ইফতার পাওয়ার পর আনন্দে ভরা উজ্জ্বল মুখ আমাকে মুগ্ধ করেঃ সংঘনায়ক শুদ্ধানন্দ মহাথেরো

রাজধানীর কমলাপুর রেল স্টেশন সংলগ্ন বাসাবো এলাকায় অবস্থিত ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহার হতে এবছরও পয়লা রমজান থেকে হতদরিদ্র রাজাদার মুসলমানদের মধ্যে ইফতার বিতরণ শুরু হয়েছে।

গতকাল রোববার পয়লা রমজানে ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহারের মূল ফটকের বাইরে লোকজনের ভিড়। ফটকের ভেতরে অতীশ হলের সামনে ইফতার বিতরণের আয়োজন করা হয়।

বিকেল ৫টা ১৫ মিনিট থেকে ইফতার নিতে আসা মানুষের দীর্ঘ লাইন একজন করে আসছেন, মহাবিহারের অধ্যক্ষের হাত থেকে ইফতারির প্যাকেট নিচ্ছেন।

পুরো রমজান মাসজুড়ে চলবে এ কার্যক্রম। আশপাশের এলাকার অসহায়, দুস্থ্ রোজাদারদের মধ্যে প্রতিদিন এভাবে ইফতার বিতরণ করবে বিহার কর্তৃপক্ষ।

বৌদ্ধ বিহারে ইফতার নিতে আসা ব্যক্তিদের অধিকাংশই নারী। এখানে প্রতিদিন বিকেল ৫টা থেকে সাড়ে ৫টার মধ্যে ইফতার দেওয়া হয়। প্যাকেটে থাকে চপ, বেগুনি, পেঁয়াজু, ছোলা ভুনা, শাহি জিলাপি ও মুড়ি।

ইফতারি নেওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে আছেন ষাটোর্ধ বৃদ্ধা মমতাজ বেগম। তিনি  বাসাবোর মাণ্ডা এলাকায় থাকেন। তিনি বলেন, আমি প্রতিবছরই এখানে ইফতার নিতে আসি। এখান থেকে ইফতার নিতে আমার ভালো লাগে।

ইফতার নিতে বাসাবোর আহমেদাবাগ থেকে আসা বৃদ্ধা মহোরজান বেগম লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে বলেন, রোজা রেখে বিকেলে প্রতিদিন এখান থেকে ইফতার নিয়ে যাই। ৫ বছর ধরে নিচ্ছি। খুব ভালো লাগে। প্রাণটা ভরে যায়।

সালেহা খাতুন বলেন, আমরা গরিব মানুষ, আমাগোরে ইফতার দেয়। দিন শেষে এটা অনেক আনন্দের।

ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহারের অধ্যক্ষ ও বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের সভাপতি সংঘনায়ক শুদ্ধানন্দ মহাথের বলেন,১৬ বছর ধরে নিজ হাতে ইফতার দেই। গত বছর ১৩ লাখ টাকার ইফতার দিয়েছি। এবছর প্রথম রোজাতেই ১ লাখ টাকার ইফতার দিচ্ছি।

তিনি বলেন, রোজাদাররা সারা দিন রোজা রাখেন। দিন শেষে ইফতার পাওয়ার পর তাদের আনন্দে ভরা উজ্জ্বল মুখ আমাকে মুগ্ধ করে। ভালো লাগে।

ইফতারি বিতরণের উদ্দেশ্য সম্পর্কে শুদ্ধানন্দ মহাথের বলেন, আমরা সবাই মানুষ। মানুষকে সহযোগিতা করার মাধ্যমে মানুষে-মানুষে বন্ধুত্ব ও প্রীতি বাড়বে। একে-অপরের প্রতি শ্রদ্ধা বাড়বে। সমাজ শান্ত হবে, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা থামবে। আমরা এক হব, ভালো থাকব, সুখে থাকব। আর সবার মধ্যে সুখ-শান্তি প্রতিষ্ঠা করাই আমাদের লক্ষ্য।

প্রসঙ্গত, ১৯৬০ সালে বিহারটি প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে এখানে সাতশোরও বেশি অনাথ শিশু আছে। বিহারই তাদের পড়াশোনা ও থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করে থাকে।

সামাজিক মাধ্যম ফেইসবুকে থেকে এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...

Ads

Recommended For You

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!