বৌদ্ধ ভিক্ষু লাঞ্চিত ও আমাদের করনীয়

নশ্বর সুজয়, সিডনি, অষ্ট্রেলিয়া থেকেঃ 

বার্মার রোহিঙ্গা নির্যাতন বিষয়টি কোথায় গিয়ে ঠেকেছে, বাংলাদেশের একজন বৌদ্ধ ভিক্ষুকে ভয় দেখিয়ে হুমকি দমকি দিয়ে বলতে বাধ্য করা হল- বার্মিজ সেনা বা সরকার যা করছে অমানবিক অন্যায়।  এখানে আমার প্রশ্ন হলো- তারা কি দেখেনি বাংলাদেশের বৌদ্ধরা রোহিঙ্গা নির্যাতনের প্রতিবাদ রাস্তায় রাস্তায় শ্লোগান দিতে? তারা কি দেখেনি বাংলাদেশের বৌদ্ধরা সংবাদ সম্মেলন করে বার্মিজ সেনাদের বর্বরতার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাতে, বার্মার দূতাবাসে স্মরকলিপি জমা দিতে!  এমনকি বাংলাদেশের বৌদ্ধ ও বৌদ্ধ ভিক্ষুরা রোহিঙ্গাদের সাহায্যে এগিয়ে আসতে? বার্মার সেনাদের বর্বরতার দায়ভার এদের বৌদ্ধরা নেবে কেন?

বিশ্বের যেসকল মুসলিম সংঘটিত যুদ্ধ সহ নানা নির্যাতন হত্যা খুন লুট ধর্ষণ অমানবিক বর্বরতা ঘটে থাকে সেসকল ঘটনার দায়ভার বাংলাদেশের মুসলিমরা নিচ্ছে কি? বাংলাদেশের বৌদ্ধরা আজ অবদি দেশদ্রোহী হয়ে রাস্তায়ও নামেনি, এতো শত নির্যাতিত হওয়ার পরেও কোনো বৌদ্ধ যুবক অস্ত্রও তুলে নেয় নি, জঙ্গিও হয় নি। ধর্মান্তরন করার জন্যেই কারো গলায়ও ছুরি ধরেনি। কোনো যুবতী মেয়েকেও ঘর থেকে তুলে আনেনি।

পৃথিবীর ইতিহাসে একমাত্র বৌদ্ধরাই উক্ত বিষয়গুলো গর্বের সাথে বলতে পারে, যেখানেই থাকুক যেভাবেই থাকুক, সংখ্যালঘু হউক বা সংখ্যাগরিষ্ঠ, বৌদ্ধরা কখনো যুদ্ধবাদ জঙ্গিবাদ সমর্থন করে না। যদি তাই হতো তাহলে আফগানিস্তানের এতো বিশাল বিশাল বৌদ্ধ মূর্তি বৌদ্ধ স্থাপত্য গুলো যে ভাবেই দিবালোকে বোমাবর্ষণে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে তার প্রতিশোধে হাজার হাজার বৌদ্ধ জঙ্গির জন্মো হতো। “বুদ্ধগয়া” যেটি সমগ্র বৌদ্ধদের প্রাণকেন্দ্র নাভিস্থল সেখানে বোমা হামলার প্রতিবাদেও বৌদ্ধরা অস্ত্র হাতে নেনি, স্থানীয় দোকানপাট ঘরবাড়িও ভাঙ্গচুর করেনি।

কেউ যদি দাবী করেন বার্মার রোহিঙ্গা ইসু্যকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের মুসলিমরা বৌদ্ধ বা সংখ্যালঘু বিদ্বেষে উগ্রতা প্রকাশ করছে- তাহলে আমার প্রশ্ন রামুর নারকীয় ধ্বংসলিলা কেন হল? নাচির নগরে ধ্বংসযজ্ঞ কেন হল? লগদুতে শত শত ঘরবাড়ি ভস্মিভূত কেন হল? নিত্যদিন এতো এতো পূজার মণ্ডপ, মূর্তি সহ সংখ্যালঘু স্থাপনা ভাঙচুর কেনই বা হয়?  এগুলোর দায় ভার কে নেবে?

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের কপালের লিখন প্রতিদিন কোথাও না কোথাও বিতাড়ন লুট খুন জুলুম ভাঙচুর লেগেই আছে। হয়তো বার্মার রোহিঙ্গা ইসু্যকে কেন্দ্র করে এবার শুরু হবে সংখ্যালঘু বৌদ্ধদের এমন পরিনতি।
বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিমদের জেনে রাখা উচিত বৌদ্ধরা বাংলাদেশে সংখ্যায় লঘু হলেও এদের পরিধি বিশাল। বাংলাদেশের সিংহভাগ রসদ আসে বৌদ্ধ দেশগুলো হতেই। বাংলাদেশে এতো বিশাল বিশাল সেতু কালবাট সড়ক সবিই বৌদ্ধ দেশগুলোরই অবদান।

কিছুক্ষন পূর্বে পত্রিকায় দেখলাম জাপানি একটি এন্জিও সংস্থা বাংলাদেশের রোহিঙ্গাদের সাহায্যে ৮কোটি ২২ লাখ টাকা দান করেছে।  বুকে হাত দিয়ে এমন কোনো মুসলিম বলতে পারবে কি বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় উন্নয়নে কোন মুসলিম দেশটি হাত বাড়িয়াছে?  সুতরাং যে থালায় খাচ্ছেন সে থালাটি অন্তত কাণা করবেন না।

এছাড়াও বাংলাদেশের বৌদ্ধদের প্রথম সারির ব্যক্তিবর্গদেরকে অনুরোধ করব-আপনারা বৌদ্ধ জাতির সুরক্ষা জন্যে উক্তি গর্হিত ঘটনাটিতে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করুন। যাহাতে দ্বিতীয় বার এমন ঘটনা দেখতে না হয়। সরকারকে জ্ঞাত করান/ বর্তমান পরিস্থিতিতে আমরা গৃহীরা অন্যদশজনের মতোই জনসমুদ্রে মিশে যেতে পারব, আমাদের গায়েও লেখা নেই বৌদ্ধ কি হিন্দু বা মুসলিম। তাই আমরা সাধারণ গৃহীরা সহজে ওদের রোষ এড়িয়ে যেতে পারব। কিন্তু মহা বিপত্তিতে পরতে হবেই গেরুয়া পরিহিত ভিক্ষুদের। সরাসরি উগ্রবাদীরা ভিক্ষুদেরকে লক্ষ্য করে বার্মার রোহিঙ্গা নির্যাতনের প্রতিশোধ নিতে চাইবে। নানা অপ্রিতীকর ঘটনার জন্ম দেবে।

সুতরাং সকল বৌদ্ধ লিডারের প্রতি আমার একান্তই আবেদন এখন যদি এগুলোকে ছোট্ট খাট্ট বিষয় বলেই এড়িয়ে যান তাহলে পরবর্তীতে প্রতিরোধের উপায়ও পাবেন না।

জাতির অস্তিত্ব রক্ষার্থে চাকমা মারমা বড়ুয়া সবাইকে এক হয়ে এগিয়ে যেতে হবে। নচেৎ …….।

ইহাই উপযুক্ত সময় আপনাদের নেতৃত্ব দেওয়ার। শুধু নামে নয় কাজেও যে মিল তা প্রমান করার।

সামাজিক মাধ্যম ফেইসবুকে থেকে এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...

Ads

Recommended For You

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!