চরম নিরাপত্তাহীনতায় বাংলাদেশের বৌদ্ধরা; দেশের বিভিন্ন স্থানে একাধিক হামলা

buddhism in bangladesh
বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরুদের উপর হামলার চিত্র।

মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যে চলমান সেনা ও রোহিঙ্গা জঙ্গিদের মধ্যে চলমান সংঘাতকে বাংলাদেশের গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি মহল বৌদ্ধ কর্তৃক রোহিঙ্গা মুসলিম নিধন হিসাবে ধারাবাহিক প্রচারের কারণে বাংলাদেশের বৌদ্ধরা এখন চরম নিরাপত্তা হীনতার মধ্যে আছে।

ইতিমধ্যে বাংলাদেশের কয়েকটি জায়গায় সাধারণ বৌদ্ধ নাগরিক ও বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরুদের উপর একাধিক হামলা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেয়া হচ্ছে  বাংলাদেশের বৌদ্ধদের দেশ ত্যাগের নানান হুমকী। চলামন হুমকী ও একাধিক হামলার কারণে বাংলাদেশের বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরুরা নিজেদের আবাসস্থল থেকে এখন বাইরে গুরুত্বপূর্ণ কাজেও বের হতে পারছে না।

৬সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলাতে রাস্তায় হামলা করে এক বৌদ্ধ ভিক্ষুকে গুরুতর জখম করা হয়। তার আগে খাগড়াছড়ি যাওয়ার পথে চট্টগ্রামের মাইজ ভাণ্ডারী এলাকায় জ্যোতিসারা ভিক্ষু নামের এক বৌদ্ধ ভিক্ষুকে হামলার চেষ্টা করে একদল দুবৃত্ত।

১২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার ভারতে থেকে চিকিৎসা করে বাংলাদেশে ফেরার পথে যশোর জেলার বেনাপোলে জ্ঞান মিত্র ভিক্ষু নামের এক বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরুকে একদল যুবক শারিরীক ভাবে হেনস্থা ও ভয় দেখিয়ে অংচান সুচির বিরুদ্ধে বক্তব্য ভিডিও রেকর্ড করে সামাজিক মাধ্যম ফেইসবুকে প্রচার করে। এঘটনায় পুলিশ তিনজনকে আটক করে।

২২ সেপ্টেম্বর শুক্রবার স্থানীয় এমপির সাথে মিটিং করে ফেরার পথে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চরম্বা ইউনিয়নের আমিরাবাদ স্টেশন এক বৌদ্ধ ভিক্ষুকে পাথর নিক্ষেপ করে আঘাত করা হয়। সেই ঘটনার ২৪ ঘন্টা পার না হতেই একই উপজেলায় প্রজ্ঞালংকার ভিক্ষু নামের এক বৌদ্ধ ভিক্ষুকে জাহাঙ্গীর হোসেন নামে এক স্থানীয় দোকনদার এলোপাথাড়ি পিটিয়ে গুরুতর আঘাত করে। পরে ভান্তে স্থানীয়দের সহায়তায় এক বড়ুয়ার দোকানে আশ্রয় নিয়ে বৌদ্ধ ভিক্ষুটি প্রাণে রক্ষা পায়।

এছাড়া সাধারণ বৌদ্ধ নাগরীকদের উপরও হয়েছে একাধিক হামলা। বিশেষ করে চেহারার কারণে দেশের আদিবাসী চাকমা, মারমা বৌদ্ধদের বিশেষ চেহারাগত কারণে বৌদ্ধ হিসাবে চিহ্নিত করেত পারায় বেশী হামলা হচ্ছে তাদের উপর। এধরণের হামলা থেকে রেহায় পচ্ছে না বৌদ্ধ শ্রমজীবি নারীরাও।

ইতিমধ্যে চট্টগ্রামের অক্সিজেন-বায়েজিদ, ইপিজেড এলাকায় একাধিক হামলায় বেশ কয়েকজন শ্রমজীবি বৌদ্ধ নারী পুরুষ আহত হয়েছে। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাতেও কয়েকটি হামলার চেষ্টা ও ধাওয়া করা হয়েছে শ্রমজীবি বৌদ্ধদের।

দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য সরকারের তরফ থেকে জোরালো আহ্বান এবং মিয়ানমারের অভ্যন্তরীন সংঘাত নিয়ে দেশে যাতে কেহ সমস্য সৃষ্টি করতে না পারে এবিষয়ে সরকার ও প্রশাসন থেকে কড়া নজরদারী রাখা হচ্ছে বলে জানানো হচ্ছে।

বৌদ্ধ অধ্যুষিত এলাকায় জনপ্রতিনিধি ও পুলিশ প্রশাসনের উপস্থিতিতে নিরাপত্তা বিষয়ে মতবিনিময় সভা হচ্ছে।রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম শহরে এবং কক্সবাজার জেলার বিহার গুলোতে পুলিশি পাহাড়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হযেয়ে। তারপরও চলমান বৌদ্ধ ও বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরুদের উপর হামলার ঘটনা প্রবাহে দেশের বৌদ্ধরা আতংকের মধ্যে রয়েছে।

সংতর্কতার পদক্ষেপ হিসাবে ইতিমধ্যে দেশের বৌদ্ধ নেতারা আগামী ৫ অক্টোবর বৌদ্ধদের অন্যতাম ধর্মীয় তিথি প্রবারণা পূর্ণিমার অবিচ্ছেদ্য অংশ ফানুস উত্তোলন না করার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছে।

সামাজিক মাধ্যম ফেইসবুকে থেকে এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...

Ads

Recommended For You

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!