মা-বাবাকে না জানিয়ে আশ্রম থেকে ৩ শিশুকে অন্য পরিবারে দত্তক

বান্দরবানের লামা উপজেলার দুর্গম খনচং ম্রো পাড়ার গরীব অসহায় চিংক্লাং ম্রো চার বছর আগে তার শিশু তুমরউ ম্রোকে নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুনধুমের একটি বৌদ্ধ আশ্রমে দিয়েছিলেন বিনা খরচে পড়া লেখার জন্য। কিন্তু চিংক্লাংকে না জানিয়ে আশ্রম থেকে তার দুই বছরের ঐ শিশুকে দত্তক দিয়ে দেয়া হয় নিঃসন্তান একটি পরিবারের কাছে। বিভিন্ন সময়ে চিংক্লাং ঘুনধুমে গিয়ে আশ্রমে দেয়া তার শিশুর খোঁজখবর নেয়ার চেষ্টা করলেও তাকে জানানো হয়নি। দীর্ঘ চার বছর পর চিংক্লাং পুলিশের সহায়তায় তার শিশুর খোঁজ পেলেও এখন ঐ শিশু তার বাবাকে চিনতে পারছে না। তুমরউ–এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে পিঙ্কি বড়ুয়া। গতকাল রবিবার নাইক্ষ্যংছড়ির উত্তর ঘুনধুম–এর শিল পাড়া থেকে তুমরউ–এর মতো আরো ২ শিশুকে উদ্ধার করে বান্দরবান পুলিশ সুপারের কার্যালেয়ে নিয়ে আসা হয়। পরে তাদের আদালতে নেয়া হলে সেখান থেকে ৩ শিশুকে দত্তক নেয়া পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ঘটনাটি ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এলাকায়।

গতকাল বান্দরবান পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে শিশুদের তাদের আসল মা–বাবার কাছে দিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হলে সেখানে কান্নার রোল পড়ে। নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ আলমগীর জানান, লামার দুর্গম কলাই পাড়া ও খনচং ম্রো পাড়ার রেংহীন ম্রো, চিংক্লাং ম্রো ও কমচুন ম্রো তাদের ৩ শিশুকে চার বছর আগে উত্তর ঘুনধুম–এর কুটির শ্মশান বৌদ্ধ বিহারের আশ্রমে বিনা খরচে পড়ালেখা করার জন্য সেখানে দিয়ে দেন। সেখান থেকে বিদর্শন বড়ুয়া নামের এক ব্যক্তি ঐ শিশুদের তাদের মা–বাকে না জানিয়ে শিল পাড়ার নিঃসন্তান তিন পরিবারকে দত্তক দিয়ে দেয়। পরে ম্রো পরিবারগুলো তাদের সন্তানদের খোঁজে বেশ কয়েকবার আশ্রমে গেলেও নানাভাবে তাদের সেখান থেকে তাড়িয়ে দেয়া হয়। শেষে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় অসহায় ম্রো পরিবার লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ উদ্যোগ নেয়। স্থানীয়দের সহায়তায় ৩ শিশুকে শিল পাড়া থেকে উদ্ধার করে বান্দরবান জেলা সদরে নিয়ে আসা হয়।

চিংক্লাং ম্রো জানান, তাদের এলাকার ৩ শিশুকে আশ্রমে বিনা খরচে পড়ালেখা করার জন্য দেয়া হলেও সুদর্শন বড়ুয়া শিশুদের ঐ এলাকার নিঃসন্তান নিপুন বড়ুয়া, নিলকান্ত বড়ুয়া ও সাঙ্গুয়া বড়ুয়ার পরিবারকে দত্তক দিয়ে দেয়। পরে থানা পুলিশের সহায়তায় ৩ শিশুকে উদ্ধার করা হলেও দীর্ঘদিন তাদের সাথে যোগাযোগ না থাকায় শিশুরা তাদের আসল মা বাকে চিনতে পারছে না। অসহায় ম্রো পরিবারগুলো তাদের সন্তানদের ফিরে পাওয়ার দাবি জানান।

দত্তক নেয়া নিপুন বড়ুয়া জানান, শিশুদের কারো মা–বাবা বেঁচে নেই এই কথা বলে তাদের দত্তক দেয়া হয়। তারা নিঃসন্তান বলে ঐ ম্রো শিশুদের নিয়ে লালন পালন করেছেন। শিশুরা যদি তাদের মা–বাবার কাছে ফিরে যেতে চায় তবে তারা বাধা দেবেন না। এদিকে, ৩ শিশুকে গতকাল পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে আদালতে পাঠানো হলে আদালত শিশুদের তাদের দত্তক নেয়া মা–বাবার কাছে দিয়ে দেয়ার নির্দেশ দেন। পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় জানান, যেহেতু শিশুরা তাদের আসল মা বাকে চিনতে পারছে না এবং তাদের সাথে যেতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে সে কারণে বিষয়টি সমাধানের জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ধরনের ঘটনা যাতে পুনরায় না ঘটে সে জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।-দৈনিক পূর্বকোন, ২২ জানুয়ারী ২০১৮।

সামাজিক মাধ্যম ফেইসবুকে থেকে এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...

Ads

Recommended For You

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!