প্রতিমুহুর্তে দীর্ঘায়িত হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল; নিহত ১৩২

রাঙ্গামাটি, চট্টগ্রাম ও বান্দরবানে পাহাড় ধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে  দারিয়েছে ১৩২। এ পর্যন্ত রাঙ্গামাটিতে ৯৮, চট্টগ্রামে ২৮ ও বান্দরবানে ৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। প্রতিমুহুর্তেই দীর্ঘায়িত হচ্ছে এ মৃত্যুর মিছিল। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপ সচিব জি এম আব্দুল কাদের মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টায় জানান, পাহাড় ধসের ঘটনায় দুই সেনা কর্মকর্তাসহ ১৩২ জনের লাশ উদ্ধারের খবর তারা পেয়েছেন।

পাহাড় ধসের কারণে চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়কসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে সোমবার রাত থেকে। রাঙামাটি শহরের অধিকাংশ স্থানে ভোর থেকে বিদ্যুৎ নেই। রাঙামাটি আবহওয়া অফিসের কর্মকর্তা সুচরিতা চাকমা জানান, মঙ্গলবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় রাঙামাটিতে দেশে সর্বোচ্চ ৩৪৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তিনি জানান, রোববার গভীর রাত থেকেই রাঙামাটি জেলায় ভারি বৃষ্টি চলছে এবং মঙ্গলবার বিকাল পর্যন্ত তা অব্যাহত রয়েছে।

রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মানজারুল মান্নান জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা ও ২০ কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া পার্বত্য জেলা পরিষদের পক্ষ থেকেও নিহতদের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে।

এদিকে টানা বৃষ্টিতে পাহাড় ও দেয়াল ধসে এবং বজ্রপাত ও গাছচাপায় চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া, চন্দনাইশ, রাউজান ও বাঁশখালীতে ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মাসুকুর রহমান সিকদার জানিয়েছেন। এর মধ্যে রাঙ্গুনিয়ার দুটি এলাকা থেকে ২১ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে বলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামাল হোসেন জানিয়েছেন। এর বাইরে নগরীর হালিশহর ও বাকলিয়, রাউজান, বাঁশখালীর বাহারছড়ায় নদীতে ভেসে গিয়ে, গাছ ও দেয়াল চাপায় এবং বা বজ্রপাতে পাঁচজন মারা গেছেন বলে জেলা প্রশাসন জানিয়েছে।

চন্দনাইশের কসাই পাড়া থেকে দেওয়ান হাট পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার এলাকায় সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় চট্টগ্রামের সঙ্গে বান্দরবান ও কক্সবাজারের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।

মঙ্গলবার ভোরে বান্দরবানে পাহাড় ধসে তিন ভাই-বোন সহ ৬ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নিহতরা হলেন কামরুন নাহার বেগম (৪০), তার মেয়ে সুখিয়া বেগম(৮), রেবা ত্রিপুরা(২২) ও লেমুঝিরি আগাপাড়ার লাল মোহন বড়ুয়ার তিন ছেলে মেয়ে শুভ বড়ুয়া(৮), মিঠু বড়ুয়া(৬) ও লতা বড়ুয়া (৫)।

বান্দরবানের সাথে রুমা, থানছি সহ দুর্গম উপজেলার সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

এদিকে চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানে অতিবৃষ্টিতে পাহাড় ধসে হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন মাননীয় রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সংসদের বিরোধী দলীয় নেত্রী রওশন এরশাদ ও বি.এন.পির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া।

সামাজিক মাধ্যম ফেইসবুকে থেকে এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...

Ads

Recommended For You

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!