‘বৌদ্ধ পারিবারিক আইন’ প্রণয়নের লক্ষে মত বিনিময় সভা অনুষ্টিত

অতীব দুঃখজনক হলেও সত্য বৌদ্ধদের কোনো পারিবারিক আইন নাই। ইতিপূর্বে বেশ কয়বার এই আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখনো পর্য্যন্ত তা আলোর মুখ দেখতে পায় নি। বৌদ্ধদের পারিবারিক আইন প্রণয়নের লক্ষে এক মতবিনিময় সভা গত ৫ এপ্রিল বুধবার পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। তিন পাবর্ত্য জেলার বৌদ্ধ প্রতিনিধিরাও এ মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করে।
সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এর সভাপতিত্ব অনুষ্ঠিত সভায় রাষ্ট্রপতি কার্যালয়ের সচিব সম্পদ বড়ুয়া, পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের সচিব নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা, চাকমা রাজা ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়, ইউএসটিসির উপাচার্য ও বৌদ্ধ গবেষক প্রফেসর ডা. প্রভাত চন্দ্র বড়ুয়া, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বৃষকেতু চাকমা, বান্দরবান পাবর্ত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্য শৈ হ্লা, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী, আওয়ামী লীগের উপ দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, ডিআইজি পি আর বড়ুয়া, অশোক বড়ুয়া, বৌদ্ধ সমিতির সভাপতি বৌদ্ধনেতা অজিত রঞ্জন বড়ুয়া, স্বপন বড়ুয়া চৌধুরী, বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান সুপ্তভূষণ বড়ুয়া, থোয়াই চ প্রু মাস্টার, আশীষ বড়ুয়া প্রমুখ।
.
ইতিপূর্বে যে বৌদ্ধ পারিবারিক আইনের খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে, সে খসড়া নিয়ে মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে তিন পার্বত্য জেলার পাহাড়ি ক্ষুদ্র নৃ-তাত্বিক জনগোষ্ঠির নেতৃবৃন্দের সাথে বিভিন্ন বিষয়ে আলাপ হয়। তারা অভিমত দিয়েছেন পার্বত্যাঞ্চলে বর্তমানে যাদের যে প্রচলিত আইন আছে, সে আইনগুলো বলবৎ থাকবে। বর্তমানে যে আইনের খসড়া প্রণয়ন হয়েছে, সেখানে উল্লেখ করে দেওয়া হবে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয়ের অধীনে তিন পার্বত্য জেলায় পাহাড়ী যে ক্ষুদ্র নৃ-তাত্বিক জনগোষ্ঠি আছে, তারা প্রচলিত আইনে পরিচালিত হবেন। আর তিন পার্বত্য জেলায় যে সমতল বৌদ্ধ জনগোষ্ঠী রয়েছে, তারা বৌদ্ধ পারিবারিক আইনের অন্তর্ভুক্ত হবেন।
 
বৌদ্ধ পারিবারিক আইনের যে খসড়া করা হয়েছে, সেটি নিয়ে আরো কয়েকটি বৈঠক হবে। মে মাসের শেষের দিকে একটি চট্টগ্রামে এবং অন্যটি ঢাকায় জুন মাসে অনুষ্ঠিত হবে। পরবর্তীতে পরিবর্তন, পরিবর্ধন, সংযোজন ও বিয়োজন করে আইনের চূড়ান্ত খসড়া প্রণয়ন করে ধর্ম মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংসদে উত্থাপন করা হবে। সংসদে পাস হলেই আমাদের বৌদ্ধদের দীর্ঘদিনের আশার প্রতিফলন হবে।
সামাজিক মাধ্যম ফেইসবুকে থেকে এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...

Ads

Recommended For You

About the Author: Nivvana TV

1 Comment

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!