মেজর রফিক পাহাড়িদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করতে আমি নিজেই দেখেছি; মিনতা চাকমা

সুপ্রিয় চাকমা শুভ, রাঙ্গামাটি জেলা প্রতিনিধিঃ রাঙামাটি জেলাধীন লংগদু সদর উপজেলার তিনটিলা, মানেকজোড় ছড়া, ও বাট্যাপাড়ায় নামক এলাকায় সেটেলার বাঙালী কর্তৃক পাহাড়ি আদিবাসীদের বসতবাড়িতে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত্র পরিবার ও এলাকা ৬ জুন (মঙ্গলবার) পরিদর্শন করেছে রাঙামাটিতে নব গঠিত লংগদু বিপর্যয় ত্রাণ সমন্বয় কমিটির প্রতিনিধিদল। সকালে রাজবাড়ি ঘাট থেকে রওনা দিয়ে লংগদুর অগ্নিকান্ড বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করা ৮ জন বিশিষ্ট প্রতিনিধি দল।
 
এমএন লারমা মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশনের সভাপতি বিজয় কেতন চাকমার নেতৃত্বে নব গঠিত লংগদু বিপর্যয় ত্রাণ সমন্বয় কমিটির সদস্য সচিব ও সমাজকর্মী অম্লান চাকমা, লংগদু বিপর্যয় ত্রাণ সমন্বয় কমিটির সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ইন্তুমনি তালুকদার,সমাজকর্মী বিশ্বমনি চাকমা, সমাজকর্মী প্রমোদ শেখর চাকমা, লংগদু বিপর্যয় ত্রাণ সমন্বয় কমিটির সদস্য ও হিলর ভালেদী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি সাংবাদিক সুপ্রিয় চাকমা শুভ, উন্মেষ সংগঠনের তথ্য প্রচার সম্পাদক তপন চাকমা ও রাঙামাটি শাখার স্পার্কের সদস্য ইন্দিরা চাকমা সহ এলাকার মুরুব্বীগনের সাথে ক্ষতিগ্রস্ত্র এলাকা পরিদর্শন করেন।
 
সরেজমিনে ভিডিও সাক্ষাৎকারে দশম শ্রেণীর স্কুল ছাত্রী কেয়া মনি খীসা বলেন, সেটেলার বাঙালী কর্তৃক অগ্নিকান্ডে আমাদের বাড়ি সহ সব পেট্রোল দিয়ে আগুনে পুড়িয়ে দেয়। আমার যাবতীয় বই খাতা আগুনে পুড়ে যায়। এখন আমি কি করব কিছু বুঝতে পারছিনা। কোন রকমে তিনটিলা বনবিহারে অস্থায়ীভাবে অাশ্রয় নিই।
মিলন শান্তি কার্বারী (৭২) বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনী মানে শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী বলে সকলে জানতো। কিন্তু এবার থেকে সেই ভুল ধারনা আজ প্রমানিত। সেনাবাহিনীর প্রতি পার্বত্য অঞ্চলের জনগনের বিশ্বাস ক্ষুন্ন হয়ে গেছে। কেননা সেনাবাহিনীরা যদি শান্তি চায়তো তাহলে তাদের সামনে এভাবে অত্যাচার সম্ভব হত না। তাদের কারনে এস ঘটনা সংগঠিত হয়ে গেল।
 
২৫ নং সোলয় মৌজার হেডম্যান,উপজেলা হেডম্যানের সভাপতি ও সিএইচটি হেডম্যান নেটওর্য়াকেরর প্রেসিডেন্ট প্রেমলাল চাকমা বলেন, আমার সামনে কয়েকজন বাঙালী মিলে প্রথমে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির অফিসে আগুন দিয়ে দেয়। পরে পাহাড়ি আদিবাসীদের বাড়িতে পেট্রোল দিয়ে আগুন দেয়। নিরীহ জনগন নিজের প্রাণ বাঁচাতে এদিক ঐদিক ছুটে চলছে। আমি কোনদিন ভাবেনি এসব ঘটনা সংগঠিত হবে। কেননা নিরাপত্তা বাহিনীরা সহ জানি আলম ও রফিক সহ পাহাড়িদেরকে নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়েছিলেন। তারা গ্যারিন্টি দিয়ে বলেছিল কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা হবেনা। শুধুমাত্র মিছিল করা হবে।
 
ক্ষতিগ্রস্ত্র মিনতা চাকমা বলেন, পাহাড়ি বাঙালীদের যখন সংঘর্ষ হয় তখন মেজর রফিক পাহাড়িদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করতে আমি নিজেই দেখেছি। তাদের কারনে বাঙালীরা এত সাহস পায়। আমাদের কমপক্ষে ৩ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। বাড়ির কথা বাদ দিলাম। আমাদের পোষা বণ্যশুকর গুলো মেরে ফেলে দেয়। আমরা চাকমা তাই আমরা নির্যাতিত।
সামাজিক মাধ্যম ফেইসবুকে থেকে এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...

Ads

Recommended For You

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!