একটি দায়িত্ব ও একটি অনুরোধ; প্রসঙ্গ – ত্রিপিটক

নশ্বর সুজয়, সিডনি, অষ্ট্রেলিয়া।

যম্হি পদেসে ন মানো ন পেমং ন চ বন্ধবা,
ন চ বিজ্জাগমো কোচি ন তত্থ উপ্পাজাতি।

যে দেশেতে নাহি হয় মানীর সম্মান ,
যেথা প্রেম বান্ধবাদি নাহি বিদ্যমান;
যে দেশে নাহি হয় শাস্ত্র আলোচনা,
সে দেশে গুণীজন কভু জন্মে না।

ধর্মানুরাগী প্রিয় জ্ঞাতী-মিত্রগণ! আসুন জীবনের শত প্রতিকুলতার মাঝেও নিজেকে ধর্মাশ্রয়ে ধর্মজ্ঞানে সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলি।

বৌদ্ধদের ধর্মীয় গ্রন্থের নাম ত্রিপিটক একবাক্যে হুট করে যেকেউ বলতে পারব আমরা। কিন্তু আমাদের কয়জনেরই বা এই দূর্লভ গ্রন্থখানি পুর্ণাঙ্গ দেখার বা অধ্যায়নের শ্রীসুভাগ্য হয়েছে? বর্তমানে আমরা বাঙ্গালী বৌদ্ধরা অতীতের তুলনায় ধর্মচর্চায় অনেকাংশে আগুয়ান । কিন্তু তারপরও প্রশ্ন জাগে এমন কয়েকটি পরিবার খুজে পাওয়া যাবে কি যেখানে ত্রিপিটক সংগ্রহীত আছে? শুধু পরিবার কেন আমাদের দেশে এমন কয়টি বৌদ্ধবিহার আছে কি যেখানে ত্রিপিটক সংগ্রহীত রাখা আছে? অথচ আমরা লাখ টাকা কোটি টাকা খরচ করে বিহার নির্মাণ করি বটে, কিন্তু বিহারের পুর্ণাঙ্গরূপ দিতে যে বিষয়টি মুখ্য তা আমরা উপেক্ষা করি। তাহল ত্রিপিটক সহ বৌদ্ধিক গবেষনাপূর্ণ গ্রন্থের লাইব্রেরি বা সংগ্রহশালা স্থাপন করা। এবিষয়ে আমরা বৌদ্ধরা শতভাগ পিছিয়ে বলা চলে। অপ্রিয় সত্য হলেও মহান ভিক্ষুরাও পুর্ণাঙ্গ ত্রিপিটক গবেষনায় চর্চায় অধ্যায়নে অনেকাংশে বঞ্চিত।

ইতিপূর্বে ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় কিছু মহৎ ব্যক্তিগণের উদ্যোগে ত্রিপিটকিয় গ্রন্থের অনুবাদ সম্প্রাদন ও প্রকাশন হয়েছিল তাও বিছিন্ন রূপে। এদের মধ্যেই প্রজ্ঞালোক মহাস্থবির, ধর্মাধার মহাস্থবির, জিনবংশ মহাস্থবির, শ্রীলালংকার, জ্যোতিপাল, রাজগুরু ধর্মরত্ন,প্রজ্ঞানন্দ, সত্যপ্রিয়, প্রজ্ঞাবংশ , শীলভদ্র, ঈশানচন্দ্রঘোষ, বেনীমাধব, সুকোমল, প্রমুখ অন্যতম। তবে পরম পূজনীয় প্রজ্ঞাবংশ ভান্তের অবদান এক্ষেত্রে অদ্বিতীয়। মহান সাধকপুরষ বনভান্তে উৎসাহ ও উদ্যোগে , শ্রদ্ধেয় প্রজ্ঞাবংশ ভান্তের অধীনে পালি অধ্যায়নকৃত কিছু ভিক্ষু শ্রামণের ঐকান্তিকতায় আজ মহান ত্রিপিটক পুর্ণাঙ্গ বঙ্গানুবাদে তরান্বিত গতিতে সক্ষম হয়েছে। তা আমাদের জন্যে সুখবর সুভাগ্যও বটে।
তবে তাও ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন প্রকাশনী হতে প্রকাশিত যা একজন পাঠকের পক্ষে অবিছিন্ন পুরো ত্রিপিটক সংগ্রহ করতে দূরহ ও ভোগান্তি পোহাতে হবে।
তাই এহেন বিষয়গুলি মাথায় রেখে বোধিদর্পণ প্রকাশনী একমহৎ দায়িত্ব হাতে নিয়েছে, তা হলো অবিছিন্ন ও একই আঙ্গিককে পুরো ত্রিপিটক সকল ধর্মানুরাগী পাঠকের হাতে তুলে দেওয়া।

বর্তমানে আমাদের বৌদ্ধ সমাজ ধর্মচর্চার পাশপাশি আর্থিক ভাবেও অনেকাংশে এগিয়ে। চাইলে আমরা সকলে স্ব স্ব গৃহে মহান বুদ্ধের সেই অমৃতবাণী ত্রিপিটক সুলভে সংগ্রহ করে যথাসময়ে অধ্যায়ন করতে পারি।
ছেলেমেয়েরাও ধর্মচর্চায় ধর্মজ্ঞানে জ্ঞানপুষ্ঠতায় বিকশিত হবে।
এছাড়াও আমাদের সমাজে যেসকল সংঘটন, সমিতি, ক্লাব আছে তারাও চাইলে গ্রন্থশালায় সংগ্রহীত করে রাখতে পারে। এমনকি ব্যক্তি বা সংঘটনিক উদ্যোগে ত্রিপিটক সেট সংগ্রহ করে বিহারে দান করতে পারে, যা সকলের জন্য উন্মুক্ত ধর্মচর্চার সুযোগ হবে।

এছাড়াও আমার বিশেষ অনুরোধ যেসকল বৌদ্ধ ভাইয়েরা প্রবাস জীবনে আছেন- বিশেষতঃ ইউরোপ আমেরিকা অস্ট্রেলিয়া কানাডা প্রভৃতি দেশে তাদের সিংহভাগই বুদ্ধের এই মহান ত্রিপিটকের কাছে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে ঋণী। তাই আমাদের সকলের উচিত স্ব স্ব গৃহে ত্রিপিটক সংগ্রহীত করে নিজ তথা প্রজন্মের জন্যে ধর্মচর্চার পথ সুগম করি।
প্রকাশনীর বৈশিষ্ট্য :
১) ৫৯ টি আলাদা আলাদা খণ্ডে পূর্ণাঙ্গ বাংলা ত্রিপিটক সরবরাহ।
২) বেশ কিছু খণ্ডে পে/পূর্ববৎ দেওয়া বাক্যগুলোর পূর্ণাঙ্গ রূপ প্রদান।
৩) সব শ্রেণীর পাঠকদের পড়ার সুবিধার্থে তুলনামূলক বড় ফন্টে বই ছাপানো।
৪) প্রয়োজনে নমুনা কপি দেখে বুকিং দেওয়ার সুবিধা।
৫) পূর্ণাঙ্গ ত্রিপিটকের কোন খণ্ডে কোন সূত্র রয়েছেেএসব বিষয় দ্রুত খুঁজে পেতে সবগুলো বইয়ের সুচিপত্র নিয়ে আলাদা রেফারেন্স বই সরবরাহ।
ত্রিপিটক সেটের মূল্য- ২০,০০০/- (সাধারণ), ৩০,০০০/-(অতি উন্নত)

বুকিং দেওয়ার পদ্ধতি :
১) আগ্রহীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে দুই কিস্তিতে বুকিং এবং বই সরবরাহ।
২) আগামী ৩১ জুলাই ২০১৭ ইং এর মধ্যে প্রথম কিস্তি মোট মূল্যের অর্ধেক টাকা জমাদানপূর্বক বুকিং দিতে হবে।
৩) ১০ নভেম্বর ২০১৭ ইং বুকিং দেওয়া ব্যক্তিদের নিকট অর্ধেক বই বিতরণ করা হবে।
৪) ১০ জানুয়ারী ২০১৮ এর মধ্যে দ্বিতীয় কিস্তির বাকী টাকা জমা দিতে হবে।
৫) ত্রিপিটকের বাকী খণ্ডগুলো ২০১৮ ইং এর বুদ্ধ পূর্ণিমাতে আনুষ্ঠানিকভাবে বিতরণ করা হবে।
বি.দ্র : এটা কোনো ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে বই বিক্রি নয়, মূলত শাসন সদ্ধর্মের প্রচারে কেবলমাত্র বই প্রকাশের খরচটুকু গ্রহণ করে বাংলায় অনুবাদকৃত পূর্ণাঙ্গ ত্রিপিটক সবার কাছে পৌঁছে দিতে এই উদ্যোগ।

বিনীত-
* প্রকৌশলী অনুপম বড়ুয়া, সভাপতি, বোধিদর্পণ প্রকাশনী
* উজ্জ্বল বড়ুয়া বাসু, সাধারণ সম্পাদক, বোধিদর্পণ প্রকাশনী
*বিপ্লব বড়ুয়া, অর্থ সম্পাদক, বোধিদর্পণ প্রকাশনী
বুকিং দেওয়ার জন্য যোগাযোগ – ০১৮৫৮৩৩৭৫২২, ০১৮১৬৮০৪৬৮০, ০১৯১৮৩৯৭৬৫৪

সামাজিক মাধ্যম ফেইসবুকে থেকে এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...

Ads

Recommended For You

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!