প্রসঙ্গ রোহিঙ্গাঃ দৃষ্টিভঙ্গি বনাম মানবতা

জেসি বড়ুয়াঃ *বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে কোন দেশ বাংলাদেশকে সবচাইতে বেশি অনুদান দিয়েছ?
-জাপান (কেউ কিন্তু বলে না বৌদ্ধরা)
*বাংলাদেশকে সবচাইতে বেশি প্রযুক্তিগত সহায়তা দেয় কোন দেশ?
– সেটাও জাপান
হলি আর্টিজেন এর জঙ্গি হামলার পর যেখানে বেশিভাগ বিদেশি সাহায্যকারী সংস্থা বাংলাদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল, সেখানে বাংলাদেশের মেট্রোরেল, কর্ণফুলি টানেল প্রকল্পের প্রধান জাপানী প্রকৌশলীরা হলি আর্টিজেন এর জঙ্গি হামলায় প্রাণ হারানোর পরও জাপান তার সাহায্যের হাত বাংলাদেশ থেকে সরিয়ে নেয়নি।
*বাংলাদেশের স্বাধীনতায় প্রথম স্বীকৃতিদানকারী দেশ কোনটি?
-ভূটান ( কেউ কিন্তু বলে না বৌদ্ধরা!)
(যদিও বিগত দেড় বছর থেকে ভারত এই স্থানের দাবী করে আসছে, আর বাংলাদেশও রাজনৈতিক কারণে তা মেনে নিয়েছে!)
-আমরা ইরাক-ইরানের যুদ্ধ বলি। বলি না মুসলমান-মুসলমানের যুদ্ধ!
-এখন সৌদিআরব ইয়েমেনের উপর হামলা করছে। আমরা বলছি না মুসলিম -মুসলিমের ওপর হামলা করছে!
-আইএস সিরিয়ার মানুষ মেরেছে। আমরা কেউ বলি নাই ইসলামী সংগঠন মুসলিমদের মেরেছে!
-লাদেন যখন ২০০০ সালে আফগানিস্থানে শত বছরের বৌদ্ধ স্হাপত্য চীন কিনে নিতে চাওয়ার পরও বোমা মেরে ধ্বংস করেছিল, তখন আমরা বলেছিলাম আল-কায়েদা / লাদেন বৌদ্ধ সভ্যতা ধ্বংস করেছে। আমরা বলিনি মুসলমানরা বৌদ্ধ সভ্যতা ধ্বংস করেছে।
-রামুতে সম্রাট অশোকের তৈরী ৩০০ বছরের পুরানো বিহারে অগ্নি কান্ডের পর সেটা সন্ত্রাসী হামলা বলে অভিহিত করেছিলাম আমরা। আমরা বলিনি মুসলিমরা বৌদ্ধদের স্থাপত্য ধ্বংস করেছে।
-জাতিগত বিদ্বেষের কারণে পাকিস্তান বাঙ্গালীদের আক্রমণ করেছিল। আমরা বলি না -পাকিস্তানি মুসলমান বাংলাদেশী মুসলমানদের হত্যা করেছিল!
.
কিন্তু মিয়ানমার-রোহিংগা ইস্যুতে বেশিভাগ সময়ই আমাদের শুনতে হয়- বৌদ্ধরা মুসলিমদের মারছে!!
রোহিংগারা হচ্ছে একটা জাতিগোষ্ঠী। যেখানে মুসলিম,হিন্দু উভয় ধর্মের মানুষ আছে। সংঘাতটা সৃষ্টি জাতি নিয়ে। ধর্ম নিয়ে না। কারণ মিয়ানমারের ১৩৯টা জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যান্য জাতির মানুষদের নিয়ে তাদের (মিয়ানমারের) সমস্যা হচ্ছে না। তাদের তারা বের করে দিচ্ছে না!
ব্যক্তিগত ভাবে মিয়ানমারের এই কাজটাকে আমার মনে হয়- নিজের ঘর পরিষ্কার রাখতে, নিজের ঘরের ময়লা জোর করে অন্যের ঘরে ফেলে আসার মত!
মানবিকতার প্রশ্নে এই সমস্যা সমাধানে প্রধান ভুক্তভোগী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের সকল মানুষ এক হয়ে কাজ করলে হয়তো দ্রুত ও সফলভাবে আমরা এই সংকট কাটিয়ে উঠতে পারতাম।
কিন্তু দেশের মধ্যেই সম্প্রদায়িক বিভেদ তৈরী করে, বৌদ্ধধর্মের মানুষদের জন্য অনিরাপদ ও ভীতিকর অবস্হা তৈরী করে, ধর্মীয় সংঘাত সৃষ্টিকরে এই সমস্যা সমাধান কতটুকু হবে তা ভাববার বিষয়।
আমরা যখন নিজের ঘরেই সমস্যা তৈরী করি, তখন বাইরের সমস্যা সমাধানে তা কতটুকু বাধা সৃষ্টি করে, তা আমরা সবাই জানি।
একটা দেশের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের জন্য আমরা একটা ধর্মকেই খুব সহজেই ছোট করে কথা বলতে শুনি। বাজে ভাবে আমার পাশের ঐ ধর্মালম্বী মানুষকে খোঁচা মারি!
বিশেষ করে আধুনিক পড়াশোনায় শিক্ষিত, নেতৃস্থানীয় কেউ যখন এমন সাম্প্রদায়িক বিভেদমূলক ধারণা পোষণ করে, তখন আশাহত হতেই হয়…
সামাজিক মাধ্যম ফেইসবুকে থেকে এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...

Ads

Recommended For You

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!