. হাঁস মুরগি। এছাড়া বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ফসলের জমি। যার পরিমাণ ১৮হাজার ৯৯.৩১ হেক্টর। তবে এখনো পর্যন্ত ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারেনি স্থানীয় প্রশাসন বিভাগ।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের অভিযোগঃ রাঙামাটিতে দুই মাস পরেও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারে পুর্নবাসন হচ্ছে না বলে ভূক্তভোগীদের অনেকেই অভিযোগ করেছে। রাঙামাটিতে মাত্র ১৯ টি আশ্রয় কেন্দ্র সরেজমিনে ঘুড়ে দেখা যায় আশ্রয় কেন্দ্রে বিভিন্ন ধরণের অভিযোগ ও হতাশায় পরিনত হয়েছে। অনেকে বিলাপ করে জানায়, ফিরে যেতে চাইলেও যেতে পারছি না নিজদের ভিটা মাটিতে। তারা অভিযোগ করে আরোও বলেন, সরকার ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার পুনর্বাসনের প্রতিশ্রুতির কথা বলা হলেও তার বিন্দু মাত্র বাস্তবায়ন দেখা যায়নি।

এ প্রসঙ্গে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মো. মানজারুল মান্নান বলেন, রাঙামাটিতে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রকাশিত হলেও ক্ষয়ক্ষতির হিসাবটি চূড়ান্ত নয়। প্রাথমিকভাবে খসড়া তালিকা এর মধ্যে ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলেও প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি তালিকা বিস্তারিত তথ্য আরও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। আমরা চাচ্ছি সবাই নিরপেক্ষভাবে কাজ করে চূড়ান্ত হিসাবে তালিকা প্রনয়ণ করতে। যদি ক্ষয়ক্ষতি চূড়ান্ত তালিকা আমাদের নিকট পৌছে যায় তখন আবারও ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের কাছে পাঠানো হবে। তাছাড়া যারা প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের পুনর্বাসন কাজের প্রক্রিয়া চলছে। খুব শীঘ্রই তাদের পুনর্বাসিত করা হবে।

রাঙামাটিতে আবারও পাহাড় ধ্বসঃ গত শুক্রবার হতে শনিবার পর্যন্ত টানা দুই দিন প্রবল বৃষ্টিপাতের কারনে আবারও রাঙামাটি- চট্টগ্রাম, রাঙামাটি- খাগড়াছড়ি মহাসড়কে আগের মত যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেকটা ব্যঘাত ঘটেছে। প্রবল বৃষ্টি পাতের কারনে রাঙামাটি ঘাগড়া এলাকার কলাবাগানে রাস্তা ভেঙে গেলে এবং চম্পাতলী এলাকায় কিছু এলাকায় পাহাড় ধ্বসে পড়ায় যানবাহন আনেকটা বন্ধ হয়ে যায়। তবে এলাবাসীদের যৌথ উদ্যোগে ধ্বসে পড়া মাটি ছড়িয়ে নিলে কিছুটা যানচলাচল শুরু হতে থাকে। তবে ভারি যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা করা হয়েছে। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ লোকজনকে নিরাপদে সরে যেতে সতর্কবার্তা জারি রেখেছেন রাঙামাটি জেলা প্রশাসন।

রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতু ডুবন্ত সেতুতে পরিণতঃ এদিকে শুক্রবার হতে শনিবার পর্যন্ত টানা দুইদিন বৃষ্টিপাতের কারনে রাঙামাটির পর্যটনের ঝুলন্ত সেতুটি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এলাকাবাসীরা যোগাযোগের জন্য অন্যতম যোগাযোগ মাধ্যেম নৌকাকে বেচে নিয়েছে।

পর্যটন মোটেলের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা জানান, গতবছর সেপ্তেম্বরের ১৯-২০ তারিখের দিকে রাঙামাটি পর্যটন ঝুলন্ত সেতুটি পানির নিচে তলিয়ে যায়। এবছরে সেপ্টেম্বর মাস আসতে না আসতেই সেতুটি পানিতে ডুবে যায়। যার কারনে পর্যটনে কোন ধরনের পর্যটক আসে না। সেতুটি পানিতে ডুবে যাওয়ার কারনে সবার নিরাপত্তার জন্য সেতুটিতে চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। বর্তমানে সেতুটি প্রায় দেড় ফুট উপরে পানি উঠেছে। কাপ্তাইয়ের পানি নেমে গেলেই সঠিক সময় অনুযায়ী সেতুটি খুলে দেওয়া হবে।

এদিকে, গত শুক্রবার থেকে রাঙামাটিতে টানা ২৪ ঘন্টার অধিক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন দেখা দেয়।যার কারনে রাঙামাটিবাসীর জীবন হয়ে উঠেছে ভুতের শহরের মত। ভোগান্তি দেখা দেয় জনজীবনে। অনেকের অভিযোগ, রাঙামাটিতে সামান্যটুকু বৃষ্টি পাত হলেই বিদ্যুতের সমস্যা। এনমকি রাঙামাটিতে দেখা দেয় পানীয় জলের সংকট। একের পর এক দুর্যোগের শেষ নেই যেন রাঙামাটিতে।

সামাজিক মাধ্যম ফেইসবুকে থেকে এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...

Ads

Recommended For You

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!