এনজিওর কার্যক্রমের আড়ালে ধর্মান্তরিত করা হচ্ছে ‘চাক” সম্প্রদায়ের ছেলেদের: প্রতিকার চেয়ে স্মারকলিপি

পার্বত্য জেলা বান্দরবানের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী চাক সম্প্রদায়ের ছেলেদের বিভিন্ন এনজিওর কার্যক্রমের আড়ালে অর্থের প্রলোবনে ধর্মান্তরিত করার অভিযোগ উঠেছে। অর্থের প্রলোবনে ধর্মান্তরিত যুবক ছেলেরা পরবর্তীতে বৌদ্ধধর্ম সম্পর্কে নানান অবমাননাকর মন্তব্য ও কটুক্তিসহ সমাজে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করছে।

এ ঘটনায় রাষ্ট্র প্রধানের কাছে প্রতিকার চেয়ে একটি স্মারকলিপিও দিয়েছে চাক সম্প্রদায়ের নেতারা। স্মারকলিপিতে চাক সম্প্রদায়ের নেতারা দাবী করছে, বান্দরবানে পরিচালিত এনজিও গুলো স্থানীয়দের স্বাস্থ্যসেবা, মানবসেবা ও দারিদ্রবিমোচন সম্পর্কিত সেবার নামে কার্যত বিভিন্ন সম্প্রদায়ের অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীকে ধর্মান্তরিত করছে।

চাক সম্প্রদায়ের পক্ষে দেওয়া স্মারকলিপির সূত্রে প্রতিবেদনে বলা হয়, -বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রামে ভিন্ন ভাষা-ভাষি ও ১১টি ক্ষুদ্র আদিবাসীর মধ্যে চাক জনগোষ্টী অন্যতম। ঐতিহ্যগতভাবে তারা বৌদ্ধ ধর্মালম্বী অনুসারী। কিন্তু বিদেশী দাতাদের মদদ ও আর্থিক সহায়তায় বাংলাদেশের অভ্যান্তরে বসবাসকারী কতিপয় ব্যাক্তি এ কার্যক্রম চালাচ্ছে। তারা মিশনের মাধ্যমে হাজার বছর ধরে ঐতিহ্যগতভাবে বৌদ্ধ ধর্মে বিশ্বাসী ক্ষুদ্র চাক জনগোষ্টীর ছেলে-মেয়েদেরকে নামে মাত্র পড়ালেখার খরচ যোগানে অজুহাতে আর্থিক প্রলোভন দিয়ে সম্পূর্ণ খ্রিষ্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত করার কৌশল অবলম্ব করে যাচ্ছে। যারা ধর্মান্তরিত হয়েছে তারা বৌদ্ধ ধর্মে গিয়ে ধর্মীয় অনুভূতির উপর আঘাত হেনে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করছে। এমনকি তারা বৌদ্ধ সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য ও কটুক্তি করছে বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।

এ ব্যাপারে চাক সম্প্রদায়ের নেতা ছানু অং চাক, বাচাচিং চাক, নাইন্দা অং চাক, ফোছা অং চাক, অংথোয়াইচিং চাক জানান, খ্রিষ্টায়ান মিশন কর্তৃক চাক ছেলে মেয়েদেরকে ধর্মান্তরিত করার কারনে ভবিষ্যতে বড় ধরনের ধর্মীয় দাঙ্গা হাঙ্গামার সম্ভাবনা রয়েছে। এটি আমাদের রাষ্ট্রীয় আইন ও আর্ন্তজাতিকভাবে মানবাধিকার লঙ্গন সামিল। তাই তথাকথিত খ্রিষ্টিয়ান ধমীয় মিশন কর্তৃক ধর্মান্তরিত করণ সম্পূর্ণ বন্ধ করতে এবং রাষ্ট্রীয় ভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণসহ প্রশাসনিক সহায়তা পেতে সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি আহ্বান জানান।

এদিকে ভালোভাবে বেঁচে থাকার আশায় ধর্মান্তরিত হওয়া চাক আদিবাসীদের একটি বড় অংশ দুর্দশার মধ্যে পড়েছে। নিয়মিত আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দিয়ে ধর্মান্তরিত করার কিছু দিন পর অর্থ প্রদান বন্ধ করে দেওয়া এবং খ্রিষ্টান ধর্ম শুদ্ধভাবে পালনে চাপ দেওয়ার কারণেই তাদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হচ্ছে। নতুন করে ধর্মান্তরিত ঠেকাতে সীমান্ত অঞ্চল নাইক্ষ্যংছড়িতে ‘আদিবাসী ধর্ম রক্ষা পরিষদ’ গঠনের প্রক্রিয়া চলছে।

সামাজিক মাধ্যম ফেইসবুকে থেকে এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...

Ads

Recommended For You

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!