বিংশ শতাব্দীর অর্হৎ মোগোক স্যাদোর কথা

পূজ্য ভান্তে তাঁর সাথে অবস্থানকারী তিনজন স্যাদোর সাথে স্যুাপ এবং পরে কফি খেলেন। তারপর তাঁদের সাথে ছবি তুললেন। একটু আগেও যিনি সম্পূর্ণ সুস্থ ছিলেন তাঁর কথাগুলো ধীরে ধীরে অস্পষ্ট হয়ে উঠছে দেখে উপস্থিত উপাসক-উপাসিকারা পূজ্য ভান্তেকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে চাইলে ভান্তে বললেন, ডাক্তার আনতে চাইলে দুপুর ০১.৩০ মিনিট-এর পর আনিও। কারণ ভান্তে যে জানেন তার পূর্বেই তিনি নির্বাপিত হবেন। তারপরও উপাসক-উপাসিকারা ডাক্তারকে খবর পাঠালেন।

 (পরিনির্বাণের অল্পক্ষণ পূর্বেই কফি পান করছেন পূজ্য ভান্তে)

এদিকে ভান্তে উ থান মং -কে ডেকে বললেন, আমি বুঝতে পারছি এই খন্ধ অনেকবড় বোঝা, আসো আমাকে জঞ্জাল পরিস্কারে সহায়তা করো বলে বিশ্রাম কক্ষে শুয়ে পড়লেন। ইতিমধ্যে ডাক্তাররা এসে পড়লে ডাক্তারদের বললেন, তোমাদের ইচ্ছা হলে ইনজেকশান পুশ করতে পারো, করলে তা এখনই করো, তবে ঐ ইনজেকশান তেমন কিছুই করতে পারবে না। এখানেও ভান্তে পরোক্ষভাবে নির্দেশ করলেন যে, তাঁর মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী কোনো কিছুই এই মৃত্যুকে আটকাতে পারবে না। অতঃপর দুপুর ০১টায় সবার উদ্দেশ্যে তিনি শেষ উপদেশ প্রদান করলেন এভাবে- তোমাদের দেহ আছে, সকলেই বেদনা দর্শন কর। যেটা অবশ্যই অভিজ্ঞতা অর্জনে সহায়তা করবে। অর্থাৎ তিনি বেদনানুদর্শী হয়ে অবস্থান করার উপদেশ দিলেন। ১৭ অক্টোবর ১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দ বেলা ০১ টা ২০ মিনিটে অসংখ্য ভক্তানুরাগীকে কাঁদিয়ে মহাপ্রয়াণ ক্ষণজন্মা এই মহাপুরুষের। এতক্ষণ ধরে আলোকিত মহাজীবন মোগাক স্যাদো নামে খ্যাত উ বিমল মহাস্থবিরের কথা বলছিলাম।

পূজ্য ভান্তের প্রয়াণের পর তাঁর দেহ সংরক্ষণের জন্য ডাক্তাররা শরীরে ইনজেকশান পুশ করার চেষ্টা করে বার বার ব্যর্থ হলো। কথিত আছে, সাতদিন চেষ্টা করেও ভান্তের দেহে ডাক্তাররা কোনো রকম ঔষধ প্রবেশ করতে ব্যর্থ হন। এদিকে দেহে কোনো ধরণের পঁচনও আসে নি। এভাবে ৭৫ দিন সংরক্ষণের পর তাঁর দেহখানি দাহ করার উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ করে দেখা যায় একদল মৌমাছি এসে বহনকারীদের সাথে ভোঁ ভোঁ শব্দে মঞ্চের দিকে যাওয়া শুরু করলো। মনে হচ্ছে যেন মৌমাছিরাই নেতৃত্ব দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে পূজ্য ভান্তের দেহটিকে। এরকম ঘটনা ইতিপূর্বে ভান্তের জীবিত থাকাকালীন সময়ে আরও দুবার ঘটেছিল। একবার শ্রামণ থাকাকালীন নিজের চীবরটি খুলে একটি তারের উপর রাখার পর আকষ্মিকভাবে অনেকগুলো মৌমাছি এসেছিল সেই চীবরের উপর। অপরটি ঘটে ভান্তে যেদিন উপসম্পদা গ্রহণ করেছিলেন সেদিন।

যাই হোক, পূজ্য ভান্তের দাহক্রিয়া শেষে অদগ্ধ কেশ, চোখ, দাঁত ও অন্যান্য ধাতুগুলো পাওয়া গেল। আর এতেই প্রমাণিত হলো পূজ্য ভান্তে ছিলেন বিংশ শতাব্দীর অর্হৎ। জীবিত থাকাকালীন সময়ে কেউ কেউ ধারণা করলেও ভান্তে যে অর্হৎ ছিলেন এটা নিশ্চিত করে কেউই জানতেন না। কেবলমাত্র ধাতু পেয়ে সবাই জানতে পারেন পূজ্য ভান্তে যে অর্হৎ ছিলেন সে বিষয়ে। সদ্ধর্মের এক আলোকবর্তিকা, এক রত্নকে হারিয়েই কেবল সাধারণ লোকেরা নিশ্চিত হতে পেরেছিলেন পূজ্য ভান্তের অর্হত্ত্বফল প্রাপ্তি সম্পর্কে, তার আগে নয়।

আলোকিত এই পূণ্য প্রতিভার জন্ম হয় ১৮৯৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর মতান্তরে ২৭ ডিসেম্বর। তাঁর গৃহী নাম ছিল মং হলা ব । মাত্র নয় বছর বয়সেই তিনি প্রব্রজিত হন। ১৯২০ খ্রিষ্টাব্দে তিনি প্রথমবার এবং ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে দ্বিতীয়বার উপসম্পদা গ্রহণ করেন। অভিধর্ম শিক্ষার জন্য তিনি জন্মস্থান ছেড়ে অমরাপুর চলে আসেন শ্রামণ থাকাকালেই। বিখ্যাত অভিধর্মাচার্য উ ওন (ট ঙযহ) এর নিকট তিনি অভিধর্ম অনুশীলন করেন। গুরুর প্রয়াণের পর ১৯২৫ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ত্রিপিটক শিক্ষাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সেই থেকে টানা ত্রিশ বছর প্রতিদিন রাতে অভিধর্ম শিক্ষা প্রদান করেছেন। সমগ্র মায়ানমার থেকে শিক্ষার্থী চলে আসতো তাঁর কাছে। মোগোক শহরের নামানুসারেই পূজ্য ভান্তেকে মোগোক স্যাদো বলে ডাকা হতো। কিভাবে এক জন্ম থেকে অন্য জন্মের উৎপত্তি, এই জন্মান্তরের নিরোধ কিভাবে করা যায় ইত্যাদি সহ প্রতীত্যসমুৎপাদ নীতিকে ভিত্তি করে তিনি একটি গোলক তৈরী করেন। কিভাবে সহজে বিমুক্তি লাভ করা যায় তার বর্ণনা দিতেন এই গোলকের দ্বারাই।

স্যাদোর নির্দেশনা পদ্ধতি :

স্যাদো স্বীয় অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞানের দ্বারা বুঝতে পেরেছিলেন যে, প্রত্যেক মানুষের মধ্যে আত্ম অহংকার বিদ্যমান থাকে। সবাই আমার শব্দটিকে অনেক বেশি গুরুত্ব দেয়। আর তাই তিনি যতটুকু সম্ভব ব্যক্তির এই আমার নামক গৌরবটাকে ধ্বংস করানোর চেষ্টা করতেন। তারপরেই বিদর্শন নিয়ে দিক নির্দেশনা দিতেন। সমাজে কোন ব্যক্তির কোন অবস্থান সেটাকে কখনো তিনি গুরুত্ব দিতেন না। তিনি সরাসরি ব্যক্তির দোষগুলো এবং মিথ্যাবিশ্বাসসমূহ তুলে ধরতেন। বিদর্শন সম্পর্কে কিছু বলার আগে তিনি প্রথমে আমাদের সংসারবর্ত নিয়ে উপদেশ দিতেন। কিভাবে আমরা ভবচক্রে ঘুরছি, কিসের কারণে এই শৃঙ্খল থেকে মুক্তি পাচ্ছিনা তা তিনি দেখিয়ে দিতেন। প্রচলিত গল্পকাহিনী সমূহের বর্ণনা দিয়ে তিনি প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণা কিংবা মিথ্যাদৃষ্টিসমূহকে তুলে ধরতেন। বর্ণনা করতেন কিভাবে আমি, আমার এই শব্দগুলোর মধ্যে আমরা কেন্দ্রীভূত আছি। এই ভ্রান্তদৃষ্টি সম্পর্কে জ্ঞান প্রদান করে তা অপসারণ করার চেষ্টা করতেন।

(ভান্তের ব্যবহৃত চক্র এবং পরিনির্বাণের পরে প্রাপ্ত অদগ্ধ চোখ, কেশ, দাত এবং দেহ থেকে প্রাপ্ত অন্যান্য ধাতু সমূহ)

বুদ্ধের অভিধর্ম নিয়ে গবেষণার পর তিনি এটা বুঝতে পেরেছিলেন যে, প্রথমেই সব ধরনের দৃষ্টি বা ভ্রান্ত ধারণা দূর করতে হবে যা প্রতীত্যসমুৎপাদ জ্ঞান অর্জনে বাধা প্রদান করে। আর তাই তিনি পরবর্তীতে প্রতীত্যসমুৎপাদ নিয়েই বিশদ বর্ণনা দিতেন। ব্যাখ্যা প্রদান করতেন সম্ভাব্য বাঁধাসমূহ নিয়ে। তিনি মনে করতেন মিথ্যাদৃষ্টিসমূহ দূর না করে শুধু ধ্যানানুশীলনে লেগে থাকলে সেই ধ্যান হবে দুর্বল যা দ্বারা মার্গ জ্ঞান লাভের স্তরে  পৌঁছানো কঠিন হবে। তিনি যাবতীয় বাঁধা অনুধাবন, অপসারণ তথা, জন্ম-মৃত্যুরকারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রতীত্যসমুৎপাদ নীতির উপর জোর দিতেন।

খন্ধ বা স্কন্ধকে পর্যবেক্ষণ করেই মোগোক স্যাদো পূর্বোল্লোখিত গোলক অঙ্কন করেছিলেন যাতে ধ্যানী খুব সহজেই নিজের স্কন্ধসমূহ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে পারে। স্কন্ধসমূহ হচ্ছে সৃষ্টি এবং ধ্বংসের প্রক্রিয়া। আর এই সৃষ্টি এবং ধ্বংস হচ্ছে দুঃখ এবং যন্ত্রণারই নামান্তর। আর এই দুঃখ যন্ত্রণাই হচ্ছে দুঃখ সত্য। শাশ্বত, উচ্ছেদ এবং সৎকায় দৃষ্টি ধ্বংস করে ধ্যানীকে স্কন্ধকে দর্শন তথা ইহার মর্মার্থ নির্ণয় করতে হয়। স্যাদোর মতে, অবিদ্যা এবং তৃষ্ণার উপর নির্ভর করে নাম-রূপ উৎপন্ন হয়। বৃক্ষ হতে বীজ কিংবা বীজ হতে বৃক্ষের ন্যায় উপাদান এবং ভবের কারণে হেতুসমূহ অনন্তকাল চলতে থাকে। আবার নাম-রূপের কারণে কর্ম উৎপন্ন হয়। এই কার্যকারণবশতা জ্ঞান দ্বারা বুঝতে হয় এটা কোন সৃষ্টিকর্তা কিংবা ব্রহ্মার কর্ম নয়।

প্রতীত্যসমুৎপাদ অত্যন্ত গম্ভীর তাই ধ্যানীর এই নীতি পাঠ এবং অধ্যয়ন করা উচিত যতক্ষণ না তিনি একটির সঙ্গে অপরটির যথার্থ সম্পর্ক স্থাপন করতে পারছেন। স্যাদো চারটি ধাপের কথা উল্লেখ করেছেন-

১.       ধ্যানী যখন প্রতীত্যসমুৎপাদ নীতি অনুধাবন করতে সমর্থ হবেন তখন তিনি উদয়-বিলয়ের গতিবিধি সম্যক দৃষ্টি দ্বারা দর্শনে সমর্থ হবেন অর্থাৎ স্কন্ধের উদয় সম্পর্কে যথার্থরূপে জানতে সমর্থ হবেন। ফলে তার উচ্ছেদ দৃষ্টি বা ভ্রান্ত ধারণা বিলীন হবে। যখন তিনি স্কন্ধের বিলয় এবং পুনরায় উৎপত্তি পরিপূর্ণভাবে বুঝতে সমর্থ হবেন তখন তার শাশ্বত দৃষ্টি বিলীন হবে। যখন তিনি উদয়-ব্যয় জ্ঞান পরিপূর্ণভাবে অনুধাবন করতে পারবেন তখন তিনি বুঝতে পারবেন যে যাবতীয় সৃষ্টি কিংবা ধ্বংস কার্যকারণনীতিরই অংশ যেখানে পুরুষ, মহিলা, আত্মা বলে আলাদা কিছু খুঁজে পাওয়া যাবেনা ফলে সৎকায়দৃষ্টিও বিলুপ্ত হবে।

২.       উৎপত্তি এবং বিনাশকে যথার্থরূপে অনুধাবন করতে পারলে ধ্যানীর প্রত্যয়-পরিগ্রহ-জ্ঞান উৎপন্ন হয়।

৩.      অবিদ্যা, তৃষ্ণা, সংস্কার কীভাবে পঞ্চস্কন্ধ তৈরি করছে তা জানতে পারলে নাস্তিকদৃষ্টি, অক্রিয়াদৃষ্টি এবং অহেতুকদৃষ্টি দূরীভূত হয়।

৪.       ধ্যানী প্রতীত্যসমুৎপাদনীতি গভীরভাবে অনুধাবন করলে বুঝবেন শারীরিক কিংবা মানসিক সবকিছুই প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে একটা স্বাভাবিক নিয়মে। ধ্যানী যখন পঞ্চস্কন্ধ সম্পর্কে যথার্থ জ্ঞান অর্জন করে তখন এই পঞ্চস্কন্ধকে দুঃখের আকর হিসেবেই জানে। ফলে ধ্যানীর অপায়গতি নিরুদ্ধ হয় (সাময়িকভাবে)।

আর তাই বারবারই প্রতীত্যসমুৎপাদনীতি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের উপর জোর দিতেন তিনি।

বিদর্শন অনুশীলনে প্রয়োজনীয় বিষয় :

বিদর্শন ভাবনায় উন্নতি অর্জনের জন্য কিছু বিষয় অনুসরণ করা প্রয়োজন। তা হচ্ছে-

১। ক. প্রথমে অভিজ্ঞ ধর্মাচার্যের কাছে ধর্মশিক্ষা এবং বিদর্শন অনুশীলনের কৌশল রপ্ত করা জরুরী। এক্ষেত্রে ধর্মাচার্য কমপক্ষে স্রোতাপত্তিফল লাভ করেছেন এমন কেউ হলে বেশ ভালো হয়। কারণ একজন স্রোতাপন্ন ব্যক্তি যথার্থ পথে হাঁটছেন বলে ধরে নেওয়া যায়।

খ. ধর্মশ্রবণ ভাবনাকারীকে অনেকদূর এগিয়ে দিতে পারে। এটি সবধরণের সন্দেহ এবং ভ্রান্ত ধারণা দূর করে একটি নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে দেয়। যা সম্যক দৃষ্টি এবং জ্ঞান অর্জনে সহায়তা করে। এটি মনকে স্বচ্ছ ও অচঞ্চল করে তোলে। এটি যোগীর মন থেকে ক্লেশ এবং নীবরণ দূরীকরণে সহায়তা করে। ধর্মশ্রবণ সন্দেহময় চিত্তকে স্বচ্ছ, সরলচিত্তে রূপান্তর করে।

২। এবার শ্রবণকৃত ধর্ম এবং অর্জনকৃত কৌশল আত্মমুক্তির জন্য অনুশীলনে কাজে লাগাতে হবে।

৩। শীল, সমাধি, বীর্যের অনুশীলনে রত হয়ে কেউ যদি সম্যক সমাধি দ্বারা সম্যক প্রচেষ্টা চালায় তবে অচিরেই তিনি মার্গফল লাভ করে পরিপূর্ণ জ্ঞানার্জন নির্বাণের দিকে এগিয়ে যাবেন।

ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে যাওয়া জরুরী। তাই প্রথমেই অনুশীলন শুরু করা উচিত নয়। যদি ধ্যানীর সম্যক প্রচেষ্টা থাকে এবং সম্যক পথের প্রদর্শক থাকেন তবে তিনি অবশ্যই নির্বাণ লাভ করবেন। একবারে নির্বাণ লাভ সম্ভব না হলেও অন্ততঃ স্রোতাপত্তিফল লাভী হতে পারবেন। মহাসতিপট্ঠান সূত্রে পাওয়া যায়, এভাবে ধ্যানানুশীলনে রত থাকলে সাতদিনে, পনেরদিনে, একমাসে এভাবে সর্বোচ্চ সাত বছরের মধ্যে ধ্যানী মার্গফল লাভ করবেন। এই সময়ের মধ্যেও ফল লাভ করতে না পারলে পুনরায় সদ্ধর্ম শ্রবণের মাধ্যমে সম্যক প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। এখানে মনে রাখা উচিত যে, বুদ্ধ ছাড়া কেউই ধর্মশ্রবণ ছাড়া স্রোতাপত্তিফলও লাভ করতে পারেনি। ধর্ম শ্রবণ এবং অধ্যয়ন ছাড়া অনুশীলনে মার্গ লাভ অধিকতর সময়সাপেক্ষ হবে। এখানে মনে প্রশ্ন জাগতে পারে কী ধরনের ধর্ম শ্রবণ করতে হবে? প্রথমত, বার বার জন্মলাভের মূল কী সেই তত্ত্ব জানতে হবে। এর ফলে তিনি অনিত্য, দুঃখ, অনাত্মার লক্ষণ সম্পর্কে জানতে পারবেন। কেউ যদি ধ্যানানুশীলনে অনিত্যকে দর্শন করতে পারে তবে তিনি দ্রুত হোক বা দেরীতে হোক স্রোতাপত্তি ফল লাভ করবেনই। নির্বাণ এই জন্মেই লাভ সম্ভব, মৃত্যুর পরে নয়।

আলোকিত মহাজীবন মোগোক স্যাদো এই জন্মেই অর্হত্ত্বফল লাভ করেছেন যা নিশ্চিতরূপে প্রমাণিত হয় ধাতুপ্রাপ্তির মধ্যমে। প্রয়াণের পূর্বে তাঁর কাছের শিষ্য-সেবকদের নানা দিক নির্দেশনা দিয়ে গেছেন পরোক্ষভাবেই, অর্থাৎ তিনি নিজে তাঁর অর্হত্ত্বফল লাভের বিষয়ে জেনেও তা প্রকাশ করেন নি কারো কাছে। পূজ্য ভান্তের জীবন চরিত পড়ে আমাদের শিখার আছে অনেক কিছুই। বিংশ শতাব্দীর এই প্রমাণিত অর্হৎ এর পাদমূলে বন্দনা নিবেদন করছি। সকলেই সত্য পথের পথিক হোক, সকলেই প্রজ্ঞা লাভ করুক-এই কামনা করছি।

 

(পূজ্য ভান্তের জীবন এবং দেশনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পড়–ন ১) চতুরার্য সত্যের ব্যবহারিক বিদর্শন ২) আলোকিত মহাজীবন মোগোক স্যাদো)

লেখাটি বুড্ডিস্ট ডেভেলপমেন্ট ট্রাস্ট কর্তৃক শরণ নামক ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছে।

লেখক : সরকারী কর্মকর্তা, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট, হাইকোর্ট বিভাগ, ঢাকা।

সামাজিক মাধ্যম ফেইসবুকে থেকে এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...

Ads

Recommended For You

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!