অপরাধীদের কেউ প্রশ্রয় দেবেন না

দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি দৃশ্যত আরো খারাপ হচ্ছে। গাজীপুরে মেয়েসহ এক বাবার ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার ঘটনা, রাজধানীতে দুই তরুণীকে হোটেলে নিয়ে গণধর্ষণ ও এরপর মামলা গ্রহণে পুলিশের উদাসীনতার মতো ঘটনায় মানুষ উদ্বিগ্ন। একটি সমাজে অপরাধীরা রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক ছত্রচ্ছায়া পেলে সাধারণ মানুষ কার কাছে যাবে? অপরাধীদের গ্রেপ্তারে পক্ষপাত সমাজকে ভয়াবহতার দিকে ঠেলে দেবে। কালের কণ্ঠ’র পাঠকরা ফোন ও ই-মেইলে এমন অভিমত ব্যক্ত করেছেন

 

► আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে প্রয়োজন সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও পারস্পরিক সহযোগিতা। তবে সবচেয়ে বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে সরকারি দলকে। দলীয় ক্যাডারদের কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। ন্যায়ের প্রশ্নে কারো সঙ্গে ন্যূনতম আপস ও সমঝোতা করা যাবে না। প্রশাসনকে পুরোপুরি নিরপেক্ষতার পরিচয় দিতে হবে। আর বিরোধী দলকেও যথেষ্ট দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। তবেই আমরা একটি সুন্দর বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখতে পারি।

 নৌশিন নাওয়াল সুনম

বাবুপাড়া, বিমানবন্দর সড়ক, ঈশ্বরদী, পাবনা।

 

► স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে আরো কঠোর হতে হবে। আইন প্রয়োগে নিরপেক্ষতা অপরিহার্য। সৎ, সাহসী, যোগ্য, দক্ষ ও নিরপেক্ষ কর্মকর্তাদের আইন-শৃঙ্খলা বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দিতে হবে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে সরকারের দলীয় প্রভাবমুক্ত করতে হবে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে সরকারবিরোধী শক্তিকে দমন, নিপীড়ন করতে উৎসাহিত না করে আইনের যথাযথ প্রয়োগে সর্বোচ্চ উৎসাহিত করা কর্তব্য ও আবশ্যক। নিরীহ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হয় তা লক্ষ রাখতে হবে। প্রকৃত অপরাধীদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

এস এম ছাইফুল্লাহ খালেদ

কুতুবদিয়া, কক্সবাজার।

 

► সব দুর্ঘটনা, অপরাধের প্রতিবাদ করতে হবে ভয়ভীতির ঊর্ধ্বে থেকে। আব্রাহাম লিংকন যুক্তরাষ্ট্রের মানুষকে বলেছিলেন, প্রত্যেক মানুষকে পুলিশের ভূমিকায় থাকতে হবে। এ লক্ষ্যে আমাদেরও সচেতনতা বাড়াতে হবে। তৃণমূল পর্যায়ে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা বাড়াতে হবে। এ জন্য পাঠ্য বইয়ে বিশেষ পাঠ সংযোজন করা যেতে পারে। বিচার বিলম্বিত হলে আইনের শাসনের প্রতি মানুষের আস্থা কমে যায়। অপরাধের বিচার হতে হবে দ্রুত। এ জন্য আদালত ও বিচারকের সংখ্যা বাড়ানো উচিত প্রয়োজন অনুসারে। বলা হয়, পুলিশ মানুষের বন্ধু। অথচ কিছু পুলিশ সদস্য আতঙ্কের কারণ হচ্ছেন আমাদের। রাজনৈতিক হস্তক্ষেপও পুলিশকে দায়িত্ব পালন করতে দেয় না অনেক সময়। রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন বন্ধ না হলে আইনের শাসনও প্রতিষ্ঠা পাবে না। উন্নয়নের সঙ্গে আইনের শাসনের সম্পর্কটি সরাসরি। দুর্নীতির শিকড় উপড়াতে না পারলে সমাজ, অর্থনীতি, রাজনীতি কোনো কিছুরই মান অর্জন হবে না।

হুমায়ুন কবির বাবু

দক্ষিণ বানিয়াগাতি, বেলকুচি, সিরাজগঞ্জ।

 

► আইন ও শৃঙ্খলা দুটি শব্দই সাধারণ। তবে এর ব্যবহারিক অর্থ অসাধারণ। এই অসাধারণ মান অর্জন করতে হলে সদিচ্ছা, সচেতনতাবোধ, দেশপ্রেম, সৎ নেতৃত্ব দরকার। রাতারাতি পরিবর্তন তাই অসম্ভব। কাজটি একই কারণে সহজও না। রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আনতে হবে। দলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্য দিতে হবে। রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তনের জন্য হাইব্রিড, সুবিধাবাদীদের থেকে সাবধান থাকতে হবে। এ ছাড়া আইন, বিচার ও প্রচারমাধ্যমকে সঠিক পথে থাকতে হবে।

আসাদুল্লাহ মুক্তা

মহেশপুর, উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ।

 

► আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও সহনীয় পর্যায়ে রাখার জন্য সর্বাগ্রে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও রাজনৈতিক সরকারের সদিচ্ছা একান্ত প্রয়োজন। দেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে, এটা না মেনে উপায় নেই। এমন কোনো দিন নেই, যেদিন পত্রপত্রিকায় একাধিক অপরাধ তৎপরতার খবর থাকে না। বলা হয়ে থাকে, রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে দুর্বৃত্তরা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটিয়ে থাকে। কিন্তু এখন তো দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা নেই। নেই অচলাবস্থা বা অনিশ্চয়তা। তাহলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে কেন। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ভাবতে হবে। এর পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার কাজে নিয়োজিত বাহিনীকে তাদের মতো করে কাজ করার স্বাধীনতা দিতে হবে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয় এই অপবাদ এখন পর্যন্ত ঘোচানো গেল না। জোর মনিটরিং নেই। দুর্বল তদন্ত প্রতিবেদনের কথা তো হরহামেশাই শোনা যায়। এসব থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাবে না।

জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধান এবং দেশের শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা করা আধুনিক কল্যাণ রাষ্ট্রের প্রধান ও পূর্বশর্ত। কিন্তু দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বহু দেশসহ বাংলাদেশেও এই প্রধান ও পূর্বশর্ত পালনে বিভিন্ন কারণে রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতা পরিলক্ষিত হয়। আধুনিক পৃথিবীর অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের দেশে জনসংখ্যার অনুপাতে পুলিশের সদস্য সংখ্যার স্বল্পতা দেশে আইন-শৃঙ্খলার অবনতির অন্যতম একটি কারণ বলে বহু আগ থেকেই সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা অভিমত প্রকাশ করে আসছেন। চিহ্নিত ও দুর্ধর্ষ অপরাধীরা গ্রেপ্তারের পর আইনের ফাঁকফোকর গলিয়ে জামিনে বেরিয়ে আবার অপরাধে জড়িয়ে পড়া এবং বিচারকাজের দীর্ঘসূত্রতা আইন-শৃঙ্খলার অবনতিতে কিছুটা যে প্রভাব ফেলে তা অস্বীকার করার জো নেই। তা ছাড়া রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সন্ধিক্ষণে বিভিন্ন ক্যাডার বাহিনীর চার্জ হ্যান্ড ওভার এবং টেক ওভারে রক্তের হোলিখেলা অনিবার্য হয়ে ওঠে। উন্নত বিশ্বের মতো অপরাধের তারতম্য বিচার করে দক্ষ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রত্ত্যুৎপন্নমতিসম্পন্ন বিচারকের মাধ্যমে দ্রুত ও তাত্ক্ষণিক বিচারের মাধ্যমে নিষ্পত্তির পদক্ষেপ নেওয়াসহ বর্ণিত সমস্যাগুলোর উপযুক্ত সমাধান করে রাতারাতি আইন-শৃঙ্খলার উন্নতি সাধন সম্ভব।

এস এম সাইদুর রহমান উলু

ঈশ্বরদী, পাবনা।

 

► স্বাধীন বিচারব্যবস্থার প্রয়োজন সব কিছুর আগে। বিচার সরকারি হস্তক্ষেপমুক্ত ও রাজনীতির প্রভাবমুক্ত থাকলে এবং গণমানুষের নৈতিক চরিত্র সমুন্নত থাকলে আইনের শাসন সহজ হয়। আবার আইন করেও সব পরিবর্তন সাধন সম্ভব নয়। আইনের যথাযথ প্রয়োগে প্রশাসন থাকবে রাজনীতি ও দলীয় প্রভাবমুক্ত। বনানীতে দুই তরুণীর গণধর্ষণের বিচারের কথাই যদি বলি, রাজনীতির প্রভাবমুক্ত না থাকলে পুলিশ কি নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালন করতে পারবে? আমাদের স্বাধীন বিচারব্যবস্থা থেকে সাধারণ মানুষ তখনই ন্যায়বিচার পাবে, যখন বিচার হবে প্রভাবমুক্ত।

নিমাই কৃষ্ণ সেন

মেইন রোড, বাগেরহাট।

 

► আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরো সক্রিয় হতে হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী খুবই ভালো। এর পরও তাঁকে আরো কঠোর হতে অনুরোধ করব। তখন আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সহনীয় থাকবে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি অনেক দেশেই হয়, কিন্তু আমাদের দেশে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে চলে যায়।

শিবু প্রসাদ মজুমদার

লেকসার্কাস, কলাবাগান, ঢাকা।

 

► বিচারব্যবস্থায় পরিবর্তন এনে দ্রুত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তবেই স্বস্তি ফিরে আসবে। আইন আছে, আইনের প্রয়োগ নেই। এই অবস্থায় আইন-শৃঙ্খলার অবনতি হতে বাধ্য।

রানী ইশানকা দাস

কুলিয়ার চর, কিশোরগঞ্জ।

 

► আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির পরিবর্তন হচ্ছে বলে তো মনে হয় না, বরং অবনতি হচ্ছে। নতুন করে কৌশল বের করে অপরাধীরা অপরাধ করে, আর আমরা তাদের কাছে অসহায়ভাবে আত্মসমর্পণ করি। এমনকি আইনের লোকজনও অনেক অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে। তারা অনেক সময় অপরাধীদের বাঁচিয়ে দিয়ে নিরপরাধ ব্যক্তিদের আসামি করছে টাকার বিনিময়ে। টাকাওয়ালারা অপরাধ করেও পার পেয়ে যাচ্ছে। ধর্ষণের মতো অপরাধেও তারা অপরাধীর পক্ষ নিচ্ছে, ধর্ষিতা মেয়েদের বলছে, আপনারাই খারাপ, টাকার জন্য বড় লোকের ছেলেদের ফাঁসাচ্ছেন। আইন প্রণেতারা, আইন প্রয়োগকারীরা আইন ভঙ্গ করেন, আমরা কোথায় যাব? আইনের শাসন থাকলে এমন অবস্থা হতো না। নীতিনির্ধারকরা কঠোর অবস্থান নিলে আইন লঙ্ঘনের এমন বেপরোয়া পরিস্থিতি তৈরি হতো না। যেভাবে নিষ্ঠুরতা, সহিংসতা বাড়ছে, সেভাবে বিচার হচ্ছে না। একের পর এক হত্যা, খুন ঘটছে; কিন্তু তাদের কোনো শাস্তি হচ্ছে না। বড় বড় অপরাধ করে রাজনৈতিক দলের ছত্রচ্ছায়ায় অপরাধীরা আশ্রয় নিচ্ছে। আগে নিজেদের দেশের মধ্যে অপরাধ করত, এখন দেশের বাইরে গিয়েও অপরাধের কলকাঠি নাড়ছে। অপরাধীরা পুলিশের হেফাজতে থেকেও পালিয়ে যাচ্ছে। সরকারের উচিত, সব অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা ও যথাযথ শাস্তি দেওয়া। অপরাধীদের যদি দ্রুত শাস্তি দেওয়া হয়, তাহলে অপরাধপ্রবণতা কমবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

সাবিনা সিদ্দিকী শিবা

ফতুল্লা, নারায়ণগঞ্জ।

 

► একটি রাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নির্ভর করে মূলত পুলিশ বাহিনীর ওপর। পুলিশ বাহিনীর উন্নতির জন্য তাদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে, রাজনৈতিকভাবে তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করা যাবে না, তাদের মূল বেতন, বিভিন্ন পারিতোষিক অন্যান্য পেশার চেয়ে বেশি হতে হবে। এ ছাড়া মাঝেমধ্যে তাদের মধ্যে শুদ্ধি অভিযান চালাতে হবে। সর্বোপরি জনসংখ্যা অনুপাতে পুলিশ বাহিনীর সদস্য সংখ্যা আরো বাড়াতে হবে এবং সম্ভব হলে থানাকেন্দ্রিক পাড়া-গ্রাম ও এলাকা-মহল্লাভিত্তিক পুলিশ ক্যাম্প বা ফাঁড়ি স্থাপন করতে হবে। অর্থাৎ সাধারণ মানুষ যাতে পুলিশকে সব সময় কাছে পায় সে ব্যবস্থা করতে হবে।

হুমায়ুন কবির

হাজারীবাগ, ঢাকা।

 

► পুলিশ বিভাগের কিছু সদস্য সাধারণ জনগণের সঙ্গে যেসব আচরণ করেন, তা দেখে সত্যি লজ্জায় পড়তে হয়। আইন সবার জন্য সমান হলেও পুলিশ ডিপার্টমেন্টের কিছু সদস্য কেন নিজেদের বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়াবেন? তাঁদের জন্যও আইন থাকতে হবে। দেশের প্রতি এবং একে অন্যের প্রতি সব দিক থেকে আন্তরিক টান না থাকলে আমরা উন্নতি করতে পারব না। পুলিশ বিভাগে চাকরিরত বেপরোয়া সদস্য জনগণের বন্ধু হতে পারেন না। আবার মাত্র কয়েকজন পুলিশ সদস্যের অন্যায় আচরণের কারণে পুরো বাহিনীকে দোষারোপ করা যায় না। এ জন্য এ বিভাগের প্রতিও নজরদারি বাড়াতে হবে। প্রতিটি বিভাগ, জেলা ও থানা পর্যায়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বেপরোয়া পুলিশ সদস্যদের সতর্ক ও চাকরিচ্যুত করতে পারবেন। এমন বা এ ধরনের কিছু আইন করা যেতে পারে। মনে রাখতে হবে, দেশের মানুষের তাঁদের ওপর আস্থা অনেক। তাই তাঁরা যেন সর্বদা জনগণের বন্ধু থাকেন—এ চেষ্টা তাঁদের করতে হবে।

ইয়াছিন খন্দকার লোভা

সিলোনিয়া বাজার, দাগনভূঞা, ফেনী।

সামাজিক মাধ্যম ফেইসবুকে থেকে এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...

Ads

Recommended For You

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!