ভ্রমণ ডাইরী: শতফুট দৈর্ঘ্যরে সিংহশয্যা বুদ্ধ মূর্তি

আলম শাইনঃ ভ্রমণ প্রিয় মানুষ আমি। বয়স কুড়িতে পৌঁছার আগেই একাকী দেশের উল্লেখযোগ্য পর্যটন স্থানগুলোতে ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ হয়েছে আমার। সে সময় দেশের আনাচে কানাচে ঘুরে বেড়ানো সত্যি কষ্টসাধ্য ছিল। ইচ্ছে করলে যেখানে সেখানে যাওয়া যেত না। তথাপিও যানবাহন এবং আর্থিক সংকট মোকাবিলা করে আমি দূর-দূরান্তে ছুটে গিয়েছি। কক্সবাজারও গিয়েছি; বয়স তখন সর্বোচ্চ কুড়ি। সে সময় রামুর নাম শুনলেও যাওয়ার সুযোগ হয়নি। বার বার কক্সবাজার গেলেও রামু যাওয়া হয়নি; কারণ বহু। সম্প্রতি গিয়েছি, শুধুমাত্র ১০০ ফুট সিংহশয্যা গৌতম বুদ্ধ মূর্তি দর্শনের উদ্দেশে।

কক্সবাজারের সন্নিকটে রামু উপজেলা। দূরত্ব খুব বেশি হলে ১৫ কিলোমিটার। সিএনজিযোগে গেলে তো কথাই নেই, মাত্র মিনিট ত্রিশের মধ্যেই পৌঁছানো সম্ভব। তাই করেছি। পুরো পরিবারসহ গিয়েছি। কক্সবাজার থেকে সিএনজিযোগে গিয়েছি রামুর উত্তর মিঠাছড়িতে। ভীষণ অভিভূত হয়েছি সেখানে পৌঁছতেই। টিলার ওপরে ‘বিমুক্তি বিদর্শন ভাবনা কেন্দ্র’ স্থাপিত হয়েছে। যার পাশেই ১০০ ফুট সিংহশয্যা গৌতম বুদ্ধ মূর্তি। দেখার মতোই বটে। পাশেই সবুজের সমাহার। বলা যায়, বন-পাহাড়-সমতলের মিলনমেলা যেন। নয়নাভিরাম রামু আমাকে ভাবিয়ে তুলেছে মুহূর্তেই। চোখের সামনে ভেসে এসেছে হাজার বছরের ঐতিহ্য।

রামু’র ১০০ ফুট সিংহ শয্যা বুদ্ধ মূর্তির সামনে লেখক আলম শাইন।

প্রিয় পাঠক, দেশের ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলোর মধ্যে রামু অন্যতম। এখানে রয়েছে প্রায় ৩৫টি বৌদ্ধ মন্দির। যার অধিকাংশই কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তেমনি একটি বৌদ্ধ মন্দির হচ্ছে এটি। তবে রামুর পরিচিতি মূলত এ বৌদ্ধ মূর্তিকে ঘিরে। এখানে প্রতিদিন শত শত পর্যটকের আনাগোনা লক্ষ্য করা যায়। মাত্র দশ টাকার টিকিটের বিনিময়ে মন্দির ঘুরে দেখার সুযোগ হয়। ভেতরে হরেকরকম পুরাকীর্তিতে ঠাঁসা। বাইরে নীরব, নিস্তব্ধতার মধ্যেও রয়েছে চাপা কোলাহল। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা নেই, নেই ধান্দাবাজদের উপস্থিতিও। ফলে দর্শনার্থীরা কোনো ধরনের বিরক্তিকর পরিস্থিতিতে পড়েন না।

কথিত আছে, ১৪৬ খ্রিস্টাব্দে নাকি ওই বৌদ্ধ মন্দিরটি স্থাপিত হয়। পর্যায়ক্রমে সংস্কার হয়ে এটি হালের নয়নাভিরাম রূপ ফিরে পায়। আকর্ষণীয় স্পটের কারণে পরিণত হয় পর্যটকদের মিলনমেলায়। এখানকার মূল আকর্ষণই হচ্ছে ১০০ ফুট দৈর্ঘ্যের সিংহশয্যা গৌতম বুদ্ধ মূর্তিটি। ব্রোঞ্জের তৈরি, সোনা রঙে মোড়ানো। তার ওপর সবুজের সমাহার মূর্তির জৌলুস বাড়িয়ে দিয়েছে অনেকটাই। জানা যায়, এত দীর্ঘ বৌদ্ধ মূর্তি দক্ষিণ এশিয়াতে আর নাকি দ্বিতীয়টি নেই। বিষয়টা ভাবতে বেশ লেগেছে। আপনার কাছেও লাগবে হলফ করে বলতে পারি।

  • লেখক: আলম শাইন, কথাসাহিত্যিক, বন্যপ্রাণি বিশারদ ও পরিবেশবিদ। alamshine@gmail.com
সামাজিক মাধ্যম ফেইসবুকে থেকে এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...

Ads

Recommended For You

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!