পত্রলেখক সুমিত্র বিকাশ বড়ুয়া’র নাগরিক শোকসভায় বক্তারা:

নীরবে নিভৃত সমাজের জন্য নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তি সুমিত্র বিকাশ তাঁর লেখনীর মাধ্যমে বেঁচে থাকবেন

পত্র-পত্রিকার মাধ্যমে সমাজ-জাতি-রাষ্ট্রের নানা সমস্যার সমাধান চেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন সুমিত্র বিকাশ বড়ুয়া। তিনি তাঁর কাজে কখনো স্বীকৃতি চাননি, তবে তিনি মনে করতেন তাঁর লেখনীর মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হলেই তাতেই তাঁর স্বীকৃতি। তিনি ৫০ বছর ধরে ৩০ সহস্রাধিক  চিঠিপত্র লেখার মাধ্যমে জনমত সৃষ্টি করেছেন। অত্যন্ত নির্মোহ এবং সাদাসিধে জীবনযাপনে অভ্যস্ত সুমিত্র বাবু ছিলেন সাধারণের মাঝে অসাধারণ ব্যক্তিত্ব।

আজ ৪ নভেম্বর ২০১৭, শনিবার, বিকেল ৫টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবস্থ ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেক মিলনায়তনে খ্যাতিমান পত্রলেখক, বৌদ্ধ মুখপত্র ‘বোধিকথা’র প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক, বিশিষ্ট সমাজ-সংগঠক, সদ্ধর্মবান্ধব সুমিত্র বিকাশ বড়ুয়া’র নাগরিক শোকসভায় বক্তারা উপরোক্ত মন্তব্য করেন।

নাগরিক শোকসভা পরিষদের চেয়ারম্যান খ্যাতিমান শিশুসাহিত্যিক রাশেদ রউফ এর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম (ইউএসটিসি)’র মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ডাঃ প্রভাত চন্দ্র বড়ুয়া। মূখ্য আলোচক ছিলেন বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সাবেক ভাইস-চেয়ারম্যান রাখাল চন্দ্র বড়ুয়া। আলোচকবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিইউজে)’র সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী এবং দৈনিক সুপ্রভাত বাংলাদেশ’র সহযোগী সম্পাদক কবি কামরুল হাসান বাদল।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন নাগরিক শোকসভা পরিষদের মহাসচিব অমিতাভ সম্পাদক শ্যামল চৌধুরী। বিপ্লব বড়ুয়া ও শুক্লা বড়ুয়া’র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভার শুরুতে শোকসঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পী পাপড়ি মুৎসুদ্দী। বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিদের মধ্যে শ্রদ্ধা নিবেদন করে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ বৌদ্ধ যুব পরিষদের চেয়ারম্যান রূপায়ন বড়ুয়া, রম্যসাহিত্যিক সত্যব্রত বড়ুয়অ, শিক্ষাবিদ সলিল বিহারী বড়ুয়অ, অধ্যক্ষ শিমুল বড়ুয়া, অনোমা সম্পাদক আশীষ কুমার বড়ুয়া, শিশুসাহিত্যিক উৎপলকান্তি বড়ুয়া, বৌদ্ধ সমিতি যুব এর সাধারণ সম্পাদক স্বপন কুমার বড়ুয়া, শুভ্রা বড়ুয়া, লায়ন লোকপ্রিয় বড়ুয়া, উত্তম বড়ুয়অ প্রমুখ। পরিবারের পক্ষে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন বড় জামাতা অনুপ কুমার বড়ুয়া।

প্রধান অতিথি ডা. প্রভাত চন্দ্র বড়ুয়া তাঁর বক্তব্যে বলেন, সুমিত্র বিকাশ বড়–য়া লেখনীর মাধ্যমে জনমত সৃষ্টি করেছেন। ‘ঢাকা-কলকাতা বাস সার্ভিস চাই’ শিরোনামে তিনি একাধিকবার লিখেছেন এবং সফলতাও পেয়েছেন। সার্বজনীন চিন্তা-চেতনার অধিকারী ব্যক্তিত্ব হিসেবে তিনি নীরবে নিভৃতে কাজ করেছেন। চিঠিপত্রের মাধ্যমে তিনি যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছেন।

রাখাল চন্দ্র বড়ুয়া বলেন, সমাজের যেখানেই অসঙ্গতি, সংকট সেখানেই তিনি হাত দিয়েছেন। সুমিত্র সাধারণের মাঝে অসাধারণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রজন্ম, সমাজ ও দেশকে এগিয়ে নিতে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন।

মো. আলী বলেন, আমৃত্যু যিনি ৫০ বছর ধরে ৩০ সহস্রাধিক চিঠিপত্র লিখেছেন এটা বিস্ময়কর ব্যাপার। মানুষের কল্যাণে, দেশের সম্ভাবনার কথা লিখেছেন- তিনি আমাদের অহংকার। তাঁর প্রকাশিত চিঠিপত্রগুলো এখন গবেষণার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কবি কামরুল হাসান বাদল বলেন, চিঠিপত্র একটা শিল্প, কিন্তু বর্তমানে যুগে তা হারাতে বসেছে। তিনি অবিরত লেখালেখি করে বিরাজমান নানা সমস্যা বুঝেন এবং তা সমাধানে দাবী রাখেন, সে হিসেবে তিনি একজন ব্যতিক্রমী সমাজসেবক হিসেবে স্বীকৃতিযোগ্য।

সভাপতির বক্তব্যে রাশেদ রউফ বলেন, একজন মানবতাবাদী, জীবনবাদী, সমাজের জন্য নিবেদিতপ্রাণ ছিলেন সুমিত্র বাবু। চিঠির বিষয় নির্বাচনে সুদূরপ্রসারী চিন্তার প্রতিফলন ছিল এবং কোন ধরণের আক্রমনাত্মক ভাষা তিনি ব্যবহার করতেন না।  নীরবে কাজ করেছেন, কোন ধরনের উচ্চাকাক্সক্ষা তাঁর মধ্যে ছিলনা। তাঁর আদর্শকে অনুশীলন করলে নতুন সমাজ উপকৃত হবে।

সামাজিক মাধ্যম ফেইসবুকে থেকে এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...

Ads

Recommended For You

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!