মুন্সিগঞ্জে মিলেছে আরো একটি বৌদ্ধ নিদর্শন

প্রথম আলো, ৬ জানুয়ারি ২০১৮:  মুন্সিগঞ্জ জেলায় দেশের সর্ববৃৎহৎ বৌদ্ধ সভ্যতার একটি স্মৃতিস্তম্ভের সন্ধান মিলেছে। জেলাটির টঙ্গিবাড়ী উপজেলার নটেশ্বর গ্রামে এই স্মৃতিস্তম্ভ পাওয়া গেছে। বৌদ্ধ সভ্যতায় স্তূপ হিসেবে চিহ্নিত ওই স্মৃতিস্তম্ভের একেকটি বাহুর দৈর্ঘ্য প্রায় ৪৪ মিটার। ৮০০ থেকে ১২০০ খ্রিস্টাব্দের ওই স্তূপগুলো অনেকটা পিরামিড আকৃতির।

ওই সময়ে বাংলার দক্ষিণাঞ্চলে বৌদ্ধ শাসনামলের রাজধানী যে বিক্রমপুর এলাকা ছিল, তারও কিছু প্রমাণ পাওয়া গেলে। সড়ক, পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থাসহ বেশ কিছু স্থাপনার সন্ধান মিলেছে এই প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের স্থানে।

এর আগে দেশের সবচেয়ে বড় স্তূপের সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল কুমিল্লার ময়নামতিতে। সেটির আয়তন ছিল ১২ থেকে ১৪ মিটার।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত আজ শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে বৌদ্ধ সভ্যতার এই নিদর্শনের উন্মোচন করবেন। চীন থেকে আসা ১৮ জন প্রত্নতাত্ত্বিকের একটি দলও অনুষ্ঠানে যোগ দেবে। অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ২০১০ সাল থেকে ঐতিহ্য অন্বেষণ (প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা কেন্দ্র) বিক্রমপুর অঞ্চলে প্রত্নতাত্ত্বিক খনন ও গবেষণাকাজ শুরু করে। উয়ারী-বটেশ্বরে বাংলার প্রাচীন সভ্যতার অনুসন্ধানকারী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক সুফি মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে ওই প্রত্নতাত্ত্বিকের খননকাজটি করা হচ্ছে।

বৌদ্ধধর্মের অন্যতম সাধক অতীশ দীপঙ্কররে জন্মভূমি প্রাচীন বজ্রযোগিনী এলাকা, যা বর্তমানে মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার রামপাল ইউনিয়নের রঘুরামপুর গ্রামে। সেখানে প্রত্নতাত্ত্বিক খননকাজটি করা হয়। সেখানে এ পর্যন্ত মোট ছয়টি বৌদ্ধবিহার, একটি মণ্ডপ ও একটি পঞ্চস্তূপ আবিষ্কৃত হয়। ২০১৩ সালে থেকে টঙ্গিবাড়ী উপজেলার নটেশ্বর দেউলে প্রত্নতাত্ত্বিক খনন শুরু হয়। প্রায় ১০ একর ঢিবিতে খননকাজ শুরু করে ঐতিহ্য অন্বেষণ। কিন্তু কাজের বিশালতা ও সংরক্ষণের কথা চিন্তা করে অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশন সহযোগিতার জন্য চীনের হুনান প্রাদেশিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও প্রত্নতত্ত্ব ইনিষ্টিটিউটকে আমন্ত্রণ জানায়।

২০১৩ থেকে ১০১৮ সাল পর্যন্ত সময়ের মধ্যে ওই খননের সময়সীমা ধরে কাজ এগোতে থাকে। যৌথ উদ্যোগে পাঁচ হাজার বর্গমিটারের বেশি এলাকায় খনন হয়েছে। প্রায় ৪০ জন প্রত্নতাত্ত্বিক বিভিন্ন সময় সেখানে কাজ করেছেন। ইতিমধ্যে সেখানে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ পিরামিড আকৃতির নান্দনিক স্তূপ, তিনটি অষ্টকোনাকৃতি স্তূপ; ইটনির্মিত চারটি সড়ক, চারদিকে চারটি স্তূপ এবং হলঘর পরিবেষ্টিত বাংলাদেশের সর্ববৃৎহৎ অষ্টকোনাকৃতির কেন্দ্রীয় স্তূপ পাওয়া গেছে।

খননকাজের দলনেতা অধ্যাপক সুফি মোস্তাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, অতীশ দীপঙ্করের জন্মভূমি বিক্রমপুর প্রত্নস্থান দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠ বৌদ্ধ সংস্কৃতির কেন্দ্র হিসেবে বিশ্ব প্রত্নতত্ত্বে জায়গা করে নেবে। নটেশ্বর দেউলে সাম্প্রতিক আবিষ্কার শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, বিশ্বের প্রত্নতাত্ত্বিক ইতিহাসে এটি সেরা আবিষ্কার।

সামাজিক মাধ্যম ফেইসবুকে থেকে এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...

Ads

Recommended For You

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!