আওয়ামী সরকার ও সংখ্যালঘু

নশ্বর সুজয়ঃ বাংলাদেশের সংখ্যালঘুরা পুরুষপরম্পরা রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বরাবরই জাতিরপিতার আদর্শে গঠিত আওয়ামীলীগ দলটিকেই অগ্রাধিকারে রাখে। আমরাও ছোটকাল থেকে বড়দের মুখে মুখে আওয়ামীলীগ সরকারের প্রশংসা শুনে প্রীত হতাম। কেন জানি তারা বলত- আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে সংখ্যালঘুরা নিরাপদে থাকে। এরা সংখ্যালঘু হিন্দু বৌদ্ধদের পাশে থাকে। যেকোনো বিষয়ে সংখ্যালঘুরা মূল্যায়িত হয়। এমন ধারণা শুধু আমার একার নয়, বাংলাদেশ ৯৯% হিন্দু বৌদ্ধ এমন চিন্তায় বিশ্বাসী। তাই বিএনপি সহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল নির্দ্ধিধায় ধরে নিল , হিন্দু বৌদ্ধ সংখ্যালঘু মানেই আওয়ামীলীগের নির্ধারিত ভোট।

কিন্তু নীতিগত বিপত্তির কারণে আওয়ামীলীগ সরকার সংখ্যালঘুদের সেই বিশ্বাস আস্থা অক্ষত রাখতে বরাবরই ব্যর্থ মনে হচ্ছে। স্বাধীনতার পর থেকে আজ অবদি নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে দেখলে পরিস্কার বুঝা যায়- সংখ্যালঘুরাই আওয়ামীলীগের অধীনে সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের স্বীকার হচ্ছে। আওয়ামী সরকারই সংখ্যালঘু নিধনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে এবং সংখ্যালঘু বিষয়ে বড় বড় নানা অপরাধের সৃজনও করেছে আওয়ামীলীগ যা আজ অবদি সমাধান না হওয়ার পথে। বরং সংখ্যালঘু নিধন নির্যাতনে উৎসও যুগীয়েছেন আওয়ামী সরকার। কোনো একটি অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক সমাধানও আওয়ামী সরকার করে দেখাতে পারেনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আবুল বারকাত এর মতে, ১৯৪৭ সালের দেশ ভাগের পর প্রতিদিন গড়ে ৬৩২ জন হিন্দু ধর্মাবলম্বী দেশ ছাড়ছেন। ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে -৯৮ জন সংখ্যালঘু হত্যা করা হয়েছে , ১০০৯ জনকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে, ১৮ জনকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে, ২৬টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, ২২জন নিখোঁজ রয়েছেন , ২০৯টি প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়েছে, ৩৬৬টি মন্দিরে পূজা বন্ধ করা হয়েছে , ৩৮ জনকে অপহরণ করা হয়েছে, ৩৫৭ জনকে জখম করা হয়েছে, ৯৯জনকে চাঁদাবাজি-মারধর ও আটকে রেখে নির্যাতন, ১৬৫টি লুটপাটের ঘটনা , ১৩টি বসতঘর-ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা হয়েছে, ৮৬টি সম্পত্তি দখলের ঘটনা ঘটেছে, ৬১টি ভূমি দখল, ২১০টি উচ্ছেদে ঘটনা ঘটেছে, ৩২৬টি উচ্ছেদের তৎপরতার ঘটনা ঘটেছে, ৩৪৩১টি উচ্ছেদের হুমকি, ৭১১টি দেশ ত্যাগের হুমকি, ১৪১টি মন্দিরে হামলা, ভাঙচুর, চুরি ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে, ২,৩২৮ বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, চুরি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে , জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত বা ধর্মান্তরকরণের চেষ্টা এক হাজার ২৫১টি। সব মিলিয়ে চলতি বছর ১৫ হাজার ৫৪টি নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে।

১৯৭১ সালের মানবতা বিরোধী অপরাধের শাস্তি বিঘ্নিত করার জন্য সংখ্যালঘুদের উপর হামলা, ধর্ষন, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, হত্যা, মন্দির-প্রতিমা ভাঙচুর সবই। যা ছিলো ১৯৭১ সালের অনুকরণেই সংখ্যালঘু হিন্দু বৌদ্ধ নিধন।

তারপরও সংখ্যালঘুরা স্বস্তির দৃষ্টিতে চেয়ে থাকে আওয়ামী সরকার এদের পাশে আছে।
আদো কি তাই!

সামাজিক মাধ্যম ফেইসবুকে থেকে এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...

Ads

Recommended For You

1 Comment

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!