পার্বত্য অঞ্চলের মানুষদের উপর নিপীড়ণ ও নির্যাতিনের মাধ্যেমে মানবাধিকার লঙ্গিত হচ্ছে; ঊষাতন তালুকদার

সুপ্রিয় চাকমা শুভ , রাঙামাটি প্রতিনিধি ঃ
 
পার্বত্য অঞ্চলের মানুষদের উপর নিপীড়ণ ও নির্যাতিনের মাধ্যেমে মানবাধিকার লঙ্গিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ২৯৯ নং রাঙামাটি আসনের সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার। আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস ২০১৭ উদযাপন কমিটির আয়োজনে প্রধাণ অতিথি হিসেবে ৯ই আগস্ট (বুধবার) সকাল সাড়ে ১০ ঘটিকার সময়ে রাঙামাটি পৌরসভা মাঠ প্রাঙ্গনে তিনি এ কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, ১০৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সরকার আদিবাসী স্বীকৃতি দানের জন্য ২০০৯ সালে স্বাক্ষর করলেও বর্তমানে সরকার আদিবাসী শব্দটি লিখনীতে সংকোচভাবে এলার্জি মনোভাব করছে। সরকার পঞ্চদশ সংশোধণীর মাধ্যমে আদিবাসী নাগরিকদেরকে ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী হিসেবে আখ্যায়িত করছে যা অত্যান্ত দুঃখ জনক। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার নিজেকে গনতান্ত্রিক সরকার হিসেবে পরিচয় দিলেও স্বৈরাচার সরকার হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া সরকার হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সংখ্যালঘুদেরকে পৃথক করার জন্য বিভিন্ন ভাবে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জাতিগত বেদাভেদ সৃষ্টি করার পায়তারা চালাচ্ছে।
 
সেজন্য পার্বত্য অঞ্চলে আদিকাল থেকে যারা বসবাস করে আসছে তাদের সম্প্রীতি বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে বসবাস করার জন্য তিনি আহ্বান জানান।
 
তিনি আরো বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে বৃহত্তর জনসংহতি সমিতি মেহনতি মানুষের কথা ভাবে। মহেনতি মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য সংগ্রাম করে। কোন প্রকার রাজনৈতিক আসন দখলের জন্য নয়। আদিবাসীদের ভূমি অধিকার ও নিজস্বভাষা, সংস্কৃতি রক্ষার ক্ষেত্রে আন্দোলন করছে। তিনি আরো ও বলেন, পার্বত্য শান্তি চুক্তি এই সরকারের সময়ে কখনও পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করবে না। কেননা যদি সরকারের স্বইচ্ছা থাকতো তাহলে পার্বত্য শান্তি চুক্তি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নে আগ্রহ প্রকাশ লক্ষ্য করা যেত। আজকে আদিবাসী দিবসে সরকারের প্রতি দৃষ্টি আর্কষন করে পার্বত্য শান্তি চুক্তি অতি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য তিনি আহ্বান জানান। তিনি আরো বলেন, স্থানীয় প্রভাবশালী নেতারা পার্বত্য অঞ্চলের আদিবাসীদের নিজ ভিটা মাটি দখল করে নিজেদের স্বার্থ আদায়ের জন্য চেষ্টা চালাচ্ছে।
আদিবাসী অধিকার বিষয়ক জাতিসংঘ ঘোষনার এক দশক এবং আদিবাসী অধিকার বিষয়ক জাতিসংঘ ঘোষনার বাস্তবাায়ন চাই এই দাবীকে সামনে রেখে দিনব্যাপী প্রতি বছরের ন্যায় আজ রাঙামাটিতে যথাযথ ভাব মর্যাদায় আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালিত হয়েছে। বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের সভাপতি প্রকৃতি রঞ্জন চাকমার সভাপতিত্বে উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের সদস্য সাবেক প্রফেসার বাঞ্চিতা চাকমা, বিশেষ অতিথি হিসেবে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটির সভাপতি গৌতম দেওয়ান, এম এন লারমা মেমোরিয়েল ফাউন্ডেশনের সভাপতি বিজয় কেতন চাকমা সহ পার্বত্য চট্টগ্রামের বিশিষ্ট নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
 
পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটির সভাপতি গৌতম দেওয়ান বলেন, সরকার যদি আদিবাসীদেরকে আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি দিত তাহলে পাবর্ত্য অঞ্চলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীদের ভূমি ও মানবাধিকার ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব হত। কিন্তু বিভিন্ন শাসকগোষ্ঠী আদিবাসী শব্দটি নিয়ে পার্বত্য অঞ্চলে জনগনের মনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে। তিনি আরো বলেন, আদিবাসী কিছু নেতা আদিবাসী পরিচয় দিতে লজ্জাবোধ করে। কিন্তু দলীয় পরিচয় দিতে মরিয়া হয়ে উঠে যা পার্বত্য অঞ্চলে আদিবাসী স্বীকৃতি পেতে অন্যতম বাধা হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।
 
সকালে আলোচনা সভা সমাপ্তির মধ্যে দিয়ে রাঙামাটি পৌরসভা মাঠ প্রাঙ্গন হতে রাঙামাটির মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে বিশাল র‌্যালী জেলা শিল্পকলা একাডেমীতে এসে সমাপ্ত করা হয়। র‌্যালীতে হাজার হাজার সাধারণ নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করে। এতে রাঙামাটির অন্যতম সুপ্রতিষ্ঠিত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হিলর ভালেদী সহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সংস্থা, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন র‌্যালীতে অংশগ্রহণ করে।
সামাজিক মাধ্যম ফেইসবুকে থেকে এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...

Ads

Recommended For You

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!