একজন সন্ত্রাসী কখনো বৌদ্ধ হতে পারে না

অনুরূপ সৈকত বড়ুয়া : পৃথিবীতে  কোটি কোটি অনুসারী মহান আল্লাহ্ তালার, ঠিক তেমনি মহামানব গৌতম বুদ্ধের অনুসারীও। “আল্লাহু-আকবর” বলে গলা কাটে, আলকায়দা, আই এস, বোকা-হারাম সহ পুরা বিশ্বের জঙ্গিগোষ্ঠী গুলা! তারা ইহুদি, নাসা খ্রিষ্টান, এবং পশ্চিমাদের সৃষ্টি বলে দাবি করে ইসলাম সম্প্রদায়।

মায়ানমারের সেনাবাহিনী সে দেশের রোহিঙ্গাদের নির্যাতন, হত্যা করছে। এ ছাড়া বিশ্বের আর কোথাও কাউকে  মারার সময় “বুদ্ধ জিন্দাবাদ” বলে কেউ হত্যা কিংবা অত্যাচার করছে না! তাই সন্ত্রাসী যদি বলতে হয় মিয়ানমারের আরকানের নাগরিকদের বলা হোক,  সমগ্র বিশ্বে বৌদ্ধদের সন্ত্রাসী বলে আখ্যায়িত করা মানেই মূর্খতার পরিচয় দেয়া। বৌদ্ধ ধর্মের এখনো সেই দুরবস্থা হয় নাই যে, নাম শুনলে ঘৃণা করবে,  কিংবা বৌদ্ধধর্মালম্বী বলে পরিচয় দিতে লজ্জা লাগবে সমগ্র বিশ্বে!   মিয়ানমারের আরাকান ছাড়া বাকি আর কোথাও বৌদ্ধধর্মালম্বীরা মানুষের গলা কাটে ? নাকি “বুদ্ধ জিন্দাবাদ” বলে ঝাপিয়ে পড়ে? যেমনটা “আল্লাহু-আকবর” বলে ইসলামিক জঙ্গী গুলা ঝাপিয়ে পড়ে পুরা বিশ্ব জুড়ে শান্তির বার্তা দিতে !

গুজব নয়, খবর নিয়ে দেখতে পারেন, রোহিঙ্গা মুসলিম  ছাড়াও সমগ্র বার্মাতে আরো ১৮ লাখ মুসলিম আছে যারা সুখে শান্তিতে বসবাস করছে। সহজ কথায় মুসলিম নাম ধারী উগ্রবাদীদের জন্য যেমন সমগ্র ইসলাম ধর্ম যেমন দায়ী নয়, ঠিক অনুরূপ বৌদ্ধ ধর্মের কেউ রোহিঙ্গা হত্যা করলে সমগ্র বৌদ্ধধর্ম দায়ী নয়! সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার দায়িত্ব আমাদের সবার! আর এই সহজ হিসাবটা বুঝতে পন্ডিত কিংবা বিচারক হতে হয় না, শুধুমাত্র ধর্মান্ধতা পরিহার করে মানবিক গুণাগুণ থাকলেই যথেষ্ট !
বৌদ্ধ প্রতিরূপ দেশ বার্মা এদেশের বৌদ্ধদের কেউ হয় না! সেই দেশে গিয়ে রোহিঙ্গাদের হত্যা করছে না যে, তার দায় ভার এ দেশের বৌদ্ধরা নিবে! এ দেশের বৌদ্ধরা বাংলাদেশী এটাই তাদের বড় পরিচয়, দেশটা আমাদের! এখানে যদি তাঁরা মসজিদে আগুন দেয়! পুলিশ কিংবা আর্মি ক্যাম্পে হামলা করে! বাংলাদেশ সরকারের বিপক্ষে কথা বলে! তখন তার দায় দায়িত্ব বৌদ্ধরা নিবে! অন্য দেশের ঝামেলার জন্য তাদের মায়া কান্নাও নাই! ভারতের সাথে চীনের যুদ্ধ দেখার তাদের শখ নাই! তারা এই দেশে যেমন আছে তেমনি থাকবে। ঘরের ভাত খেয়ে, বনের মোষ তাড়ানোর স্বভাব বৌদ্ধদের নাই!

প্রতিবাদ, প্রতিরোধ যদি যুদ্ধও করতে মন চায়, সেটা মিয়ানমারে অারাকান বৌদ্ধদের সাথে করুন, এদেশের বৌদ্ধদের সাথে নয়! কারণ এ দেশের বৌদ্ধরা মিয়ানমারের নাগরিক ও নয়, আবার আরাকানে গিয়ে রোহিঙ্গাদের কিংবা এ দেশের মুসলিমদের গলাও কাটে না!  অন্য দেশের ঝামেলার জন্য তাদের মায়া কান্নাও নাই!ভারতের সাথে চীনের যুদ্ধ দেখার তাদের শখ নাই! তারা এই দেশে যেমন আছে তেমনি থাকবে। ঘরের ভাত খেয়ে, বনের মোষ তাড়ানোর স্বভাব বৌদ্ধদের নাই!

বার্মাতে রোহিঙ্গারা নির্যাতিত হচ্ছে এটা ধ্রুব সত্য! আর তাদের কপাল তারা নিজেরা পুড়েছে সেটাও সত্যে। ছোট্ট করে যদি বলি, রোহিঙ্গারা ব্রিটিশ শাসন আমলে, বার্মার স্বাধীনতা বিরোধী করে ব্রিটিশের পক্ষে অবস্থান নেয় রোহিঙ্গারা। মূলত সেই থেকে তাদের সাথে বার্মার সম্পর্কের অবনতি। যেখানে হাজার হাজার মিথ্যার ভিড়ে কয়েকটা সত্য চাপা পড়ে যায়। বিষয়টা বাংলাদেশ সরকার কুটনৈতিকতার মাধ্যমে সমাধান করা ছাড়া কোন উপায় নাই। আমি, আপনি কিংবা আমরা সমাধান করতে পারবো না!

মানবিক, সামাজিক দিক চিন্তা করে মিয়ানমারের দরকার রোহিঙ্গাদের নাগরিকতা ফিরিয়ে দিয়ে তাদের দেশের নাগরিককে ফিরিয়ে নেওয়া। আর যে সকল ভাইপ্রীতি দেশ রোহিঙ্গাদের অস্ত্র কেনার জন্য টাকা দেয়, তারা যদি সে টাকা দিয়ে তাদের জন্য বিদ্যালয়, সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যয় করতো, তবে রোহিঙ্গাদের জীবন অনেকটা পাল্টে যেত!

আমাদের জনসংখ্যা এমনিতেই বেশি, তার উপর রোহিঙ্গারা দেশের জন্য ক্ষতিকর।  যারা তুর্কি নিয়া জয় গান করছে, তাদের জানা উচিত ইহুদিরাষ্ট্র ইসরাইলকে সর্বপ্রথম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল তুরস্ক 😉 মায়া কান্না কিংবা মুসলিম বিশ্বের মোড়ল হবার ধান্দায় আছে এরদোগান! যদি এতই দরদ হয় রোহিঙ্গাদের জন্য, তাহলে তুরস্কে প্রচুর যায়গা, চাইলেই সব সব রোহিঙ্গাদের নিয়ে যেতে পারে! যখন লক্ষ লক্ষ ‘মুসলিম’ সিরিয়ান শরণার্থী তুরস্কে আশ্রয় নিতে চেয়েছিল তখন তুরস্ক তার সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছিল। সেই তুরস্ক এখন রোহিঙ্গাদের জন্য লোক দেখানো কান্নাকাটি করছে। কারন একটাই, সিরিয়ান শরণার্থীদের আইএস জঙ্গি হবার যোগ্যতা নাই যা রোহিঙ্গাদের আছে।

রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় মূল সমাধান নয়! আন্তর্জাতিক ভাবে মিয়ানমারকে চাপ প্রয়োগ করা হোক! তারা যেন রোহিঙ্গাদের সে দেশের নাগরিকতা দেয়!

মানবতার জয় হোক।  রোহিঙ্গারা তাদের দেশে নিরাপদ থাকুক।  তারাও রক্তে মাংসে গড়া আমাদের মত মানুষ।  অপরাধীদের ব্রাশ ফায়ার করে মারা হোক, যারা  নিরাপরাধ, তাদের সে দেশের নাগরিকতা দিয়ে সব ধরনের সহায়তা দিক মিয়ানমার সরকার।

লেখক পরিচিতিঃ  ব্লগার, কলাম লেখক।

সামাজিক মাধ্যম ফেইসবুকে থেকে এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...

Ads

Recommended For You

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!