বৌদ্ধধর্ম নিয়ে সৌমেন পাত্রের বিভ্রান্তিকর লেখা প্রসঙ্গে

কিছুদিন পর পর আমাদের মুক্তমনারা বৌদ্ধধর্ম নিয়ে বিভ্রান্তিকর কিছু লেখা নিয়ে আসে। পরে অল্প কিছুদিন এই লেখার পক্ষে বিপক্ষে লড়াই চলে একটা সময় লেখাগুলো খেই হারিয়ে ফেলে। ইতিপূর্বে ধর্মানন্দ কোসাম্বীর লিখিত ভগবান বুদ্ধ নামক বই হতে কিছু লেখা প্রচারিত হয়েছিল। তবে বাস্তবে তিনি যে বৌদ্ধধর্মকে বিকৃত করতেই উঠে পড়ে লেগেছিলেন তার প্রমাণ বেশ কয়েকটি লেখায় দিয়েছি। সর্বশেষ অনোমার জন্য একটা লেখা লিখি সেখানে স্পষ্ট করে দেখিয়ে দিয়েছি এশিয়ার প্রথম ডি-লিট ড. বেণীমাধব বড়ুয়া ত্রিপিটক থেকে যে অংশ অনুবাদ করেছেন সেই একই অনুবাদ কোসাম্বী কত বিকৃত করে প্রকাশ করেছেন। আর এ থেকে তার উদ্দেশ্য যে কতটা মহৎ (!!!) তা স্পষ্ট বুঝা যায়। এখন নতুন করে সৌমেন পাত্রের লেখা নিয়ে শোরগোল। বৌদ্ধধর্ম, যুক্তিবাদ ও পুনর্জন্ম নামক লেখাটি দেখি যত্রতত্র শেয়ার করা হচ্ছে রেফারেন্স হিসেবে দেওয়া হচ্ছে। এই ধরণের লেখা বেশি প্রকাশ হতে দেখা যায় গৌতমী সাময়িকী এবং বাংলা পাবলিক ব্লগ সাইট সামওয়্যার ইন ব্লগে গৌতমী সাময়িকীর আইডি থেকে। গৌতমী সাময়িকী হচ্ছে ভিক্ষুণীসংঘের একটি মুখপাত্র। ভিক্ষুণীসংঘের সাথে সংশ্লিষ্টদের ধর্মজ্ঞান সম্পর্কে খুব বেশি ধারণা আমার না থাকলেও ভিক্ষুণীসংঘের যিনি প্রধান গৌতমী (পূর্বের নাম রুনা বড়ুয়া) সম্পর্কে আমার বেশ ধারণা আছে। উনি বিদর্শন সম্পর্কে যথেষ্ট জ্ঞান রাখেন। বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে তিনি আগে বিদর্শন ধ্যান কোর্স পরিচালনা করতেন। তারই কোন সাময়িকী থেকে বৌদ্ধ ধর্মের বিভ্রান্তিকর বিশ্লেষণ নিয়ে এমন লেখা প্রকাশিত হয় দেখে বেশ অবাক হই। ইতিপূর্বে আমার আরেকটি লেখায় লিখেছিলাম নারী জাতির প্রতি আমার সফট কর্ণার আছে বলে আমি কখনো ভিক্ষুণীসংঘের বিপক্ষে লিখিনা তবে তাদের এই রকম বিভ্রান্তিকর লেখার প্রচার দেখে মনে প্রশ্ন জাগে- তবে কি এই কারণেই বুদ্ধ ভিক্ষুণীসংঘের প্রতিষ্ঠার পরপরই বলেছিলেন আজ থেকে আমার শাসনের আয়ু অর্ধেক হয়ে গেল। নতুবা যে রুনা বড়ুয়া সদ্ধর্মের প্রচারে এত অবদান রাখলো তিনি শ্রামণী তথা ভিক্ষুণী হওয়ার পর তার মুখপাত্র থেকে এরকম সদ্ধর্মের অপপ্রচার হবে কেনো?

এসব লেখার বড় পৃষ্ঠপোষক আমাদের স্বনামধন্য বিতার্কিক প্রকৌশলী পুলক কান্তি বড়ুয়া। শুনেছি তিনি এখন গৌতমী সাময়িকীর প্রকাশের দায়িত্ব নিয়েছেন। তবে তিনি বেশি পৃষ্ঠপোষকতা দান করেন তারই পরিচালিত এক মুঠো বৌদ্ধ তরুণ নামক গ্রুপে। সেখানেই এসব বিভ্রান্তিকর লেখা বেশি প্রচার হয়। আবার কিছু ব্যক্তি আছে যারা সেই গ্রুপে সরাসরি ভান্তেদের নিয়ে খুবই জঘণ্য মন্তব্য করে। আমাদের পুলক বাবুকে বেশ কবার বলেছি। বলার পর তিনি আমাকে বলেন ওরা লিখে বলেই তোমরা রসদ পাও, অনেক গুরুত্বপূর্ণ লেখা তোমাদের কাছ থেকে পাই। কথাগুলো কি আসলে আমাকে সান্ত¦না দিয়ে খুশি করার জন্য বলেন নাকি মন থেকে বলেন বুঝতে পারি না। তবে প্রথমটাই হবে বলে মনে করি কারণ তিনি বেশ বুদ্ধিমান এক ব্যক্তি যে কথার যাদুতে পুরো ঘটনা চক্রকে নিজের করে নিতে কয়েক মিনিটের বেশি সময় নেন না। আর এসব চলতে থাকলে তার গ্রুপ যে চাঙ্গা থাকবে সেই চাঙ্গা রাখাটাও তার কৌশলের অংশ হতে পারে বৈ কি! লক্ষ্য যেটাই হোক না কেনো এ ধরণের লেখাগুলো বৌদ্ধ শাসনের জন্য বড়ই ক্ষতিকর। বর্তমান তরুণ প্রজন্ম যদি এটা বিশ্বাস করে যে, জন্মান্তর নাই, স্বর্গ-নরক নাই, পাপ-পুণ্য নাই তবে ইহজীবনে বিপুল সুখ পাওয়ার আশায় পুলক বাবুকে তার অফিসের কোনো কর্মকর্তা যে মেরে ফেলে তার অর্থসম্পদ হাতিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করবেনা তার নিশ্চয়তা কি? কিংবা তার সাথে যারা সব সময় ঘুরাফেরা করে তারা তার পরিবারের বিপরীত লিঙ্গের কারো উপর যে আক্রমণ করে বসবে না সাময়িক সুখের আশায় তারও নিশ্চয়তা কি? কারণ মানুষ দুটি কারণে অপরাধ থেকে দুরে থাকে। একটি ধর্মের প্রতি গভীর বিশ্বাস থাকায় পরলোকেও কষ্ট পাবে বলে আর অপরটি হচ্ছে এই জন্মে দেশের প্রশাসন কর্তৃক সাজা পাবে বলে। অনেকে গোপনে সুযোগ পেয়েও পাপ করে না অনাগত জন্মে বা পরলোকে তার শাস্তি পাবে বলে। কিন্তু যারা সেই পরলোকে বিশ্বাস রাখবে না তারা তো সুযোগ পেলেই পুলক বাবুর পরিবারে হামলা দিবেই।

বিতর্ক দিয়ে ভালো কিছু আনতে চান ভালো কথা তবে সেই লেখাটিও সেই মানের হওয়া চাই যার গবেষণায় সাধারণ মানুষ অনেক কিছু জানতে পারবে যে লেখা বিভ্রান্তি ছড়াবে না। সৌমেন পাত্র যে কিনা নির্বাণের প্রকারভেদ সম্পর্কেও জানেনা তার লেখাকে এত প্রচারের আলোয় এনে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার কারণটা কি?

সৌমেন পাত্র নামক ভদ্রলোক তার লেখার এক অংশে লিখেছেন- “গৌতম বুদ্ধের জীবন সম্পর্কে খুব বেশি তথ্য প্রাচীন বৌদ্ধ গ্রন্থগুলিতে পাওয়া যায় না। তবে যে সামান্য কিছু ….. কোথাও লেখা নেই যে, তিনি মৃত্যুর পর নির্বাণ লাভ করেছিলেন। ….এছাড়া অন্যান্য বহু ভিক্ষুর সম্পর্কেও বলা হয়েছে যে, তারা মৃত্যুর আগেই নির্বাণ লাভ করে অর্হৎ হয়েছিলেন। সুত্ত পিটকের অসংখ্য স্থানে আমরা বুদ্ধের মুখে শুনি যে, তার ধর্মের চুড়ান্ত ফল এই জীবনে পাওয়া যায়, মৃত্যুর পরে নয়। এই বিষয়টিতেও পুনর্জন্মের প্রচলিত ব্যাখ্যা সমস্যার মুখে পড়ে। এই ব্যাখা অনুযায়ী নির্বাণ ও দৈহিক মৃত্যু একসঙ্গে ঘটা উচিত। অর্থাৎ এই তত্ত্ব অনুসারে পয়ত্রিশ বছর বয়সেই বুদ্ধের মৃত্যু হয়ে যাওয়া উচিত ছিল।”

প্রিয় পাঠক, এখানে একটা বিষয় স্পষ্ট হয় পাত্র মহোদয় নির্বাণের যে প্রকারভেদ আছে তা জানেন না। তাই তিনি নির্বাণ লাভের সাথেই মৃত্যুবরণকে টেনে এনেছেন আর মৃত্যু না হলে বৌদ্ধধর্মের পুনর্জন্মের ব্যাখ্যা সমস্যার মুখে পড়ে বলে উল্লেখ করেছেন। অথচ বাস্তবতা হচ্ছে এই আমাদের দেশের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্ররাও জানে নির্বাণ দুই প্রকার। জীবিত অবস্থায় সকল প্রকার তৃষ্ণা ক্ষয়ে যে নির্বাণ অবস্থা প্রাপ্ত হন তা হচ্ছে সোপাদিশেষ নির্র্বাণ আর দেহত্যাগে যখন সবকিছুই শেষ হয়ে যায় তখন তাকে বলে নিরুপাদিশেষ নির্বাণ। বুদ্ধ ৩৫ বছর বয়সে সোপাদিশেষ নির্বাণ প্রাপ্ত হয়েছিলেন আর ৮০ বছর বয়সে নিরুপাদিশেষ নির্বাণ। তাই বহু ভিক্ষুর নির্বাণ প্রাপ্তির কথায় কোনো সমস্যা আসে না। তারা সবাই সোপাদিশেষ নির্বাণ প্রাপ্ত হয়। আর নির্বাণ যে জীবিত অবস্থায় পাওয়া যায় সেটাও প্রশ্নবিদ্ধ হয় না। প্রশ্নবিদ্ধ যেটা হলো সেটা হচ্ছে নির্বাণ সম্পর্কে পাত্রের বিস্তারিত অধ্যয়ন না করা। তিনি অধ্যয়ন না করে উল্টো বুদ্ধের নির্বাণের ব্যাখ্যা কে বিভ্রান্তিতে ফেলতে চেয়েছেন।

আমি এই লেখাটিতে এত বেশি অসংগতি দেখি যে কোনটা ফেলে কোনটা লিখবো ভেবে পাই না। তবু কিছু তুলে ধরার চেষ্টা করছি-

১)  পাত্র মহোদয় লিখেছেন- “প্রতীত্যসমুৎপাদকে তিন জন্মজুড়ে ব্যাখ্যা করার ফলে কেউ যে বর্তমান জীবনের শেষেই নির্বাণ লাভ করতে পারবে, তেমন নিশ্চয়তাও দেওয়া যাচ্ছে না।” প্রকৃত অর্থে নির্বাণ লাভের সাথে অতীত জন্ম আর ভবিষ্যত জন্মটা জরুরী নয়। এই দেহ নামরুপের সমষ্ঠি। নামরূপ থেকে ষড়ায়তন উৎপন্ন হয়, ষড়ায়তন থেকে স্পর্শ উৎপন্ন হয়। স্পর্শ থেকে বেদনা উৎপন্ন হয়। এই বেদনাকে যথাযথ দর্শন করতে পারলেই নির্বাণ লাভ সম্ভব। তাই অতীতের অবিদ্যা, সংস্কার আর ভবিষ্যতের বেদনা থেকে তৃষ্ণা, উপাদান, ভব, জাতি, জরা-মরণেরও কোনো প্রয়োজন নেই। কেবল নামরূপ থেকে বেদনা পর্যন্ত গবেষণা চর্চা করেই বিমুক্তি লাভ সম্ভব। পাত্র মহোদয়ের এ বিষয়ে যথার্থ অধ্যয়ন নেই বলেই নির্বাণ লাভ করতে তিন জন্ম লাগবেই কিংবা এই বর্তমান জন্মে নির্বাণ লাভের নিশ্চয়তা নাই বলে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন।

২)  পাত্র মহোদয় এক অংশে লিখেছেন- “প্রতীত্য-সমুৎপাদের চক্রটি ব্যাখ্যা করার সময় নামরূপের এই সংজ্ঞাকে সামান্য পরিবর্তন করে বলা হয়, বিজ্ঞান নামের অংশ নয়।”… এই কথাটি একদম ডাহা মিথ্যা কথা, উদ্ভট কথা। কারণ নাম বলতে স্পষ্ট করেই বলা আছে- বেদনা, সংজ্ঞা, সংস্কার ও বিজ্ঞানের সমষ্টি হচ্ছে নাম। অর্থাৎ এই বিজ্ঞান নামেরই অংশ যা স্বতন্ত্র ভুমিকা রেখে নাম-রূপ উৎপন্নে প্রত্যয় হিসেবে কাজ করে। ডিমের কুসুমকে আলাদা করে কুসুম বলা হলেও ডিমে যুক্ত হলে একত্রে ডিমই বলা হয়। তেমনটা অবিদ্যা, সংস্কার হয়ে যে বিজ্ঞান উৎপন্ন করে সেই বিজ্ঞানই পরে নামরূপে একত্রিত হয়ে যায়। তাই বলে বিজ্ঞান নামের অংশ নয় এটা কোথাও উল্লেখ নাই। এটাও তার বিভ্রান্তি।

৩)  এই  ভদ্রলোক বিজ্ঞান আর বেদনার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে আরো বেশি বিভ্রান্তি ছড়িয়েছেন। তিনি লিখেছেন “একই জন্মে দুবার বিজ্ঞানের সৃষ্টি হতে পারে না।” বিজ্ঞান শব্দের অর্থ চিত্ত, মন ইত্যাদি। এখন পাঠক আপনারাই ভেবে দেখুন তো চিত্ত তো মুহুর্তে মুহুর্তে পাল্টায় মুহুর্তে মুহুর্তে উৎপন্ন হয়। যেই চিত্ত বা মন এখন আমেরিকা যেতে আগ্রহী হলো সেই মন একটু পর সেখানে না গিয়ে অন্য কোথাও যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করতে পারে । এসব হয় মনের প্রতি মুহুর্তের পরিবর্তন এর ফলে। যেখানে অসংখ্য চিত্ত বা মন পাওয়া যায় বুদ্ধ যেখানে ৮৯ আবার ১২১ প্রকার চিত্তের কথা বলেছেন সেখানে পাত্র মহোদয় বলছেন একই জন্মে দুবার বিজ্ঞান সৃষ্ঠি হতে পারে না। এখন বলুন তার সম্পর্কে কি বলা যায়।

৪)  তিনি লিখেছেন-“চিত্ত কিন্তু পঞ্চস্কন্ধের অংশ নয়।” পাত্র মহোদয় চিত্ত আর বিজ্ঞান কি জানেন না। রূপ, বেদনা, সংজ্ঞা, সংস্কার ও বিজ্ঞান এই পঞ্চকেই পঞ্চস্কন্ধ বলে। এখানে বিজানন শক্তি আছে বলে বিজ্ঞান, চিন্তন করে বলে চিত্ত, আর মনন করার শক্তি আছে বলে মন। অর্থাৎ চিত্ত, বিজ্ঞান, মন পরস্পর প্রতিশব্দ। আর পাত্র বাবু জানেন না যে চিত্ত আর বিজ্ঞান এক তাই বলছেন চিত্ত পঞ্চস্কন্ধের অংশ নয়।

৫)  তিনি বুদ্ধ শ্বাশতবাদ ও উচ্ছেদবাদ বিশ্বাস করতেন না বলে বিশ্লেষণ করেছেন আবার পাত্র মহোদয় নিজেই যে উপসংহারে বৌদ্ধধর্মকে উচ্ছেদবাদ হিসেবে প্রকাশ করেছেন তা বুঝতে পারেন নাই। কারণ জন্মান্তর বলতে কিছু যদি না থাকে এ জন্মেই সব শেষ হয়ে গেলে সেটা তো উচ্ছেদবাদই হয়। তার মানে একই লেখায় তিনি পরস্পর স্ববিরোধী মন্তব্য জুড়ে দিয়েছেন।

প্রিয় পাঠক, উদ্ভট লেখাটিতে এরকম আরো অসংখ্য অসংগতি দেখাতে পারবো তবে এতটা পড়ার মতো স্থিরতা আপনাদের থাকবে না কি না সন্দেহ। আবার আমি নিজেও লিখতে লিখতে রীতিমতো কুল কিনারা পাচ্ছিনা কত ব্যাখ্যা দেব তাই থামতেছি।

শেষ করার আগে বলতে চাই-পাত্র বাবু যুক্তিবাদ, বিজ্ঞান নিয়ে অনেক বড় সুচনা দিয়েছেন। তিনি কি জানেন আইনস্টাইন বলেছেন- Science without religion is lame, religion without science is blind। এটা বলার কারণ হচ্ছে বিজ্ঞান যুক্তি দিতে দিতে এক পর্যায়ে থেমে যায় আটকে যায় যার ব্যাখ্যা দেয় ধর্ম তাই বলা হচ্ছে ধর্ম ছাড়া বিজ্ঞান খোড়া, আর বিজ্ঞান ব্যতীত ধর্ম হলে সেটা অন্ধ বিশ্বাসে ভরপুর হয়ে যায়। বৌদ্ধ ধর্মে অন্ধ ভাবে কাউকে কোন কিছু গ্রহণ করতে বলে নাই আর এ যুক্তিতে পাত্র বাবু তার লেখার শুরুতে বলতে চেয়েছেন পরকাল দেখা যায় না তাই জন্মান্তর প্রশ্নবিদ্ধ। পাত্র বাবু লিখেছেন- বৌদ্ধধর্মে সাধারণভাবে অন্ধ বিশ্বাসের পরিবর্তে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাকেই মূল্য দেওয়া হয়। ..অতএব আপনিও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা দিয়ে বৌদ্ধধর্মকে জানতে শিখুন। আপনি ভবিষ্যত জন্ম দেখছেন না, অতীত জন্ম দেখছেন না কিন্তু বর্তমান জন্ম ঠিকই দেখছেন। আপনি স্পষ্টতই দেখছেন জমজ দুই ভাই জন্ম নিয়েও এক ভাই প্রচন্ড মেধাবী হয় আবার অন্য ভাই বিপরীত হয়। একই পিতা একই মাতা হওয়া সত্বেও কর্মবিপাকের কারণে কত যে ভিন্নতা তা দেখতে পরকাল বিশেষজ্ঞ হতে হয় না। পরিশেষে পাত্র বাবুর দেওয়া অলর্গোপম সুত্রের রেফারেন্স অনুসারে বলতে চাই সাপকে লেজে না ধরে গলায় উপযুক্ত জায়গায় ধরার চেষ্টা করুন। বৌদ্ধধর্ম তথা প্রতীত্যসমুৎপাদ বিশদ ব্যাখ্যা করার আগে এই বিষয়ে প-িত ব্যক্তিদের শরণাপন্ন হোন। যথাযথ জানুন। আর তাহলেই সাপকে যথোপযুক্ত ধরা হবে নতুবা লেজে ধরতে গিয়ে কামড় খেতে হবে।

  • লেখক : সরকারী কর্মকর্তা, বাংলাদেশ সুপ্রীমকোর্ট, হাইকোর্ট বিভাগ, ঢাকা।
সামাজিক মাধ্যম ফেইসবুকে থেকে এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...

Ads

Recommended For You

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!