ড. বেণীমাধব বড়ুয়ার ১২৯ তম জন্মদিন উদযাপন করতে যাচ্ছে বৌদ্ধ ধর্মাংকুর সভা

লন্ডন ইউনিভার্সিটি থেকে এশিয়ার প্রথম ডি.লিট ড. বেণীমাধব বড়ুয়া ১২৯ তম জন্মদিন উদযাপন করতে যাচ্ছে বৌদ্ধ ধর্মাংকুর সভা। আগামী ৩১ ডিসেম্বর বিকাল ৪টায় কৃপাশরণ হলে অনুষ্টিতব্য আয়োজনের উদ্বোধন করবেন মহাবোধি সোসাইটির ভারত এর সাধারণ সম্পাদক ভদন্ত পি. সিওয়ালি থেরো. ড. বেণীমাধক স্বারক বক্তৃতা প্রদান করবেন খ্যাতনামা সাংবাদিক গৌতম বাসু মল্লিক।

ড. বেণীমাধব এওয়ার্ড গ্রহণ করবেন বিশিষ্ট লেখক এবং রবীন্দ্র পুরস্কার বিজয়ী ড, শংকর কুমার নাথ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ইন্টারন্যাশনাল বুদ্দিস্ট কনফেডারেশন নয়াদিল্লী এর নব নির্বাচিত মহাসচিব ভদন্ত ড. ধর্মপ্রিয়। অনুষ্ঠানটিতে সভাপতিত্ব করবেন বৌদ্ধ ধর্মাংকুর সভার প্রেসিডেন্ট শ্রী পংকজ কুমার দত্ত।

লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এশিয়ার প্রথম ডি.লিট. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পালি বিভাগের অধ্যাপক ভারততত্ত্ববিধ আচার্য ড. বেণীমাধব বড়–য়া ১৮৮৮ খ্রিষ্টাব্দের ৩১ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম জেলার রাউজান থানার মহামুনি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। গ্রামের মডেল স্কুল থেকে মিডল ইংলিশ (এম.ই), চট্টগ্রাম সরকারি কলেজিয়েট স্কুল থেকে এন্ট্রান্স (১৯০৬) এবং  চট্টগ্রাম কলেজ থেকে এফ.এ. (১৯০৮) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। পরে তিনি কলকাতার স্কটিশ চার্ট কলেজ ও প্রেসিডেন্সি কলেজে অধ্যয়ন করে বহরমপুর কৃষ্ণনাথ কলেজ থেকে পালিতে অনার্সসহ বি.এ. (১৯১১) এবং  কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.এ. (১৯১৩) ডিগ্রি লাভ করেন। এছাড়াও তিনি কলকাতা ল’ কলেজ থেকে আইনের প্রথম পর্ব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।

বেণীমাধব বড়–য়া ১৯১২ খ্রিষ্টাব্দে শিক্ষাজীবনের মাঝখানে স্বগ্রামের মহামুনি অ্যাংলো-পালি ইনস্টিটিউশনে প্রধান শিক্ষক পদে চাকরি শুরু করেন। পরে ১৯১৩-১৪ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পালি বিভাগের আন্ডার গ্র্যাজুয়েট শ্রেণির প্রভাষকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯১৪ খ্রিষ্টাব্দে ভারত সরকারের বৃত্তি নিয়ে তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য বিলেত যান। সেখানে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হিকসের তত্ত্বাবধানে গবেষণা করে তিনি গ্রিক ও আধুনিক ইউরোপীয় দর্শনে এম.এ. এবং বৌদ্ধশাস্ত্র ও ভারতীয় দর্শনে ডি.লিট. (১৯১৭) ডিগ্রি লাভ করেন।দেশে ফিরে বেণীমাধব কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রভাষক পদে যোগদান করেন এবং এম.এ. শ্রেণির পালি পাঠক্রমের সংশোধন ও পরিবর্ধন করেন। ১৯২০ খ্রিষ্টাব্দে তিনি অধ্যাপক পদে উন্নীত হন এবং আমৃত্যু ওই পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।পালি বিভাগ ছাড়াও ড. বড়–য়া কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচীন ভারতীয় ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ (১৯১৯-৪৮) এবং সংস্কৃত বিভাগের (১৯২৭-৪৮) সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তিনি স্ব-উদ্যোগে বৌদ্ধ ও জৈনধর্ম এবং শিলালিপি বিষয়েও অধ্যয়ন ও অধ্যাপনা করেন।

ড. বড়–য়া বহু গ্রন্থ ও গবেষণা নিবন্ধ রচনা করেন। পবিত্র ত্রিপিটক এর সুত্তপিটকে মধ্যমনিকায় (মজ্ঝিম নিকায়) ১ম খ- অনুবাদ করেন ১৯৪০ খ্রিষ্টাব্দে। তাঁর প্রথম গ্রন্থ মূল পালিসহ লোকনীতির বঙ্গানুবাদ বৌদ্ধ ধর্মাঙ্কুর সভার বার্ষিক কার্যবিবরণীতে (১৯১২) প্রকাশিত হয়। এছাড়া বাংলায় তাঁর মৌলিক ও অনূদিত গ্রন্থের মধ্যে বৌদ্ধ গ্রন্থকোষ (১ম খ-, ১৯৩৬), বিশুদ্ধিমার্গ (অপ্রকাশিত) ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। তাঁর ডিলিট থিসিস A History of Pre-Buddhistic Indian Philosophy (১৯২১) কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত হয়।  ১৯৪৮ সালের ২৩ মার্চ কলকাতায় তিনি পরলোক গমন করেন।

সামাজিক মাধ্যম ফেইসবুকে থেকে এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...

Ads

Recommended For You

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!