অস্বস্তির ম্যাচ ভেসে গেল বৃষ্টিতে

টসটা হয়ে যায় ঠিকঠাক। ঠিক পরপরই ইলশেগুঁড়ি বৃষ্টি ডাবলিনের ম্যালাহাইডে। যে কারণে নির্দিষ্ট সময়ের মিনিট পঁচিশেক পর শুরু কাল বাংলাদেশ-আয়ারল্যান্ড ম্যাচ। সকালের সূর্য সব সময় দিনের পূর্বাভাস দেয় না সত্যি। তবে কাল সকালের ‘বৃষ্টি’তে লেখা পূর্বাভাস তো ফলে যায় সময়ে। যে কারণে বাংলাদেশের ইনিংসের মাঝপথে আবার বন্ধ খেলা। এরপর আর ম্যাচ শুরু করা যায়নি। ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচটি হয়ে যায় পণ্ড।

বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ হওয়ার সময় ৩১.১ ওভারে চার উইকেটে ১৫৭ রান ছিল সাকিব আল হাসানের দলের। হ্যাঁ, দলটি সাকিবেরই। ধীরগতির ওভাররেটের কারণে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞায় কাল খেলেননি নিয়মিত অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজাই। তাঁর কাছ থেকে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের হাতে নেতৃত্ব ওঠাটা প্রত্যাশিত। তবে একেবারেই অপ্রত্যাশিত বাংলাদেশের ব্যাটিং গ্রাফ ‘নেমে’ যাওয়া। প্রস্তুতি ম্যাচের সঙ্গে কালকের দলটির ব্যাটিংয়ে যে আকাশ-পাতাল তফাত!

সাত উইকেটে ৩৪৫, ৯ উইকেটে ৩১৪, সাত উইকেটে ৩৯৪—ত্রিদেশীয় সিরিজের আগের গা গরমের তিন ম্যাচে বাংলাদেশের স্কোর। না হয় দলগুলো তেমন শক্তিশালী নয়। ডিউক অব নরফোক একাদশ, সাসেক্সের দ্বিতীয় একাদশ এবং আয়ারল্যান্ড ‘এ’ দল। তবু টানা তিন ম্যাচে তিনশোর্ধ্ব রান করলে আত্মবিশ্বাসের পারদটা তো চড়াতেই থাকার কথা। কে জানে সেই অতি আত্মবিশ্বাসেই কাল কাটা পড়ল কিনা সফরকারীদের টপ অর্ডার!

আয়ারল্যান্ডের মতো দলের মুখোমুখি হলে এখন এক অদ্ভুত সমস্যায় ভোগে বাংলাদেশ। জিতলে খুব বেশি হাততালি পাওয়া যাবে না, কিন্তু হারলে বরাদ্দ বিস্তর গালাগালি। ঠিক যেন ফুটবলের পেনাল্টি শট নেওয়ার মতো! এই সিরিজের আবহে বাংলাদেশের সামনে ছিল ভিন্ন এক অর্জনের হাতছানি। আয়ারল্যান্ড-নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চার ম্যাচের তিনটিতে জিতলে আইসিসি ওয়ানডে র‍্যাংকিংয়ে শ্রীলঙ্কাকে টপকে ছয়ে ওঠার সুযোগ। সে পথচলার শুরুটা হয় ভুলে যাওয়ার মতো। ভাগ্যিস, পরে তামিম ইকবাল ও মাহমুদ উল্লাহর জুটিতে কক্ষপথে ফেরার সুযোগ পায় বাংলাদেশ।

সাতসকালে টস জিতে আইরিশ অধিনায়ক উইলিয়াম পোর্টারফিল্ড বেছে নেন বোলিং। নেবেন না কেন? মাঠের সবুজ উইকেট, আকাশে মেঘদল। আর পিচ-কন্ডিশনের সুবিধাও তাঁর বোলাররা কাজে লাগান দারুণভাবে। অবশ্যই তা বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের সহায়তায়। সৌম্য সরকারের কথাই ধরুন। পিটার চেসের শর্ট বলটিকে তেড়েফুঁড়ে মারার প্রয়োজন ছিল কী? অপ্রয়োজনীর সেই শটের পরিণতি, ব্যাটের কানায় লেগে উঠে যাওয়া বলে উইকেটরক্ষক নিয়াল ও’ব্রায়েনের গ্লাভসবন্দি হওয়া সৌম্যর (৫)। সর্বশেষ প্রস্তুতি ম্যাচে সেঞ্চুরির ঝকঝকে আত্মবিশ্বাস নিয়ে এরপর ক্রিজে এলেন সাব্বির রহমান। যত দ্রুত এলেন, ফিরে গেলেন যেন এর চেয়েও তড়িঘড়ি করে। মুখোমুখি তৃতীয় বলে রানের খাতা খোলার আগেই বাজে এক শটে থার্ডম্যানে ক্যাচ দিয়ে তাঁর আত্মাহুতি। চতুর্থ ওভারে ৯ রানে দুই উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের তখন দিশাহীন অবস্থা।

টালমাতাল সেই তরণীতে কিছুটা স্থিতি দেন তামিম ও মুশফিকুর রহিম। এরপর আচমকা আরেক উল্টো ঢেউ। এবার মুশফিক (১৩) আউট প্রথম স্লিপে ক্যাচ দিয়ে। ক্রিজে এলেন সাকিব। মাশরাফির বদলে অধিনায়কত্ব করলে কী হবে, দায়িত্ববোধ কথাটি তো আর তাঁর সঙ্গে জুড়ে দেওয়া চলে না। সেটির আরেক প্রস্ত প্রমাণে টানা দুই চার মারার পর অফ স্টাম্পের বাইরের বল তাড়া করতে গিয়ে সাকিব ক্যাচ দিলেন উইকেটরক্ষকের হাতে। ১৬ বলে ১৪ রান করে দায়িত্ব শেষ ভারপ্রাপ্ত অধিনায়কের।

দারুণ দায়িত্বশীল ব্যাটিং বরং কাল করেন তামিম। এই যে এক প্রান্তে সতীর্থদের আসা-যাওয়ার মিছিল, অন্য প্রান্তে তিনি স্থির অবিচল। উইকেট-কন্ডিশন-ম্যাচ পরিস্থিতির দাবি মিটিয়ে ৮৮ বলে অপরাজিত থাকেন ৬৪ রানে। আর সময়মতো যোগ্য সঙ্গ পান মাহমুদ উল্লাহর (৫৬ বলে ৪৩*) কাছ থেকে। সাকিবের আউটে ১৫ ওভারের মধ্যেই ৭০ রানে চার উইকেট হারিয়ে বসে বাংলাদেশ। এরপর তামিম-মাহমুদের ১৬.২ ওভারে অবিচ্ছিন্ন ৮৭ রানের জুটিতে অস্বস্তির চোরাবালি থেকে কিছুটা বেরিয়ে আসে দল।

৩১.১ ওভারে চার উইকেটে ১৫৭ রান তো শুরুর বিবেচনায় মন্দ না! তবে তা জয়ের জন্য যথেষ্ট কি না, সে পরীক্ষাটা হলো না বৃষ্টির বাগড়ায়।

সামাজিক মাধ্যম ফেইসবুকে থেকে এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...

Ads

Recommended For You

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!