গৌতম বুদ্ধের উচ্চতা আনুমানিক ৬ ফুট ৭ ইঞ্চি

বি. জ্যোতি ভান্তে: ত্রিপিটকে কয়েকটি অনুচ্ছেদের উদ্ধৃতি দিয়ে দেখানো হয়েছে যে, বুদ্ধ যদিও লম্বা ছিলেন কিন্তু এতটা অস্বাভাবিকভাবে লম্বা ছিলেন না। সবচেয়ে কথিত অনুচ্ছেদটি হচ্ছে সামঞ্ঞফল সুত্তং (দী.নি.২) থেকে, যেখানে রাজা অজাতশত্রু বুদ্ধের সাথে দেখা করতে গিয়েছিলেন। বু্‌দ্ধ সেই সময়ে সমবেত ভিক্ষুদের মাঝে বসেছিলেন। সেই সমবেত ভিক্ষুদের মধ্যে কোনজন বুদ্ধ তা রাজা চিহ্নিত করতে পারেন নি। এটি অবশ্যই রাজার আধ্যাত্মিক নির্বুদ্ধিতাকে নির্দেশ করতে উল্লেখ করা হয়েছে, কিন্তু যদি বুদ্ধ লক্ষণীয়ভাবে লম্বা হতেন, সেটা তার সাধারণ খ্যাতির একটা অংশ হতো এবং রাজার তখন কাউকে জিজ্ঞেস করতে হতো না।

ৰিনয়-মুখ গ্রন্থে বুদ্ধের মাপকে হিসাব করার জন্য অনেক ধরনের উপায়ের পরামর্শ দিয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে উপযোগী হচ্ছে বুদ্ধের হাতকে ৫০ সেমি হিসেবে ধরা। এটি অন্তত মোটামুটিভাবে হলেও পিটকের অনেকগুলো অনুচ্ছেদের সাথে মিলে যায়, যেমন :

লক্খণ সুত্তং (দী.নি.৩০) মতে, বুদ্ধের বাহু প্রসারিত অবস্থায় তার ব্যাপ্তি তার উচ্চতার সমান ছিল। যেহেতু একজন ব্যক্তির হাত হচ্ছে তার প্রসারিত বাহুগুলোর ব্যাপ্তির চার ভাগের এক ভাগ, এতে করে বুদ্ধের উচ্চতা হয় ২ মিটার বা আনুমানিক ৬ ফুট ৭ ইঞ্চি। পাচিত্তিয় ৯২ এর মূল কাহিনী বলে যে, বুদ্ধের সৎ ভাই নন্দ বুদ্ধের চেয়ে চার আঙুল খাটো ছিলেন। আর নন্দকে দূর থেকে আসতে দেখে, ভিক্ষুরা তাকে বুদ্ধ বলে ভুল করতো, অংশত তার লম্বা উচ্চতার কারণে। এক আঙুল সমান হয় ১/২৪ হাত, অর্থাৎ ২ সেমি এর সামান্য বেশি। এ থেকে নন্দের উচ্চতা হয় ১.৯২ মিটার, অর্থাৎ প্রায় ৬ ফুট ৪ ইঞ্চির মতো লম্বা। এই হিসাবগুলো পিটক থেকে পাওয়া তথ্যের সাথে বেশ ভালোমতো খাপ খায় বলে মনে হয়, কারণ এতে করে নন্দ ও বুদ্ধ উভয়েই লম্বা হওয়াটা মানানসই হয় কিন্তু তাই বলে এত অদ্ভুতূড়ে লম্বা নয়।

এই মাপজোখগুলোকে সমর্থনকারী আরেক জোড়া অনুচ্ছেদ আছে পাচিত্তিয় ৮৭ এর বিধিতে। সেখানে ভিক্ষুর খাটের পাগুলো চার সুগত আঙুলের চেয়ে বেশি লম্বা হবে না বলে নির্দেশ আছে। এর সাথে চুৰ.৩৫৭ এর পরামর্শ এই যে, খাটের নিচে ভিক্ষাপাত্রটি রাখার আগে হাত দিয়ে খাটের নিচে হাতড়ানো উচিত, যাতে করে এটা নিশ্চিত হওয়া যায় যে খাটের তলায় কিছু নেই। আমাদের মাপজোখে খাটের পায়ের সর্বোচ্চ উচ্চতা দাঁড়ায় ১৮ সেমি। যদি সেগুলো এর চেয়ে বেশি উঁচু হতো, তাহলে ভিক্ষুকে আর হাতড়াতো না, কারণ তখন সে এক পলকেই দেখে নিতে পারতো খাটের নিচে কী আছে। আর যদি সেগুলো এর চেয়ে খাটো হতো, তাহলে ছোট্ট একটা ভিক্ষাপাত্রও আর তলায় আঁটতো না।

যদিও সুগত মাপকে ১০০% নিখুঁতভাবে নির্ধারণের কোনো উপায় নেই, তবে উপরোক্ত বিবেচনাগুলো থেকে এটা ধরে নেয়া যায় যে, নিম্নোক্ত হিসাবগুলো যৌক্তিক :

সুগত হাত = ৫০ সেমি

সুগত বিঘত = ২৫ সেমি

সুগত আঙুল = ২.০৮ সেমি

[ বৌদ্ধ ভিক্ষু বিধি (১ম), লেখক: ঠানিস্সারো ভিক্খু ]

সামাজিক মাধ্যম ফেইসবুকে থেকে এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...

Ads

Recommended For You

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!