প্রেমান্ধে ধর্মান্তকরন

নশ্বর সুজয়,  অস্ট্রেলীয়ার সিডনি থেকে ঃ

প্রেমের টানে মা বাবা আত্মীয় স্বজন ধর্ম ত্যাগ করে নিজেকে ধন্য মনে করছেন?
ভবিষ্যতের বাকি দিনগুলোর কথা ভেবেছেন? কেমন হবে ঐ কল্পিত জীবন?
আমাদের সমাজে এমন প্রমান ভুড়ি ভুড়ি প্রেমে মোহান্ধ হয়ে ধর্ম সমাজ আপন চেনা জগৎ ছেড়ে আখেরে কপালে জুটে করুন পরিণতি।


নিজেকে নিজে একটু জিজ্ঞাসা করুন!
সতি্যই যদি প্রেম এতটাই গভীর নিখুঁত হয় তাহলে সেখানেই ধর্ম ত্যাগের বিষয়টি আসে কেমনে?
আপনার বিশ্বাসের, আপনার চৌদ্দপুরুষের সম্পর্ককে, আপনার মাতাপিতা আত্মীয়কে কেনই বা ঐ মানুষটির জন্য
তুচ্ছ করতে হচ্ছে?

একবার ভেবেছেন, আপনার ঐ মানুষটি তার ষোলআনা ঠিকই পরিপূর্ণ ধরে রেখেছে। মাঝখানে ফেসে গেলেন আপনি। ফেসে গেল আপনার পরিবার আপন চেনা জগত।
ফেসে গেল যারা তিল তিল করে আপনাকে গড়ে তুলেছে তাঁরাই।
ভালোবেসে অনেকেই ধর্ম তুচ্ছজ্ঞান করে ধর্মান্তরি হন। কিন্তু তাতে আখেরে কার কি লাভ হয় ?

ধর্মান্তর মানে শুধু ধর্ম ত্যাগ করা নয়। পরিবার ও চির চেনা আত্মীয় স্বজনদেরও ত্যাগ করে সম্পূর্ণ একা হয়ে যাওয়া। এই প্রক্রিয়ায় সবচাইতে ক্ষতিগ্রস্ত হন যিনি ধর্মত্যাগ করেন, তিনি। ভালোবাসার মানুষকে পাবেন বলে, বাকিসব ছাড়লেও আখেরে হারান সব।

ধর্মান্তরের ভালোবাসার পরিণতি হলো আজীবন মুখবুজে শুধু সহ্য করে যাওয়া। কেউ একথা মুখ ফুঁটে বলে, আর সিংহভাগই বলতে পারে না। বাস্তবে ভালোবাসার আবেগ ও উৎসর্গ কিছুই পারিবারিক ও সামাজিক জীবনের বাঁধাগুলোকে অতিক্রম করতে সাহায্য করতে পারে না। অতঃপর জীবন একটা যন্ত্রণা হয়ে ওঠে।

আমার চেনা জানা যতজন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাদের সিংহভাগের পরিণতিই মুখ বুজে সব সহ্য করার অবস্থানেই গিয়ে ঠেকেছে।

আমাদের সমাজ আসলেই ধর্ম ও সামাজিক নিয়ম কানুনে বাঁধা। চাইলেই তার বাইরে যাওয়া কঠিন। আর কেউ গেলেও তাকে চড়ামুল্য দিতে হয়।

তখন প্রিয় মানুষটি আর প্রিয় থাকে না, উঠতে বসতে মাথা নিচু করে থাকতে হয়, নিজের পারিবারিক পরিচয়ের লেশটুকুই তুলে ধরার সুযোগ হয় না। শত নির্যাতিত হওয়ার পরও মনের কথা খুলে বলার কাউকে পাবেন না। ঐ খানে মা বাবা সমাজ গিয়েও আপনাকে সান্ত্বনা বা সমাধান দিতে কিছুতেই সম্ভব নয়।

তখন উপায় একটা , না হয় আত্মহত্যা আর না হয় আবার ঘরে ফেরা। ঐ ঘরে ফেরা মানেই তো আপনি মা বাবা সমাজ সবখানেই বোঝা, সবখানেই নিজের ব্যর্থতার স্বীকার হবেন। কারো সামনে মুখ তুলে দাড়াতে পারবেন না।  জীবন্ত অগ্নিকুণ্ডে জ্বলবেন অহোরাত্র। পরে বাকি জীবনে আর স্বগোত্রিয় কাউকে জীবনের অবলম্বনও করতে পারবেন না। এ হলো ধর্মান্তরিত হওয়ার শেষ পরিনতি।

মূলত এমন বিপত্তির স্বীকার হন আমাদের সমাজের প্রথম সারির বাবুরাই। এদের মূল গলদ হলো- এরা নিজেদের ছেলে মেয়েকে আপন সমাজ, ধর্ম , জাতি সবগুলো থেকে বিছিন্ন রাখে। ছোট্টকাল থেকে সমাজ বিমুখী শিক্ষাই এর জন্য দায়ী। এরা বিহারে সভা সমিতিতে ভিক্ষুদের উপর কর্তৃত্ব দেখাতে পারে, ইসপিকারে বড় বড় বক্তব্য দিতে জানে কিন্তু নিজেদের ছেলেমেয়েদেরকে ধর্মচর্চায় নিরুৎসাহিত করে। এদের ছেলেমেয়েদেরকে বিহারমুখী ধর্ম মুখী সমাজমুখী আপন জাতিমুখী শিক্ষা থেকে বণ্চিত রাখে। ফলে পরিশেষে মা বাবা সমাজ ধর্ম সবাইকে তুচ্ছজ্ঞানে ত্যাগকরতে দ্বিধান্বিত হন না। অন্তে মা বাবা পরিবার সবাইকে বহন করতে হয় কলঙ্কের বোঝা।

সামাজিক মাধ্যম ফেইসবুকে থেকে এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...

Ads

Recommended For You

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!