দৈনিক জনকন্ঠ পত্রিকার মিথ্যা বানোয়াত প্রতিবেদনের প্রতিবাদে রাঙামাটিতে সংবাদ সম্মেলন

সুপ্রিয় চাকমা শুভ, রাঙামাটি প্রতিনিধিঃ গত ২৪ এপ্রিল ২০১৭ তারিখে দৈনিক জনকন্ঠে প্রকাশিত প্রতিবেদক ফিরোজ মান্নার‘পার্বত্য এলাকায় নতুন অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টায় ভাবনা কেন্দ্র’ শীর্ষক সংবাদের সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

আজ রাঙ্গামাটিস্থ সাবারাং রেস্টুরেন্টে রাঙামাটি রাজবন বিহার কার্যনির্বাহী পরিষদ ও বৌদ্ধ সমাজের উদ্যোগে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য ও রাজবন বিহার উপসক উপাসিকা কার্যনির্বাহী পরিষদের সহ-সভাপতি নিরুপা দেওয়ান, বালুখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানমি: বিজয়গিরি চাকমা সহ সকল বৌদ্ধ সমাজের নর-নারী ও বিশিষ্ট সমাজকর্মী ও বিশিষ্ট গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রাজ বনবিহার উপাসক-উপাসিকা কার্যনির্বাহী পরিষদের  সভাপতি গৌতম দেওয়ান।

বক্তব্যে তিনি বলেন, ফিরোজ মান্নার প্রতিবেদনে‘ সরকারের খাস জমি’ দখল করে ভাবনা কেন্দ্র বা কিয়াং গড়ে তোলে এসব ভাবনা কেন্দ্রে বসে মিয়ানমারের উগ্রবাদী গোষ্ঠী ৯৬৯-এর কার্যক্রম চালাচ্ছে বলে যা উল্লেখ করা তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। গৌতম দেওয়ান পাল্টা প্রশ্ন রাখেন, মিয়ানমারের উগ্রবাদী গোষ্ঠীর ব্যাপারে যদি গোয়েন্দা সংস্থা সমূহের সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য থেকে থাকে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কেন উপযুক্ত পদক্ষেপ না নিয়ে কোন উদ্দেশ্যে মিডিয়ায় গোয়েন্দাদের এসব স্পর্শকাতর তথ্য ফলাও করে প্রচার করা হচ্ছে?

মিয়ানমারের উগ্রবাদী গোষ্ঠীর ভান্তেদের পরামর্শে বান্দরবানের স্বর্ণমন্দির, রাঙ্গামাটির বনবিহার ও রাজবন বিহারে কাউকে ঢুকতে দেওয়া হয় না বলে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে তা প্রতিবেদক ফিরোজ মান্নার চরম মিথ্যাচার ছাড়া আর কিছুই নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রতিবেদক রাঙ্গামাটিতে ‘বনবিহার’ ও ’রাজবন বিহার’নামে দু’টি প্যাগোডার কথা বললেও বাস্তবেতা নয়। মূলত এটি একটি প্রতিষ্ঠান যা রাজবন বিহার নামে পরিচিত, যা প্রতিবেদকের জানা ছিলো না। গৌতম দেওয়ান আরও বলেন, বান্দরবানের স্বর্ণমন্দির প্যাগোডা ও রাঙ্গামাটির রাজবন বিহার বৌদ্ধদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র স্থান। প্রতিদিন অসংখ্য বৌদ্ধ উপাসক-উপাসিকা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের জন্য এসব মন্দিরে এসে থাকেন। এছাড়া এ দু’টি স্থান পর্যটকদের কাছে ও অত্যান্ত আকর্ষণীয় স্থান হিসেবে পরিচিত। কিন্তু অনেক পর্যটকের অশোভনীয় আচার-আচারণের কারণে এসব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পবিত্রতা ও ভাব গম্ভীর পরিবেশ রক্ষা কঠিন হয়ে পড়ার প্রেক্ষিতে সেখানে প্রবেশের ক্ষেত্রে কিছু বিধি নিষেধ আরোপ করা হয়েছে মাত্র। বৌদ্ধ নর নারীরা প্রতিদিন স্বাধীন ভাবে ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান করে যাচ্ছেন। কাজেই বিহারে কাউকে ঢুকতে না দেওয়ার অভিযোগ মিথ্যাচার ছাড়া আর কিছুই নয়।

ইউকিপিডিয়ার নাম ভাঙিয়ে মিয়ানমারের ৯৬৯ গোষ্ঠীর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে জনকন্ঠের প্রতিবেদনে বৌদ্ধ ধর্মের প্রবর্তক গৌতম বুদ্ধকে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।কিন্তু উইকিপিডিয়ায় কোথাও‘ সন্ত্রাসী’ শব্দ প্রয়োগ করা হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন এর মাধ্যমে কেবল গৌতম বুদ্ধকে নয়, তার অনুসারী হিসেবে সমগ্র বৌদ্ধ সমাজকে সন্ত্রাসী বানানোর অপচেষ্টা করা হয়েছে। তিনি এ ধরনের হীন প্রচেষ্টাকে তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানান।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, জনকন্ঠে প্রকাশিত সংবাদের মাধ্যমে উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে বৌদ্ধধর্ম, বৌদ্ধবিহার ও ভাবনাকেন্দ্র সম্পর্কে ঢালাওভাবে মনগড়া ও কল্পনা প্রসূত তথ্য পরিবেশন করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, জনকন্ঠের উক্ত প্রতিবেদক বৌদ্ধ ধর্ম সম্পর্কে না জেনে বৌদ্ধ ধর্মের প্রবর্তক গৌতম বুদ্ধকে ‘সন্ত্রাসী’আখ্যায়িত করে বৌদ্ধদের ধর্মীয় অনুভূতিতে চরমভাবে আঘাত হেনেছেন। প্রতিবেশি রাষ্ট্র মায়ানমারের রোহিঙ্গ্যা ইস্যূকে টেনে এনে তিনি বাংলাদেশের ধর্ম প্রাণ সাধারণ বৌদ্ধ জনগোষ্ঠী ও বৃহত্তর মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে মুখো মুখী দাঁড় করানোর পাঁয়তারা চালিয়েছেন। এতে করে তিনি বাংলাদেশের বিরাজমান সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উপর আঘাত হানার অপচেষ্টা করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, বৌদ্ধধর্মে সহিংসতার কোন স্থান নেই। কেবল মানব জাতি নয়, সকল প্রাণীর প্রতি মৈত্রীভাব পোষণ করা এবং তাদের দু:খ লাঘবে কাজ করাই গৌতম বুদ্ধের অন্যতম শিক্ষা। এদেশে ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হতে পারে এমন অসত্য ও মন গড়া তথ্য ও সংবাদ পরিবেশননা করার জন্যে দৈনিক জনকন্ঠসহ সকল মিডিয়ার প্রতি আহবান জানানো হয়।

সামাজিক মাধ্যম ফেইসবুকে থেকে এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...

Ads

Recommended For You

1 Comment

  1. ঐ ঐ রৈ রৈ ঐক্যজোট জ্ঞাতি,সংখ্যালঘু গোষ্ঠীতন্ত্র গেল কৈই ? ??

    আজ বৌদ্ধধর্মের,আসিতেছে আগামীতে আপনাদের
    ভাব মম দমে দম,রাহা দূর বেলা কম
    সম্মানিত জ্ঞাতি-কুটুম্বদের প্রতি দৃষ্টিকোণ করে বলছি,এই লেখা অনেকের ভালো নাই লাগতে পারে,তাতে আমি লজ্জিত ও ক্ষমার্থ । আমাদের জ্ঞাতিবর্গে অনেকে আছে উচ্চে শিক্ষাবিদ আবার অনেকে নিরাশ শিক্ষাপীঠ। তাতে কি আসে যাই,আমরাতো জীবপ্রানী এ দেখেন ভুল করে ফেললাম কী যে কয় ও ভুল তা মানুষই করে,তাহলে—–ও আমরা মান + হুস = চিন্তা করার মতো। যা মান সম্মত ভেবেচিন্তে কাজ করে,হেঁ হেঁ হেঁ হাঁ হাঁ হাঁ স্বাধীন স্বত্বাধিকারী বিবেক বুদ্ধিদীপ্ত সম্পূর্ণ । হে জ্ঞাতিগোষ্ঠী আপনারা কি বলতে পারেন আমরাই জ্ঞানীয় গোষ্ঠীশাসন-সংক্রান্ত,আমি হেয় করার জন্য বলছি না,“অহিংসা পরম ধর্ম”প্রমাণ করে দেখিয়ে দিতে পারবেন তা সত্যদৃষ্ট,শান্তকরণ,ভেবে দেখুন আমাদের অর্থ কীর্তি “দশ টাকা” হয়েছে ধর্ম পুস্তক কিনলাম সেটা আমরা একজনেও পড়তে পারি আবার দশ জনও পড়তে পাড়ি তা না করে ঐ যে পূর্বে লিখিত আমরা স্বার্থসাধন করেই যাচ্ছি,কেন আমরা একটা দিয়েই শেষ করতে পারতাম ? একে অন্যকে সহযোগিতা করে বৃহত্ত্ব প্রমাণ করতে পারতাম,মিত্যা প্রলোভন না দেখিয়ে স্বার্থতা অর্জন করতে পারতাম,স্বার্থ সিদ্ধির জন্য ত্রিমুখী না হয়ে প্রশংসাবাদ হতে পারতাম,কেনই বা সরলতাকে দূর্বলতার মনোভাব প্রকাশ করছি? আমরা মুষ্টিময় কিছু জ্ঞাতীবর্গ কেন তা না করে অন্যভাব পোষণ করছি?কেনই বা উপভোগ না করে ভোগ্যপণ্য ভাবছি?কেনই বা আমরা গল্পগুজব করলাম,বেড়াতে,রসনাবিলাস বা ভোজ্যদ্রব্য অথবা সঃনিকটে প্রসংশা হাতে দিয়ে পরোক্ষভাবে বিরোধ বিরোধীতা করছেন?কেনই বা করছেন পিতামহী,রক্তের বাধঁন,বন্ধু-বান্ধবীর মধ্যে ফাটল সৃষ্টি করছেন?অর্থ-রাজনীতিজ্ঞ তা নিষ্কৃত। “একতাই বল”তা শষ্কৃত। হে জ্ঞাতিগোষ্ঠী অহিংসক মিত্যাচার না করে সৎকর্মকারী ও সৎদৃষ্টি সংকল্প হতেও পারতেন দৃঢ়মনা হোন তাতে ক্ষণিকের হাত থালির পরিবর্তে বাহাদুরি পথ দর্শনীয় হবেন। অন্যের কান ভার না করে অন্তচক্ষু দিয়ে অনুভবশক্তি রাখুন।

    “জয়ন্ত” (চলবে)

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!